নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » নীরবেই পেরিয়ে গেলো মুন্সী আব্দুর রউফ’র শাহাদাৎবার্ষিকী !

নীরবেই পেরিয়ে গেলো মুন্সী আব্দুর রউফ’র শাহাদাৎবার্ষিকী !

rouf-coverনীরবেই কেটে গেল বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের আরো একটি শাহাদাৎ বার্ষিকী। এবারো রাষ্ট্রীয় কোনো আয়োজনও ছিল না মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের এই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৪৩ বছর যাবৎ তাঁর শাহাদাৎ বার্ষিকীতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয় না রাঙামাটিতে। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে বীরদর্পে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিলেন এ বীর সন্তান। বাংলাদেশ বিডিআর এ কর্মরত মুন্সি আবদুর রউফ ছিলেন ল্যান্স নায়েক। ২৬ মার্চ যুদ্ধ শুরু হলে বিডিআর দলের সাথে তিনিও ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামে। রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে শত্র“বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধ শুরু হলে মুন্সি আবদুর রউফ বীরদর্পে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। শত্র“বাহিনীর তিনটি নৌযান একাই ধ্বংস করেন তিনি।

তাঁর সমরসঙ্গী মুক্তিযোদ্ধা রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু জানান, সেই সময় পাক বাহিনীর গোলার আঘাতে আমাদের নৌযান ধ্বংস হয়েছিল। আমরা বেশ কয়েকজন সাঁতরে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে আশ্রয় নিই। মুন্সি আব্দুর রউফকেও সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনেক ডাকাডাকি করি। কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা নিরাপদে সরে যাও। আমি যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। একসময় পাকবাহিনীর ছোঁড়া মর্টারের আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় মুন্সি আব্দুর রউফের শরীর। সেসময় এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দয়াল কৃষ্ণ চাকমা নামের একজন পাহাড়ী তাঁর ছিন্ন ভিন্ন শরীর এক করে সেখানেই সমাধিস্থ করেন। তাঁর এ বীরত্বের জন্য তাঁকে “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভুষিত করা হয়। স্বাধীনতার ২৫ বছর পরে ১৯৯৬ সালে তাঁর সমাধিস্থল চিহ্নিত করা হয়। এরপর থেকে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসেই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আর তাঁর বীরমাতা মুকিদুন্নেসাকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও বিজিবি’র পক্ষ থেকে সম্মাননা দেয়া হয় । কিন্তু ২০ এপ্রিল তাঁর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ভাবে কিংবা বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) কিংবা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে কোনো কর্মসূচী পালন করা হয়না।

জাতির এ বীর সন্তানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে। তিনি বলেন,-‘এমন একটি দিনে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা না থাকাটা খুবই দুঃখজনক। সরকারী পদে থেকে যারা এ আনুষ্ঠানিকতা করেন না। তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। এটি জাতির জন্য কলঙ্কজনক।’

প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার সালামতপুর গ্রামে ১৯৪৩সালের ১মে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ। বাবা মেহেদী হোসেন স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে আব্দুর রউফ ছিলেন সবার বড়। উপজেলার কামারখালী হাই স্কুলে নবম শ্রেনীতে পড়াবস্থায় তৎকালিন ইপিআর বর্তমানে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অষ্টম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply