নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » নেতাকর্মীদের তোপের মুখে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা

নেতাকর্মীদের তোপের মুখে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা

pic-31_26157রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিবাচনত্তোর পর্যালোচনা সভায় নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন একাধিক নেতা। এসময় কর্মীদের হাতে নাজেহাল হয়েছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য অভিলাষ তঞ্চঙ্গ্যা,তাকে কিল ঘুষি মারে নেতাকর্মীরা। এসময় তারা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার দিকেও চেয়ার ছুঁড়ে মারে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতা। এসময় ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন জেলা পরিষদ সদস্য বৃষকেতু চাকমা,শামীম রশীদ এবং খোদ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। উত্তেজিত নেতাকর্মীদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন দীপংকর তালুকদারও। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এবং পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,সদস্য এবং নেতারা পুলিশী নিরাপত্তায় অফিস ত্যাগ করেন।

ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,সদস্যরা এবং দলের কিছু সিনিয়র নেতা আন্তরিকভাবে কাজ না করায় এবং জেলা পরিষদের বরাদ্ধ সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হওয়ায় ভোটবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন।

তারা জেলা পরিষদের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বলে দাবি করতে থাকেন। এসময় পুরো আওয়ামী লীগ অফিসে চিৎকার চেঁচামেচি,হৈ হুল্লার ঘটনা ঘটে।

এর আগে নির্বাচন বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন পর্যালোচনার এই সভায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন,আমরা এখনো ক্ষমতায় আছি,হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবেই। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামাীর যেকোন সংকট মোকাবেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন,আওয়ামী লীগের ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস,সুতরাং হাল ছেড়ে দেয়ার কিছুই নেই। তিনি নির্বাচনে তার জন্য কাজ করায় নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রসঙ্গত,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার নানিয়ারচর ও তিন সদস্য অভিলাষ তঞ্চঙ্গ্যার বিলাইছড়ি,বৃষকেতু চাকমার বাঘাইছড়ি এবং শামীম রশীদের সদর উপজেলায় নৌকা প্রতীক কম ভোট পাওয়ায় পরাজিত হয়েছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের। এর মধ্যে সবচে কম ভোট মিলেছে বিলাইছড়ি ও জুড়াছড়ি উপজেলায়।

রাঙামাটির কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন,আওয়ামী লীগ অফিসে কর্মীদের সাথে নেতাদের কিছু বাকবিতন্ডা ও ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে তারা আমাদের সহযোগিতা চাওয়ায় আমরা এসেছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত। সম্ভবত নির্বাচন নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করা হচ্ছে। আমরা অফিসের ভেতরে ঢুকিনি,সেখানে চিৎকার চেঁচামেছি শুনেছি।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন,আমাদের একটি সভা ছিলো,সেখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে,তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। এটা আমরা নিজেরাই সমাধান করেছি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

২ comments

  1. আমার মনে হয় এ বিষয়টিতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মন্তব্যের প্রয়োজন ছিল। কারো কোন বিষয় নিয়ে কিছূ লেখার আগে পক্ষ ও প্রতিপক্ষের মন্তব্য প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।
    মন্তব্য লেখার সুযোগ রাখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  2. লিটন, চেয়ারম্যানের বক্তব্য প্রয়োজন হতো যদি তার উপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে তাকে,এমন কথা লিখা হতো….যেহেতু তাকে এমন কিছু করার কথা আমাদের রিপোর্টার লিখেনি,তাই তার বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক। আর ঘটনাস্থল যেহেতু আওয়ামী লীগ অফিস,তাই দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য আছে রিপোর্টে,আছে পুলিশের বক্তব্যও। আর চেয়ারম্যান মহোদয়ের বক্তব্যের কারণেই যে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে,তাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি চেয়ারম্যান পদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েই, তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহতদের নামও নেই রিপোর্টে…..এমনকি সেখানে ঘটা আর কিছু ঘটনাও আমাদের রিপোর্টে নেই শুধুমাত্র ‘ইথিকেল’ কারণেই……………………….আর রিপোর্টে তো কোন পক্ষের বক্তব্যই নেই,আছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান আর সংরক্ষিত আছে মোবাইলের অডিও-ভিডিও রেকর্ড !……..
    তোমার প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ……শুধু মনে রেখো,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বা সদস্যদের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কোন ক্ষোভ নেই, তিনি আমাদের সবার চেয়ারম্যান……..কিন্তু পেশাগত জায়গায় আমরা কখনই আপোষ করিনি,করবোওনা……….

Leave a Reply

%d bloggers like this: