নীড় পাতা » বান্দরবান » নায্যমূল্য পাাচ্ছে না স্থানীয় চাষীরা

নায্যমূল্য পাাচ্ছে না স্থানীয় চাষীরা

Bandarban-Banana-Picকলার শহরে পরিনত হয়েছে এখন পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এই অঞ্চলে উৎপাদিত কলা এখন শোভাপাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে হাটবাজারগুলোতে। তবে কলার বাম্পার ফলনেও
জানাগেছে, প্রতিদিন বান্দরবান বাজারে দূর দূরান্ত থেকে বিক্রির জন্য কলা নিয়ে আসে কৃষকরা। সপ্তাহে দু’দিন রবি ও বুধবার বসে বান্দরবান বাজারে কলার হাট। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাহাড়ী-বাঙ্গালী কলা চাষীরা কলা নিয়ে আসে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন বান্দরবান বাজারে। সপ্তাহের প্রতি রবি ও বুধবার বান্দরবান শহর পরিনত হয় কলার শহরে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার রুমা, থানছি, রোয়াংছড়িসহ সদর উপজেলার বিভিন্নস্থান থেকে কলা আসতে থাকে বান্দরবান বাজারে। এখান থেকে জেলার পাশ্ববর্তী সাতকানিয়া, দোহাজারি, আমিরাবাদ, পটিয়া ও কক্সবাজার-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চাষীদের কাছ থেকে পাইকারী হিসেবে কম দামে কলা কিনে নিয়ে তা বিক্রি করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতি হাট বাজারের দিন কম হলেও ৭/৮ মিনিট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে কলা নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। বাজারে কলা নিয়ে বসার জন্য কৃষকদের ছড়া প্রতি ট্যাক্স দিতে হয় ২ টাকা। এরপর কলা নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যবসায়ীদেরও টোল দিতে হয়। শহরের সূয়ালক, হলুদিয়া, স্যারণপাড়া, লাইমী পাড়া, ডলুপাড়া, বাঘমারা এবং রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানছি উপজেলা থেকেও বান্দরবান বাজারে কলা বিক্রি করতে আনে চাষীরা। উৎপাদিত কলায় ছেয়ে গেছে বান্দরবানের বিভিন্ন হাট বাজারগুলো। চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় ৯ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ মাত্রার চেয়ে দিগুন আড়াই লক্ষ মেট্রিকটন কলা উৎপাদিত হয়েছে এবার। জেলায় কলার বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে চাষীদের মুখে। তবে নায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেকে হতাশ হয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, বান্দরবান জেলার মাটি কলা চাষের জন্য উপযোগী। এই অঞ্চলের মাটির উর্ব্বরতা শক্তি বেশি হওয়ায় কলার ফলনও ভালো হচ্ছে। বাঘমারার পাহাড়ী কলাচাষী থোয়াই চিং মারমা জানান, স্বল্প খরচে কলা বাগান করা সম্ভব হওয়ায় এখানকার পাহাড়ীরা কলা চাষে বেশি আগ্রহী। কলার ফলনও ভালো হওয়ায় কলা চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এবছর কলা বিক্রি করে তিনি ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছে। বাগানে আরও প্রচুর কলা রয়েছে, সেগুলো বিক্রি আরো ৩০/৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। তবে কলার বাম্পার ফলন হলেও নায্য মূল্য পাচ্ছে না তারা। প্রকৃত মূল্য না পাওয়ায় কলা বাজারে তোলার পর অনেক সময় হতাশ হয়। থোয়াইঙ্গ্যা পাড়ার কলা চাষী অংচলা মারমাসহ কয়েকজন জানান, বান্দরবান জেলায় কলাসহ উৎপাদিত ফল প্রক্রিয়াজাত করণ এবং রক্ষণা-বেক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই। হিমাগারের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ব্যবসায়ীদের কম মূল্যে কলা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর জেলায় কলাসহ বিভিন্ন ফল নষ্ট হচ্ছে। ফলে বান্দরবান জেলায় কৃষিপন্য সংরক্ষণে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি। এ বিষয়ে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শস্য উপাত্ত বিশেষজ্ঞ আলতাফ হোসেন বলেন, বান্দরবান জেলা কৃষিপন্য সংরক্ষণে একটি হিমাগার স্থাপন খুবই প্রয়োজন। জেলায় কলা, আম, আনারস, কাঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চাষ বাড়ছে আশানুরুন, ফলনও ভালো হচ্ছে। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় চাষীরা লাভের মুখ দেখতে পারছে না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবান সরকারি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বান্দরবান সরকারি কলেজে পাঁচতলা বিশিষ্ট ছাত্রী হোস্টেল এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বাস …

Leave a Reply