নীড় পাতা » ব্রেকিং » নীরবে পার হয়ে যাওয়া একটি দিন

নীরবে পার হয়ে যাওয়া একটি দিন

sritistomboooসম্পূর্ণ নীরবে নিভৃতে পার হয়ে গেল স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ অংশগ্রহণকারী রাঙামাটি জেলার প্রথম মুক্তিযোদ্ধা দলের সাতজনের শাহাদাৎ বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল জেলা হতে ভারতে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম দলটি রাঙামাটি ফিরে আসার পর এই দিন রাঙামাটির ডিসি বাংলো ঘাটে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর হাতে সশস্ত্র অবস্থায় ধরা পড়ে ৯ মুক্তিযোদ্ধা। যার মধ্যে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাদের লাশ আর পাওয়া না গেলেও জনশ্রুতি আছে যে, তাদের হত্যা করার পর মানিকছড়ি অথবা আদার পাহাড় এর জঙ্গলে তাদের লাশ ফেলে দেয়া হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ওয়েব সাইটে রাঙামাটি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭১ সালে রাঙামাটি হতে ভারতে যাওয়া প্রথম মুক্তিযোদ্ধা দলটি ভারতে এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাপ্টেন আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে রামগড় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ১০ এপ্রিল। সেখানে ৪ দিন অবস্থানের পর তাঁরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মহালছড়ি হয়ে রাঙামাটি আসে ১৫ এপ্রিল। পাকহানাদার বাহিনী স্থানীয় কিছু বিশ্বাসঘাতকদের কাছ থেকে এই খবর পায়। ঐ দিন সন্ধ্যায় নদী পথে ডিসি বাংলো ঘাটে আসার পরপরই পাক সেনারা সশস্ত্র অবস্থায় তাদের আটক করে। ৯ সদস্যের এই দলে ছিলেন আব্দুল শুক্কুর, এসএম কামাল, শফিকুর রহমান, ইফতেকার, ইলিয়াছ, আব্দুল বারী, মোঃ মামুন ও আবুল কালাম আজাদ। আটক মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এদিন নৌকার মাঝির ভূমিকা নিয়ে আবুল কালাম আজাদ এবং কৌশলে আব্দুল বারী বেঁচে গেলেও ৭ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

এদিকে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও আজো এই দুঃখবহ ঘটনার শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে তেমন কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। শহীদ আব্দুল শুক্কুরের নামে একটি ছোট প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হয় এবং ১৯৭২ সালে তাঁর নামে শহীদ আব্দুস শুক্কুর এ্যাথলেটিক্স ক্লাব স্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ক্লাবটি পাকাকরণ করা হয়। ২০১৩ সালে শহীদ শুক্কুরের নামে নামকরণ হয় রাঙামাটির পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠের। তাঁর স্মরণে তবলছড়ি এলাকার তাঁর আবাসস্থলের সড়কে নামকরণ করা হয় শহীদ আব্দুস শুক্কুর সড়ক নামে।

তবে একমাত্র শহীদ শুক্কুর ছাড়া সেদিনের ঘটনায় শাহাদাৎ বরণকারী অপর ৬ শহীদের স্মৃতি রক্ষায় এখন অবধি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কিংবা সরকারি কলেজেও তাদের স্মৃতি রক্ষায় গ্রহণ করা হয়নি কোনো উদ্যোগ। নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ ছেলেমেয়েরা জানে না এই ৭ বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বময় ইতিহাসের কথা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

Leave a Reply