নীড় পাতা » রাঙামাটি » নিয়ন্ত্রণহীন রাঙামাটি শহরের বাড়ি ভাড়া

নিয়ন্ত্রণহীন রাঙামাটি শহরের বাড়ি ভাড়া

rangamati_1245রাঙামাটি শহরের বাড়ি ভাড়া নিয়ে দুর্দিনে আছে শহরে বসবাসরত আবাসিক ভাড়াটিয়ারা। কথায় কথায় ভাড়া বাড়ানো নিয়ে ভাড়াটিয়া ও মালিকপক্ষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের এবিষয়ে তদারকি বা নিয়ন্ত্রণের অভাবে মালিকপক্ষও বেপরোয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মালিক ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিচার-সালিশিও হতে দেখা যায়।

রাঙামাটি শহরে পাকা বাড়ি ভাড়া নিতে হলে দুই রুম, এক কিচেন ও এক বাথরুম মিলে ভাড়া ২২০০-৩০০০ টাকা, তিন রুম, এক কিচেন ও এক বাথরুম মিলে ভাড়া ৪০০০-৫০০০ টাকা এবং এর চাইতে ভালো বাড়ি ভাড়া নিতে হলে কমপক্ষে ৭,০০০-১০,০০০ টাকা বাজেট করতে হয়। এর মধ্যে পানির সুবিধা ছাড়া বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে কাঁচা বাড়ি ভাড়া নিতে হলে কমপক্ষে দেড় হাজার টাকা থেকে শুরু করে আরো বেশি ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও শুধু পানি সুবিধা পাওয়া যায়।

রাঙামাটি শহরে সমতল ভূমির চাইতে পাহাড়ি ঢালু জমি বেশি হওয়ায় ঘরবাড়ি নির্মাণের উপযোগী জমির সঙ্কট প্রবল। এছাড়া ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ দেওয়ার কারণে রাঙামাটির মূল শহর পানিতে ডুবে যায়।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের অনেকে ভূমিহীন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এইসব পরিবার যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার কারণে ভাড়া বাড়িতে কাটাতে হচ্ছে। এছাড়া শহরের বেশিরভাগ মানুষ বিভিন্ন উপজেলা ও বাইরের জেলা হতে জীবিকার সন্ধানে এই শহরে এসেছে। তাদের কেউ ব্যবসা করে, কেউ সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তাদের নেই কোনো জমি-জমা। তাই তাদেরকে নির্ভর করতে হচ্ছে ভাড়া করা বাসাবাড়ির ওপর।

তাদের অভিযোগ, চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে এক শ্রেণির বাড়িওয়ালা বছর শেষ হতে না হতেই ইচ্ছেমাফিক ভাড়া বাড়ানোর জন্য ভাড়াটিয়াদের চাপ দেয়। ভাড়া না বাড়ালে ঘর ছেড়ে দিতে বলা হয়। নিরুপায় হয়ে ভাড়াটিয়ারা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয় অন্যথায় ঘর ছেড়ে দিতে হয়।

বরকল উপজেলার ভূষণছড়া এলাকা থেকে রাঙামাটি শহরে চাকুরীর উদ্দেশ্যে আসা মোঃ ছগির বলেন, আমি চারবছর আগে রাঙামাটিতে চাকরির উদ্দেশ্যে এসেছিলাম। রিজার্ভ বাজার ২নং পাথর ঘাটায় এক হাজার টাকা দিয়ে কাঁচা বাসার এক রুম ও ছোট একটি রান্নাঘর ভাড়া নিয়েছিলাম।

ছয় মাস যাওয়ার পর মালিক এসে জানায় ভাড়া ৫০০ টাকা বাড়াতে হবে। অনেক দেনদরবার করার পর মালিককে ৩০০ টাকা ভাড়া বাড়াতে রাজি করিয়েছি। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ভাড়া ২,০০০ টাকা করার জন্য চাপ দেয় অন্যথায় বাসা ছেড়ে দিতে বললে আমি বাসা ছেড়ে দিই। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কেউ না থাকায় এসব সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই : মনিস্বপন

‘এই সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। দেশ ভালো নেই, দেশের মানুষ ভালো নেই। গনতন্ত্র নেই, …

One comment

  1. সত্যি তাই। ভাড়া আছি তো তাই বলতে পারি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: