নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ‘নিজেদের সংস্কৃতি নিজেরা চর্চা না করলে হারিয়ে যাবে’

‘নিজেদের সংস্কৃতি নিজেরা চর্চা না করলে হারিয়ে যাবে’

Adibasi-mela-cover‘পাহাড়ের আদিবাসীদের ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে হবে,আমরা যদি নিজেদের সংস্কৃতিকে নিজেরা লালন করতে না পারি তাহলে এই জাতিসত্ত্বা ও সংস্কৃতি টিকে থাকবে না।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট প্রাঙ্গনে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের উদ্যেগে আয়োজিত ‘১৩ তম পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী সংস্কৃতি মেলা’য় চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় এই কথা বলেন।

আদিবাসী সংস্কৃতি মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট আদিবাসী কবি ও লেখক চিত্রমোহন চাকমা। জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি এডভোটে মিহির বরন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য নাট্যজন মামুনুর রশীদ, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সদস্য ও নাট্যকার ঝিমিত ঝিমিত চাকমা।

অনুষ্ঠানে ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় আরো বলেন, সংবিধান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নীতি, কোথাও বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির প্রতিফলন হয়নি। বর্তমানে কট্টর পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন।
দেবাশীষ রায় বলেন,অনেকেই চায় আদিবাসীদের জাদুঘরে ঢুকিয়ে রাখতে। আদিবাসীদের উপর প্রভাব, হুমকি, যতকিছুই হোক না কেনো, নিজেদের সংস্কৃতি যদি নিজেরা চর্চা না করি তাহলে এ সংস্কৃতি হারিয়ে যাবে।Rangamati-adibasi-mela-Pic-

পাহাড়ীদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক রাজপ্রথার নেতৃত্বধানকারি এই নেতা আদিবাসীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন,বাঙালী মুসলমানরা তাদের ঈদ অনুষ্ঠানে সকলকে সেমাই খাওয়ায়,হিন্দুরা প্রসাদ খাওয়ায়, আর আমাদের আদিবাসী সম্প্রদায় বিঝু উৎসবে পাঁচন না দিয়ে নুডুলস বা বিরিয়ানী খাওয়ায়। এতে করে তাহলে আমাদের সংগ্রাম কিভাবে হবে। তাই আমাদের সকলকে সংস্কৃতির সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংগ্রাম যতদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ততদিন পর্যন্ত জাতিসত্ত্বা অক্ষুন্ন থাকবে বলে বিশ্বাস করি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন,দেশে ৪৫ টি আদিবাসী ও ৪০ ভাষা-ভাষী মানুষ বসবাস করে। দেশে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা পালন করা হয় যাতে কোন ভাষা হারিয়ে না যায়, কিন্তু আমরা সেসব ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষগুলোর প্রতি কতটুকু সম্মান দেখিয়েছি ?

তিনি বলেন,আইএলও বলছে যেখানে আদিবাসী আছে সেখানে কাগজের প্রয়োজন নাই। ১৯৯৭ সালে যখন আদিবাসী মেলা শুরু হয়েছিল তখন এখানকার জাতিসত্বাগুলো ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন এখানে বিভক্তি আসছে,সমতলের আদিবাসীরাও বর্তমানে একই অবস্থায় রয়েছে। এই বিভক্তি ভবিষ্যতে সকল আদিবাসীদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে বলেও মন্তব্য করেন আদিবাসী মেলার শুরু থেকেই প্রায় প্রতিটি আয়োজনে উপস্থিত থাকা এই বরেণ্য নাট্যজন।

এবারের আদিবাসী সংস্কৃতি মেলায় জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের (জাক) এর উদ্যেগে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য প্রয়াত সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা(মরনোত্তর), বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও প্রয়াত সুহৃদ চাকমাকে (মরনোত্তর)সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় ¤্রাে,ত্রিপুরা,খুমি,ও খিয়াং সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আদিবাসী মেলার অনুষ্টানে তিন পার্বত্য জেলার ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ১৭০ জন অংশগ্রহনকারী অংশগ্রহন করছেন।Rangamati--adibasi-mela-Pic

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাদশার ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে

যাযাবর জীবন; মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও মানুষের ভাষা বোঝে। সব সময় চুপচাপ থাকা পঞ্চাশোর্ধ মানুষটি অনেকের …

Leave a Reply