নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » নানা সমস্যায় জর্জরিত সুবলং বাজার

নানা সমস্যায় জর্জরিত সুবলং বাজার

shuvolongরাঙামাটি জেলার প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক কেন্দ্র সুবলং বাজারটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় দূষিত পরিবেশে বাজার সারছে সাধারণ মানুষ। নিরাপদ খাবার পানি, সুষ্ঠু পয়ঃ প্রণালী, যাত্রি ছাউনী, গণশৌচাগারসহ নানা সমস্যায় ঐতিহ্য হারাচ্ছে এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি।

একমাত্র যাত্রী ছাউনীটি সংস্কারের অভাবে ফাটল দেখা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন। নিরাপদ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় হাটের দিন এই বাজারে আসা সহস্র মানুষ হ্রদের পানি থেকে তাদের পিপাসা মেটাচ্ছে।

তবে ইতিমধ্যে সুবলং সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পাহাড়ি ঝর্নার পানি সংগ্রহ করে ফিল্টারের মাধ্যমে এলাকায় বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, লোকসমাগমের তুলনায় বাজারটি ছোট হওয়ায় সাপ্তাহিক বাজারের দিন ভিড় ও হুড়োহুড়ি লেগে যায়। এতে প্রতি হাটবারেই কেউ না কেউ পকেটমারদের হাতে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র খুইয়ে বিপদে পড়ে।

বাজার ব্যবসায়ীরা জানায়, সাধারণের ব্যবহারের জন্য এই বাজারে একটি মাত্র গণশৌচাগার থাকলেও বর্তমানে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টয়লেটের দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দুষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটি সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন করার জন্য কেউ নেই।

প্রয়োজনীয় পাবলিক টয়লেট না থাকায় সাপ্তাহিক হাটের দিন দুরদুরান্ত থেকে আসা লোকজন যেখানে যেখানে পায়খানা প্রস্রাব করে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলছে। ময়লা আবর্জনা রাখার জন্য নেই কোনো ডাস্টবিন। হোটেল রেঁস্তোরায় ধোঁয়া-মোছার ময়লা পানি সরাসরি নদীতে পড়ছে, ওই পানি তুলেই আবার পানীয় জলের অভাব পূরণ হচ্ছে।

ব্যবস্থাপনা বা দেখার কেউ না থাকায় হাটের দিন নাপ্পি ও মাংস বিক্রেতারা বাজারশেষে তাদের ময়লা পরিষ্কার না করেই চলে যায়। এতে ওই স্থানগুলোও দুর্গন্ধময় হয়ে থাকে সবসময়।

এছাড়া বাজারের ঘাটে চলে গরু ছাগল ও গবাদিপশু বিক্রির কাজ। এখান থেকেও সৃষ্টি হওয়া ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় না, সব মিলিয়ে নানা কারণে দুষিত হচ্ছে বাজারের পরিবেশ। স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা করছে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

সুবলং ইউপি চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমার সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাজারটি ইজারা দিয়ে জেলা পরিষদ প্রতিবছর রাজস্ব তুলে নিলেও বাজারে উন্নয়নে কখন তারা কাজ করেছে ব্যবসায়ীদের স্মরণেও নেই।

জেলা পরিষদসহ কোনো উন্নয়ন সংস্থা এই বাজারের উন্নয়নে কোনো কার্যক্রম হাতে না নেওয়ায় বাজারটি অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। চেয়ারম্যান ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটির অতি জরুরি সমস্যাগুলো আশু সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

উন্নয়নের গতি বাড়লেও সংঘাত থামেনি

আজ ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি। যা সারা দেশে ‘শান্তি চুক্তি’ নামে সমাদৃত। …

Leave a Reply