নীড় পাতা » বান্দরবান » নবান্ন উৎসবে মেতেছে বমরা

নবান্ন উৎসবে মেতেছে বমরা

পাহাড়ে চাষ করা জুমের ফসল ঘরে তোলার আনন্দে বান্দরবানে থøাইথার (নবান্ন) উৎসবে মেতেছে বম জনগোষ্ঠীরা। জুমে উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, মিষ্টি কোমড়াসহ হরেক রকমের ফসল ঘরে তোলার খুশিতে পাহাড়ি পল্লীগুলোও সেঁজেছে যেন নতুন সাঁজে। বম অধ্যুষিত পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলছে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রার্থনা, ঐহিত্যবাহী বম নৃত্য-গান এবং মজাদার সব খাবারের আয়োজন।

সোমবার বান্দরবানের বালাঘাটায় বিটারিয়ান চার্চে ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও সদরের লাইমি পাড়া, গেজমনি পাড়া, ফারুক পাড়াসহ বম অধ্যষিত পাহাড়ি পল্লীগুলোতে নতুন বছরের জুমের ফসল ঘরে তোলার আনন্দে থøাইথার উৎসবে মেতে উঠে পাহাড়ি বম জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষেরা। ফসল গড়ে তোলার নবান্ন উৎসবকে বম ভাষায় ‘থøাইথার’ বলা হয়।

বম জনগোষ্ঠীরা জানায়, প্রতিবছর বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে জুম চাষের জন্য পাহাড়ে আগুন দেয়া হয়। মে-জুন মাসের দিকে আগুনে পোড়ানো পাহাড়ে জুম চাষ শুরু করে বম জনগোষ্ঠীসহ জুমিয়া পরিবারগুলো। প্রায় ৩/৪ মাস পরিচর্যার পর বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পাহাড়ে উৎপাদিত জুমের ফসল গড়ে তোলা শুরু করে।

এদিকে পাহাড়ে জুম ক্ষেত্রে উৎপাদিত জুমের নতুন ফসল তুলে আনার পর নতুন ধানে তৈরি ভাত, হরেক রকমের পিঠা, জুমের ভুট্টা, মরিচ, যব, সরিষা, মিষ্টি কোমড়া, মারফা, টকপাতা, কলাসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল এক সঙ্গে রেখে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রার্থণা করে বম জনগোষ্ঠীরা। প্রাথর্ণা শেষে উৎসবকে ঘিরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা এবং মজাদার সব খাওয়া-দাওয়া। বম জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা সাঁেজ নিজস্ব পোশাকে। মেতে উঠে থøাইথার উৎসবে। নিজেদের পছন্দের প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এপাড়া থেকে অন্যপাড়ায়। জুমে উৎপাদিত নতুন ফসল পাড়া-প্রতিবেশীর মাঝে বিতরণ করে।

আয়োজক কমিটির সদস্য জাইয়ন লনচেও বলেন, পাহাড়ে চাষ করা জুম ক্ষেতের নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে সামাজিক উৎসব নবান্ন পালন করা হয়। বম জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় এটি থøাইতার উৎসব নামে পরিচিত। এ উৎসবে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে জুমে উৎপাদিত ধান, ভূট্টা, মিষ্টি কোমড়া, মারফাসহ বিভিন্ন জুম ফসল নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে খাওয়া হয়।

বম জনগোষ্ঠীর নেতা জুমলিয়ান আমলাই বলেন, পাহাড়ে করা জুমের ফসল গড়ে তোলার আনন্দে যুগযুগ ধরে থøাইথার উৎসবটি পালন করে আসছে বম জনগোষ্ঠীরা। মূলত হচ্ছে এটি নবান্ন উৎসব। বম ভাষায় নবান্নকে থøাইথার বলা হয়। এটি বম জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য-সংস্কৃতির একটি অংশ। কিন্তু কালের বিবর্তনে নানা কারণে জুম চাষ পরিত্যাগ করে মিশ্র ফল চাষের দিকে যুগছে পাহাড়িরা। তারপরও থøাইতার উৎসবের আমেজ কমেনি। নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রতিবছর জুমের ফসল ঘরে তোলার ব্যস্ত সময়ে নানা আয়োজনে বম সম্প্রদায় থøাইথার উৎসবটি পালন করে। সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে জেলার বম জনগোষ্ঠী অধ্যষিত পাহাড়ি পল্লীগুলোতে নবান্নের এ উৎসব চলবে। এ উৎসবে তারা সৃষ্টিকর্তার প্রতি সন্তোষ্টি প্রকাশ করে ধর্মীয় প্রার্থণা করেন। জুমে উৎপাদিত ফসলের তৈরি হরেক রকমের পিঠাসহ জুমের ফসল প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনের বাসায় বিতরণ করেন। এছাড়াও সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খাবারের আয়োজন করা হয়।

কলেজ ছাত্রী লালসাম কুং বম বলেন, ছোটবেলা থেকে এ শহরে বড় হওয়া। জুমচাষ সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি কখনো। কিন্তু নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরণের উৎসবের আয়োজন দরকার আছে। থøাইতার উৎসবে জুমচাষী আদি পুরুষদের কথা স্মরণ করা হয়। এক জনের জুম ক্ষেতে উৎপাদিত পাড়ার অন্য লোকজনেরা সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খাই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply