নীড় পাতা » ব্রেকিং » নতুন ঘরের অপেক্ষায় লংগদুর ক্ষতিগ্রস্তরা

নতুন ঘরের অপেক্ষায় লংগদুর ক্ষতিগ্রস্তরা

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে লংগদুতে ১৭৬টি ঘর তৈরি করে দিচ্ছে সরকার। ২০১৭ সালের ২ জুন স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকে কেন্দ্র করে লংগদুর চারটি পাহাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এ সকল ঘর তৈরি করা হচ্ছে। ঘর তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। নতুন ঘরে ওঠার অপেক্ষায় আছেন ক্ষতিগ্রস্ত ১৭৬টি পরিবার।

গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ ঘর তৈরির কাজ শেষের দিকে। কিছু ঘরের পলেস্তরার কাজ বাকি আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুরুর দিকে ঘর তৈরির কাজে ধীরগতি থাকলেও বর্তমানে দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে। যদিও গত অর্থবছরেই ঘর তৈরির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় স্কুল শিক্ষক তপন চাকমা বলেন, ‘আমার ঘর সবার আগেই তৈরি হয়েছে, এখন নতুন ঘরেই থাকছি। পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন কষ্ট করে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থেকেছি। নতুন ঘর পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এ শিক্ষক। তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এমন বিপদে সরকার আমাদের পাশে দাড়িয়েছে এতেই আমরা খুশি।’

দুটি শোবার ঘর একটি রান্নাঘর ও বাথরুম এবং বারান্দাসহ এল সাইজের প্রতিটি ঘর তৈরিতে ৫ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১৭৬টি পরিবারের জন্য মোট ৬টি প্যাকেজে কাজগুলো করছে স্থানীয় ঠিকাদাররা।

স্থানীয় ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম জানান, ঘর তৈরির কাজ ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজগুলো দ্রুত শেষ করে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে হস্তান্তর করতে চাই। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে সময়ে কাজগুলো শুরু হয়েছে সেটা মুলত অফ সিজন। এ সময়ে স্থানীয় ইট পাওয়া যায়নি। মিস্ত্রি সংকট ছিলো, এছাড়াও ঘরগুলোর জন্য লোহার দরজা জানালা তৈরি করতেও বেশ সময় লেগেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর তত্ত্বাবধায়নে নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাজ তদারকিতে প্রকৌশলীরা নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে একজন প্রকৌশলী ঘর তৈরির কাজ নিয়মিত তদারকি করছেন। লংগদু উপজেলা প্রকৌশলী কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইচ্ছে ছিলো ডিসেম্বরেই কাজগুলো শেষ করে নতুন বছরের শুরুতে ক্ষতিগ্রস্তদের নিকট হস্তান্তর করা। যদিও তা সম্ভব হয়নি তবে আশা করছি এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করা যাবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি এবং দুই বার টেন্ডার আহ্বানের কারণে ঘর তৈরিতে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছরের গৃহহীন ক্ষতিগ্রস্তরাও ঝুপড়ি ঘরে থেকে মানবেতর জীবন কাটিয়েছে। সকল দুঃখ কষ্টের অবসান শেষে নতুন ঘরে ফিরতে পারলে তবেই সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রবীর কুমার রায় বলেন,‘ বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে লংগদুর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মাণাধীন ঘর তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি এ মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নতুন ঘরে ফিরতে পারবেন।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই : মনিস্বপন

‘এই সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। দেশ ভালো নেই, দেশের মানুষ ভালো নেই। গনতন্ত্র নেই, …

Leave a Reply