নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » নির্বাচনী উত্তাপে সরগরম মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি

নির্বাচনী উত্তাপে সরগরম মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি

nakkhaingchari-coverউপজেলা নির্বাচনে বান্দরবানে সরগরম এখন মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা। আগামী ২৩ মার্চ জেলার সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন’কে ঘিরে বান্দরবানের জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এখন অবস্থান করছেন নাইক্ষ্যংছড়িতে। ছুটে বেড়াচ্ছেন নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম পাহাড়ী জনপদ। দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকলের দৃষ্টি বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচনের দিকে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দুজন প্রার্থী। আওয়ামীলীগসহ ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী মো: শফি উল্লাহ (আনারস) প্রতিক নিয়ে এবং বিএনপিসহ ১৯ দল জোট সমর্থিত প্রার্থী রামু হামলায় জড়িত কারাবন্দী জামাত নেতা তোফাইল আহমদ (মোটর সাইকেল) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তোফাইল আহমদ কারান্তরীন থাকলেও তারপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যসহ আত্মীয় স্বজনেরা।

অপরদিকে আওয়ামীলীগসহ ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী মো: শফি উল্লাহ’সহ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চষে বেড়াচ্ছেন নাইক্ষ্যংছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো। জেলার ছয় উপজেলায় পরাজরের পর জয়ের স্বাদ পেতে অনেকটাই মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামীলীগের কর্মী-সমর্থকেরাও। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারের মন জয়ের চেষ্ঠা চালাচ্ছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ডা: মো: ইসমাইল বলেন, বর্তমানে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এবং জেলার এমপি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা নির্বাচনে তাদের সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হলে এলাকায় উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করতে পারবে।

তবে নাইক্ষ্যংছড়ি বিএনপি সভাপতি ও নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক নূরুল আলম কোম্পানী বলেন, আজিবন সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, এখনো সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্থানীয়রা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে কারাবন্দী চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ’কে মুক্ত করতে উম্মুখ হয়ে আছেন। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি আমরা। তবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকিতে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।

এদিকে চেয়ারম্যান ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত কামাল উদ্দিন (চশমা), আওয়ামীলীগ সমর্থিত চোচু মং মারমা (টিয়া পাখি), আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মির্জা হাবীব (উড়োজাহাজ), জামায়াত সমর্থিত অবছার কামাল (তালা), বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী ফরিদুল আলম (টিউবওয়েল) প্রতিক নিয়ে লড়ছেন। এছাড়াও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হামিদা চৌধুরী (ফুটবল) এবং আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ওজিফা খাতুন রুবী (কলস) প্রতিক নিয়ে লড়ছেন।
নির্বাচন অফিস জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নে ভোটার হচ্ছে ৩১ হাজার ৪৪৬ জন এবং ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৪টি। আগামী ২৩ মার্চ উপজেলাতে নির্বান অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা রির্টানিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইশরাত জামান জানান, অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত প্রশাসন। প্রভাব বিস্তার করে কোন প্রার্থী পার পাবে না, প্রদত্ত আইনী ক্ষমতাবলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে পুলিশ কনস্টেবলের ‘আত্মহত্যা’, নেপথ্যে ‘প্রেম’

রাঙামাটিতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা …

Leave a Reply