নীড় পাতা » ব্রেকিং » নিরাপত্তা চাইলেন বাঘাইছড়ির স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আজিজ

নিরাপত্তা চাইলেন বাঘাইছড়ির স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আজিজ

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মো: আজিজুর রহমান আজিজ পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে রাঙামাটি শহরের এক রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের পাশে রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রোবার্ট রোনান্ড পিন্টু, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল শুক্কুর তালুকদার, সদর উপজেলা কমান্ডার মিজানুর রহমানসহ বাঘাইছড়ির মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মো: আজিজুর রহমান আজিজ অভিযোগ করে বলেন, গত ১৮ই ফেব্রুয়ারী রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচনে আমিও একজন স্বতন্ত্র মেয়ার প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করি। নির্বাচনে বিএনপি-জামাত নিজেদের প্রার্থী দিলেও মূলতঃ আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাত করে বিভিন্ন ভাবে নির্বাচনে কারচুপি করে। বিশেষ ভাবে বর্তমানে বাঘাইছড়ি উপজেলায় আওয়ামীলীগে জামাত ও শিবিরের কর্মীরা যোগদান করেছে ব্যাপকহারে, যার ফলে তারা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শক্তিকে প্রতিহত করতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। তারপরেও নির্বাচন শেষে হাজারো অভিযোগ থাকার সত্ত্বেও আমি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু এর পরের দিন আমার ছেলের বন্ধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাঘাইছড়ি বেড়াতে আসলে তাদেরকে প্রথমে রাস্তায় পুলিশ মারধর করে, পরে আবার তারা বাসায় ফিরে এলে পুলিশ বাসায় এসে আমার উপরে এবং আমার বাসার মেয়েদের উপরে হাত তুলে এবং কোন অভিযোগ ছাড়াই সে ছেলেদেরকে ও আমার নির্বাচনের কর্মীদেরকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদেরকে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, এই ছেলেরা নির্বাচন থাকার কারনে নির্বাচনের পরের দিন বাঘাইছড়ি বেড়াতে এসেছে। কিন্তু তাদেরকে কোন অভিযোগ ছাড়াই মারধর ও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বর্তমানে এই মুক্তিযোদ্ধা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার অভাব অভিযোগ করে বলেন, বাঘাইছড়িতে আওয়ামীলীগ বর্তমানে গোপন ভাবে বিএনপি-জামাতের সাথে হাত মিলিয়েছে এমত অবস্থায় তারা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে প্রতিহত করতে চায এবং তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তাই আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নিজের ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের কাছে প্রার্থনা করি এবং আমার ছেলের বন্ধু ও আমার কর্মীদেরকে যে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে ছেড়ে দিয়ে এমন হয়রানি শিকার হওয়ার তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিজয়ী হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রার্থী জাফর আলী খান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ছিলো স্বতন্ত্র প্রার্থী এই মুক্তিযোদ্ধা। নির্বাচনের পরদিন তার বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার পুত্রের বন্ধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৫ নেতা ও এক শ্যালক, এক নির্বাচন কর্মীকে আটক করে এবং পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এবং এই প্রার্থীর তিনপুত্রসহ আটক পাঁচজনকে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা দেয়া হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

One comment

  1. নির্বাচন করার কারনে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগলে ভবিষ্যতে সকল ভোটে বিনাপ্রতিদন্ধীতায়………………।আহা! আমাদের মা হারা মাতৃভূমি!!!!

Leave a Reply

%d bloggers like this: