নীড় পাতা » ব্রেকিং » নিজে কাঁদলেন, কাঁদালেনও…

নিজে কাঁদলেন, কাঁদালেনও…

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। তাঁরা জনগণের খাদেম, সেবক, ভাই’। জনপ্রশাসনের সকল কর্মকর্তা হয়তো সাধারণ জনগণের সাথে মিশতে পারেন না। তবে সদ্য বিদায়ী লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রবীর কুমার রায় ছিলেন একবারেই ভিন্ন এক কর্মকর্তা। তিনি দেড় বছরের দায়িত্ব পালনের সময়ে মিশে গিয়েছেন সব মানুষের সাথে। উপজেলার সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক সবার পছন্দের মানুষে নিজেকে পরিচিত করেছেন এ অল্প সময়ে। তাইতো তার বিদায় বেলায় উপজেলাবাসী ও সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। তিনি নিজেও কেঁদেছেন অবুঝ শিশুর মতো এবং কাঁদিয়েছেন সবাইকে। এ কর্মকর্তা গত ২০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়াল বিদায় নিলেও লংগদু ছেড়ে চলে যাননি।

২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস পালন করেছেন লংগদুর মানুষের সাথে। ২২ ফেব্রুয়ারি সকালেও একটা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শেষবারের মতো নিজের দপ্তরে বসলেন। মুহূর্তেই এসে উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক সাংবাদিকদের একটি দল। সকলের প্রিয় স্যার আজ চলে যাবেন। তাই শেষ বারের মতো সাক্ষাৎ করতে আসা সবাই যেন শোকে স্তব্দ। কারো মুখে কোনো কথা নেই। স্যার আপন মনে নিজের কাজকর্ম শেষ করছেন।

সকাল ১১টা, এবার বিদায়ের পালা। একে একে সবাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন প্রিয় ইউএও স্যার এবং সবাইকে কাঁদালেন। অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে দেখেন অসংখ্য মানুষের ভীড়। শেষ মুহূর্তে ছবি তুললেন অনেকেই। সাধারণ এসব মানুষের চোখের জলও থেমে থাকেনি। সকলে মিলে যেন চোখের জলে বিদায় দিলেন প্রিয় স্যারকে, প্রিয় মানুষকে।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনও মহোদয়কে বিদায় দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিদায় সংবর্ধনা উদযাপন কমিটির ব্যনারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, লংগদু মডেল কলেজ, লংগদু প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ স্কাউট লংগদু শাখা। এছাড়াও লংগদু জোন, অফিসার্স ক্লাব আলাদাভাবে করেছেন বিদায় অনুষ্ঠান। সব অনুষ্ঠানই ছিলো প্রিয় মানুষকে ভালোবেসে সম্মানিত করার আয়োজন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো ইউএনও হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন প্রবীর কুমার রায়। যোগদানের পর থেকেই এ উপজেলার শিক্ষা যোগাযোগ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সাজিয়েছেন নিজের সৃজনশীল সব কর্মকান্ড দিয়ে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে তিনি গিয়েছেন নিজ দায়িত্বে। চেষ্টা করেছেন তাদের সমস্যা দূর করতে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতি বিশেষ নজর ছিলো তার। বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় ব্যায়ামাগার করা তারই একটি বড় উদাহারণ। স্থানীয় শিল্পীদের দক্ষ করতে নিজ উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। এবং শিল্পীদের নানা দাবি দাওয়া পূরণের চেষ্টা করেছেন।

লংগদু উপজেলাকে আলোকিত করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করেছেন প্রতি নিয়ত। তাইতো মানুষের হৃদয় জয় করেছেন তিনি। সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে অগ্রাধিকার দিয়েছেন সাধারণ মানুষের স্বার্থ। দুস্থদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং অবকাঠামোগত সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড নিজে নজরদারি করেছেন। সৌর বিদ্যুতে আলোকিত করেছেন উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাজার ও সড়ককে। বিদ্যুৎ না থাকলেও অন্ধকার হবে না লংগদু। নতুন আগন্তুক যে কেউ মনে করবেন এটা একটা ছোট শহর। রাস্তাঘাটের পরিছন্নতার বিষয়ে ছিলেন বেশ আন্তরিক। বাজারের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে আছে ডাস্টবিন। এসবই এই কর্মকর্তার সৃজনশীল কাজের অংশ। তিনি কাজের মাধ্যমেই জয় করেছেন লংগদুর মানুষের হৃদয়। পেয়েছেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। মানুষের সাথে মিশে গিয়েছেন। মানুষকে ভালোবেসেছেন। তাইতো স্যারের বিদায় ক্ষণে অশ্রু ঝড়েছে আমাদের চোখে আর রক্ত ঝড়েছে হৃদয়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্যারের কান্নার ছবিসহ বিদায় বেলার ছবি দিয়ে অনেকেই জানিয়েছেন তাদের ভালোবাসার কথা। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন ‘স্যারকে অদূর ভবিষ্যতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক হিসেবে দেখতে চাই, আমাদের এমন প্রত্যাশা পূরণ অবশ্যই হবে। কারণ স্যারকে যে আমরা প্রচন্ড ভালোবাসি। লংগদুর ইতিহাসে স্যার যে জায়গা দখল করেছেন সে স্থানে আর কেউ হয়তো আসবেন না। আর কেউ আসলেও আপনার সমকক্ষ কেউ হবেন না। আপনি থাকবেন আমাদের হৃদয়ের মনি কোঠায়। আমরা আপনার উন্নতি কামনা করি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply