নীড় পাতা » বান্দরবান » নাইক্ষ্যংছড়িতে বেইলি সেতু ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক খালে

নাইক্ষ্যংছড়িতে বেইলি সেতু ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বেইলি ব্রিজ ভেঙে পণ্য বোঝাই ট্রাক পড়েছে খালে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় দু’লক্ষাধিক মানুষের। মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সংযোগ সেতুটি ভেঙে যায়।

সওজ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিজিবি ১১ ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টার সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি খালের উপরে স্থাপিত বেইলি ব্রিজ (স্টীল) ভেঙে মাল বোঝাই একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় ব্রিজটি বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। এসময় পণ্য বোঝাই ট্রাকটি খালের নীচে পড়ে যায়। তবে গাড়ির চালক আহত হলেও বড় ধরণের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী মাদরাসা ছাত্র মামুন বলেন, বেইলি ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সঙ্গে গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ও বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় দু’লক্ষাধিক মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সংযোগ সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং কৃষক সকলেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সেতুটি ধসে পড়ায়। দ্রুত সেতুটি পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই বেইলি (স্টীল) ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় ভারি যানবাহন চলাচল করায় ব্রিজটি সংস্কারের অভাবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। বান্দরবান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বেইলি ব্রিজটি ২০১৪ সালের জুলাই মাসে একবার ভেঙে পড়েছিলো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে তখনও দীর্ঘদিন কষ্ট পেয়েছিলো মানুষ। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাহার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে সেতুটি পুনরায় চালু করা হয়েছিলো। এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবিও জনস্বার্থে বেশ কয়েকবার সংস্কার করে সেতুটি। ২০১৪ সালে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর বিজিবির পক্ষ থেকে ভারি যানবাহন চলাচল না করার জন্য একটি নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সেটি পরবর্তীতে আর মানা হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অসাধু কাঠ চোর ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে আইন অমান্য করে অতিরিক্ত পণ্য বহণে ঝুকিপূর্ণ সেতুটি ব্যবহার করছে। এই ব্রিজটি পেরিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দোছড়ি এলাকায় ৯টি বিজিবি বিওপি’তে (নিরাপত্তা চৌকি) যেতে জয় বিজিবি সদস্যদেরও।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচি দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সংযোগ বেইলি ব্রিজটি ভেঙে গেছে। একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যতদ্রুত সম্ভব সেতুটি পুনরায় স্থাপন করা হবে। তবে বেইলি ব্রিজ ভেঙে আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। চট্টগ্রাম জোনের সবগুলো বেইলি ব্রিজই ধাপে ধাপে পাকা ব্রিজে রূপান্তরিত হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়লেন অমর-পূর্ণিমা

আসন্ন রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সির পদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল …

Leave a Reply