নীড় পাতা » ছবি » নৃত্য আর অভিনয়’ই মঞ্জুর জীবন

নৃত্য আর অভিনয়’ই মঞ্জুর জীবন

Manju-02

পারিবারিক সমর্থন ছিলোনা কখনই,ছিলোনা স্বজনদের ন্যুনতম উৎসাহ বা সহযোগিতাও। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর নৃত্যের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসাই মজ্ঞুকে নিয়ে গেছে মফস্বল থেকে থেকে জাতীয় পর্যায়ে। নিজের মেধা আর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে বারবার ছিনিয়ে এনেছেন জাতীয় পর্যায়ে প্রদান করা অসংখ্য পুরষ্কারও।

সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মনজুরুল আলম মঞ্জু লোক নৃত্য ও একক অভিনয়ে ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে মুখ উজ্জ্বল করেছে রাঙামাটিবাসীর। এর আগেও একই প্রতিযোগিতায় আরো দু’বার ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছিলো মঞ্জু।

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক এর কাছ থেকে পুরষ্কার নিলেও এর আগেরবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হাত থেকে পুরষ্কার নেয়ার  স্মৃতি এখনো চোখে ভাসে মঞ্জুর। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেও ভুললেন না ।

শিল্পের প্রতি অগাধ ভালোবাসা মঞ্জুকে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতিও। রাঙামাটি শহরের শিল্প সাহিত্যাঙ্গনের সকলের চেনা প্রিয় মুখ মঞ্জু। যেকোন রাষ্ট্রীয় বা স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্জুর উপস্থিতি যেনো অপরিহার্যই।

পাহাড়ী শহর রাঙামাটিতে জন্ম ও বেড়ে উঠা মঞ্জু ১৯৮৮ সালের ১৫ মার্চ শহরের রাজবাড়ী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই আর দুই বোনের সে সবার ছোট। বাবা মফজল আহমদ ব্যবসায়ী আর মা জাহানারা বেগম থাকেন ঘরসংসার নিয়েই।

নাচের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেয়ার সুযোগ পায়নি মঞ্জু। তবুও তার প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কয়েকজন গুনী শিক্ষকের সহযোগিতায় নৃত্য আর অভিনয় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তিনি।

নিজের চেষ্টায় লোকজ নৃত্য, সাধারণ নৃত্য, দেশাত্মকবোধক, একক অভিনয় আয়ত্ব করেছেন মঞ্জু। নৃত্য শিল্পী মোসাদ্দেক হোসেন কচি’র কাছ থেকে কত্থক নৃত্যের তালিম নেন। এছাড়াও নৃত্য শিল্পী মিলনের কাছ থেকে সাধারণ ও মুছার কাছ থেকে লোক নৃত্যের তালিম নেন। তবে প্রথম নাচের ক্ষেত্রে রাঙামাটির নৃত্য শিক্ষক হুমায়ুনই তার গুরু বলে জানান তিনি। আর অভিনয়ের হাতেখড়ি রাঙামাটির প্রয়াত অভিনয়শিল্পী রঞ্জিত কুমার মিত্রের হাত ধরেই,কৃতজ্ঞচিত্তেই জানালেন মঞ্জু।

১৯৯৯ সাল থেকে নিয়মিত নতুন কুড়িঁতে নাচের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন জানিয়ে মঞ্জু বলেন,২০০০ সালে রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার লাভ করি,সেই স্মৃতি এখন মনে দাগ কেটে আছে।

manju pic-1

নিজের আকাশসম স্বপ্নের পরিধির গল্প শোনাতে শোনাতে মঞ্জু বলে যান, এইসব এমন পুরস্কার প্রাপ্তির আনন্দ  আমাকে দ্বিগুন উৎসাহে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়। নিজের স্বপ্নের কথা জানান মঞ্জু- ‘ অভিনয় আর নৃত্যে নিয়ে যেতে চাই আরো বহুদুর।’
যে মঞ্জু একদিন তার শিল্প সাধনার জন্য পাননি পারিবারিক সমর্থন বা সহযোগিতা,সেই মঞ্জুই মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘জাহানারা শিল্পী গোষ্ঠি’ নামের একটি নাচ ও অভিনয়ের স্কুল। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই নৃত্য শিখেছে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী,যাদের অনেকেই পেয়েছেন জাতীয়ভাবে আয়োজিত নানান প্রতিযোগিতার পুরষ্কারও। প্রিয় দুই ছাত্রী সাদিয়া সেলিম বর্ণা আর ফারিয়া লারা বৃষ্টির সাফল্য আর অর্জনের কাহিনী শোনাতে শোনাতে গর্বে প্রসারিত বুকে মঞ্জু জানালেন, যেতে চাই বহুদূর। অভিনয় আর নৃত্যই তো আমার জীবন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

অতিরিক্ত চা পানে যত সমস্যা!

ক্লান্তি কাটাতে চা! তবে অতিরিক্ত চা পানে হতে পারে নানান সমস্যা। পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত …

Leave a Reply