নীড় পাতা » বান্দরবান » নীরবে উজাড় সাঙ্গু সংরক্ষিত বন

নীরবে উজাড় সাঙ্গু সংরক্ষিত বন

বান্দরবানের থানচি উপজেলাতে সাঙ্গু সংরক্ষিত সরকারী বনাঞ্চল (রিজার্ভ ফরেষ্ট) উজাড়ে ব্যস্ত কাঠ চোরাকারবারীরা। জোত পারমিটের আড়ালে বনবিভাগের কর্তাব্যক্তিদের যোগসাজসে পাচার হচ্ছে কর্তন নিষিদ্ধ চাম্পাফুল কাঠ। প্রকাশ্যে অবৈধভাবে সরকারী রিজার্ভ ফরেষ্টের শত বছরের পুরনো মাদার ট্রি খ্যাত চম্পাফুল, গর্জন’সহ মুল্যবান প্রজাতির বৃক্ষ কর্তন চলছেই।

পাড়া কার্বারী ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ছয়মাস ধরে দফায় দফায় থানচি উপজেলার দূর্গম নারিচঝিরি, পদ্ধঝিরি, আন্ধারমানিক, বড়মদক, ছোটমদক, ইয়াংরি পাড়া, বড় শৈফক্ষ্যং ঝিরি, দুংড়–ংঝিড়ি, লুংচৈঝিড়ি, ইয়াংরের কুম এলাকাগুলোতে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে সাঙ্গু সংরক্ষিত সরকারী বনাঞ্চলের (রিজার্ভ ফরেষ্ট) শত বছরের পুরনো মাদার ট্রি নামে পরিচিত চম্পাফুল, গজর্ন’সহ মূল্যবান বৃক্ষ কর্তন করা হচ্ছে। রিজার্ভ ফরেষ্ট এলাকা পরিদর্শকালে স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরায় শত বছরের পুরনো মাদার ট্রি কর্তনের দৃশ্যগুলো চোখে পড়ে। স্থানীয় পাহাড়ী নেতা সংখ্যচিং ও উবামং এবং রেমাক্রি ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই’সহ আরো কয়েকজনের সহায়তায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শ্রমিকদের দিয়ে রিজার্ভ ফরেষ্টের মাদারট্রি সাইজের গাছগুলো নির্বিচারে কাটছে কাঠ চোরাকারবারীরা। বনবিভাগ’সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাগুলোর কর্তাব্যক্তিদের যোগসাজসে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীরা জোত পারমিটের আড়ালে রিজার্ভ ফরেষ্টের গাছগুলো কর্তন করে কাঠের রদ্দা হিসেবে পাচার করে চলেছে। সরকারী রিজার্ভ ফরেষ্টের কাঠ পাচার করে কোটিপতি বনে গেছেন বান্দরবানের অনেক কাঠ ব্যবসায়ী। অনেকটা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাবার মতন। মাদারট্রি সাইজের বৃক্ষগুলো কাটার কারণে সরকারী রিজার্ভ ফরেষ্ট বৃক্ষশূণ্য হয়ে পড়ছে। থানচি, সেকদু এবং মিবাক্ষা বনবিভাগের তিনটি রেঞ্জের আওতাধীন আন্ধারমানিক, বড়মদক, ছোট মদক, তীন্দু, থানচি বাসষ্ট্যান্ড, ব্রিকফিল্ডের পাশে, পদ্ধঝিরি, বোডিংপাড়া’সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে হাজার হাজার ঘনফুট কাঠের রদ্দা মওজুদ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে তীন্দু থেকে বড়মদক ঝিড়ি পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর বিভিন্নস্থানে একাধিক গাছের চালি বেধে মওজুদ করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টিতে নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাঠগুলো বিভিন্নস্থানে পাচার করা হবে।
রিজার্ভ ফরেষ্টের চম্পাফুল, গর্জন’সহ মূল্যবান গাছ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে কাঠ ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন, লেডা জাহঙ্গীর আলম, ইয়াকুব নবী’সহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় পাহাড়ী নেতাদের অগ্রীম লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে রিজার্ভ ফরেষ্ট উজাড়ের মহোৎসবে মেতেছে এ ব্যবসায়ীরা। চোরাকারবারীদের অর্থের কাছে ম্যানেজ বনবিভাগের কর্তাব্যক্তি’সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাগুলো অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক কয়েকজন পাড়া কার্বারী অভিযোগ করে বলেন, সাঙ্গু সংরক্ষিত সরকারী রিজার্ভ ফরেষ্টের নারিচ ঝিরি’সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে গত১৫ দিন ধরে ২২জন শ্রমিক দিয়ে রিজার্ভ ফরেস্টের বড়বড় গাছ কাটা হচ্ছে। সওদাগর জামাল উদ্দিনের মাঝি মোজাফ্ফর শ্রমিকদের তত্বাবধান করছে। রেমাক্রি ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই, পাহাড়ী সংখ্যচিং ও উবামং সহযোগীতা করছে সওদাগরদের।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাঠ ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন প্রতিবেদককে বলেন, বড়মদক আমার সেগুন কাঠের একটি জোত পারমিট আছে গতবছরের। কিন্তু চম্পাফুল কাঠের ব্যবসা আমি করিনা। রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে গতবছর কিছু পাহাড়ী গাছ কেটেছিল, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আমি কোনো ধরণের রিজার্ভ ফরেষ্টের গাছ কর্তন এবং চম্পাফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। রিজার্ভ ফরেস্টে আমার কোনো লোক নেই।
অপরদিকে অভিযুক্ত কাঠ ব্যবসায়ী লেডা জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইলফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভি না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে ব্যবসায়ীরা অস্বীকার করলেও গতসোমবার বনবিভাগ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছয়টি স’মিল (করাতকল) এবং ব্যবসায়ীর নিজস্ব কাঠের ডিপো থেকে প্রায় দু’হাজার ঘনফুট কর্তন নিষিদ্ধ মূল্যবান চম্পাফুল কাঠ জব্দ করেন।
বনবিভাগের বান্দরবান ডিভিশনের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা কাজী মো: কামাল হোসেন এবং বিভাগীয় বনকর্মকর্তা পাল্পউড বিপুল কৃষ্ণ দাশ প্রতিবেদক’কে জানান, বনবিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতবছর যারা রিজার্ভ ফরেস্টের গাছ কেটেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নতুন করে রিজার্ভ ফরেস্টে গাছ কাটার কোনো খবর আমরা পায়নি। রিজার্ভ ফরেস্টের গাছ কাটার প্রমাণ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। রিজার্ভ ফরেস্টে বৃক্ষ কর্তন এবং চম্পাফুল গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

রাঙামাটিতে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার আসামি অর্পন …

Leave a Reply