নীড় পাতা » পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫ » ‘নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াব না’

‘নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াব না’

habib‘কোন অবস্থাতেই নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াবেন না’ জানিয়ে রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী, ও সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘রাঙামাটি পৌরসভায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী মনোনয়ন ভুল হয়েছে,এতে দলের প্রবীণ ও ত্যাগি নেতাদের মতামতের মূল্যায়ন করা হয়নি।’

শনিবার সন্ধ্যায় পাহাড়টোয়েন্টিফোর ও দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এসে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম এর মফস্বল সম্পাদক শংকর হোড়

হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কোন অবস্থাতেই আমি নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াবো না,কোন চাপের কাছেও নতি স্বীকার করবনা। দলের পক্ষ থেকে যে কেউই কথা বলতে পারে,কিন্তু আমি নির্বাচন করবই।’

প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই মেয়র বলেন, এই পৌর নির্বাচন সরকারের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করতে হবে প্রশাসনকে। তারা যেনো কোনভাবেই প্রভাবিত না হয়,সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই।’

নিজেকে একজন প্রকৃত আওয়ামীলীগার ও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক দাবি করে হাবিবুর রহমান বলেন,আমি ৬৯ এর গণঅভূত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি,মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। ১৯৮৬ সালে রাঙামাটিতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি। ১৯৯২ সালে আমার হাত ধরেই পৌর আওয়ামীলীগের যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন সময় আমি জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে ছিলাম। এখনো দলের প্রাথমিক সদস্য। আমি আজীবন আওয়ামীলীগ করেছি,আমৃত্যু আওয়ামীলীগই করে যাবো। দল থেকে বহিষ্কার করলেও আমি আওয়ামীলীগই থাকবো,নির্বাচনে জিতলেও আমি আওয়ামীলীগ,হারলেও আমি আওয়ামীলীগ।’

আসন্ন নির্বাচনে নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি কতটুকু জনপ্রিয় বা সাধারন মানুষ আমাকে কতটা ভালোবাসে,তা নির্বাচনের দিন রাতেই আপনারা বুঝবেন। প্রতীক চেনেনা এমন মানুষই আমাকে নির্বাচিত করবেন। আর দল করেন কিন্তু আমাকে ভালোবাসেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়।’

জেলা আওয়ামীলীগের কার্যক্রমে তার নিষ্ক্রিয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একথা সত্য যে, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আমি দলীয় কার্যক্রমে ততটা সক্রিয় ছিলাম না। এটার জন্য সেই সময়কার বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে। আমার বিরুদ্ধে সেই সময় ক্ষতাসীন দল বিএনপি নেতারা যে চক্রান্ত,ষড়যন্ত্র করেছে,সেই কারণে আমি বাধ্য হয়েছি দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকতে। আর ওয়ান এলেভেন’র বাস্তবতাও আপনারা জানেন,স্বাভাবিকভাবেই আমি কোনঠাসা ছিলাম। তখনো অনেক বড় বড় নেতাও বেকায়দায় ছিলো,আমিতো সামান্য পৌর মেয়র। আওয়ামীলীগের নেতাদের সেই বাস্তবতাও বুঝতে হবে।কিন্তু ২০১১ সালে আমি মেয়র থাকা অবস্থায় দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি,শুধু তাই নয়,আমাকে নির্বাচনকাজেও ব্যবহার করা হয়নি। তখন যিনি প্রার্থী হয়েছিলেন,তিনি চেয়েছিলেন আমি যেনো মাঠে না নামি। এখন আমার দোষ দিয়ে কি লাভ ?’

ভোটের মাঠের কূশলী খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত হাবিব আরো বলেন,‘আমাকে দল দুইবার মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়ন করেছে,এটা যেমন সত্য,তেমনি আমাকে দলের কাজে বা প্রয়োজনে ব্যবহার করেনি,প্রয়োজনই মনে করেনি,এটাও সত্য।’

‘দলের প্রতি কোন কোন ক্ষোভ বা অভিমান নেই’-দাবি করে তিনি আরো বলেন,যদি প্রশ্ন করেন,আমি কেনো প্রার্থী হয়েছি,তবে আমি বলবো,সময়ের প্রয়োজনেই আমি প্রার্থী হয়েছি। কারণ এই পৌরসভাকে সেরা পৌরসভায় পরিণত করতে আমার কোন বিকল্প নেই। যারা প্রার্থী হয়েছেন,তাদের চেয়ে আমি নিজেকে যোগ্য মনে করি বলেই প্রার্থী হয়েছি।’

‘আওয়ামীলীগের প্রার্থী মনোনয়ন ভুল হয়েছে’ দাবি করে তিনি আরো বলেন,যিনি প্রার্থী হয়েছেন,তিনি দলের নিবেদিতপ্রাণ তরুণ নেতা। তবে এখনই তাকে প্রার্থী করার প্রয়োজন ছিলোনা। তার পরিচিতি ও গ্রণযোগ্যতা এখনো সেভাবে গড়ে উঠেনি।’

তার পক্ষে নীরবে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী কাজ করবেন দাবি করে তিনি বলেন,আমার পক্ষে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী কাজ করবে,দলীয় প্রতীক ও সিদ্ধান্তের কারণে তারা হয়তো প্রকাশ্যে মাঠে নামবে না,কিন্তু অন্যভাবে ঠিকই কাজ করবে এবং আমার কর্মীরা বেশিরভাগই হবে অরাজনৈতিক কর্মী।’

প্রসঙ্গত,আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী। পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও দুইবারের মেয়র হাবিবুর রহমানও দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় দুজন নিহত

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় সুভাষ তনচংগ্যা (৪৫) ও ধরনজয় তনচংগ্যা (৩৬) নামে দুইজন …

Leave a Reply

%d bloggers like this: