‘নজিরবিহীন’ ‘বিরল’ নিয়োগ পরীক্ষা !

BARKALপরদিন সকাল দশটায় মৌখিক পরীক্ষা,অথচ রাত দুটার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা জানেনই না,তারা আদ্যে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হয়েছেন কিনা ! প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীকে রাতভর উদ্বেগ আর টেনশনে রেখে রাত দুইটায় যখন লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হলো,তখন মৌখিক পরীক্ষার সময় হাতে সময় আছে মাত্র ৮ ঘন্টা ! কোথায় ঘুম আর কোথায় প্রস্তুতি ! যা ‘নজিরবিহীন’ !

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের প্রাক প্রাথমিক ও দুই ও তিন স্তরবিশিষ্ট বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৩২৫ টি পদের নিয়োগ পরীক্ষায় এমনসব কান্ডই ঘটেছে। এই পদগুলোর জন্য রাঙামাটির দশটি উপজেলা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক হতে আগ্রহী তরুন তরুনী।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ইতিহাসের সবচে বড় নিয়োগগুলোর একটি এটি। অথচ ‘সমন্বয়হীনতা’ পদে পদে ‘দায়িত্বহীনতা’ এবং ‘অপরিকল্পিত’ সিদ্ধান্তের কারণে বিপাকে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। আর এই নিয়োগেই প্রথমবারের মতো প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য মেয়েদের ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক পাস এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ¯œাতক ডিগ্রিধারি প্রার্থী চাওয়া হয়েছিলো।

শুক্রবার সকাল ১১ টায় পরীক্ষা হবে প্রবেশপত্রে এমন তথ্য থাকলেও,বাস্তবে পরীক্ষা শুরু হয় সাড়ে এগারোটায়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃত এবং ভূয়া পরীক্ষার্থী বাছাইয়ে ছিলোনা কোন সুষ্ঠু তদারকি। ফলে ব্যাপক ভূয়া ও প্রক্সি পরীক্ষার্থী দেখা গেছে প্রায় সব কেন্দ্রেই। এমনকি বরকলের সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনতর চিত্র ছিলো সর্বত্রই। কিন্তু জেলা পরিষদ এনিয়ে খুব একটা সচেতন থাকতে দেখা যায়নি।

শুক্রবার ‘এসসিকিউ’ পরীক্ষা শেষ হলেও খাতা কাটা হয় শনিবার। খাতার কোড এবং বাস্তবের মধ্যে ভিন্নতা থাকার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে খাতা অদল বদলেরও।
শনিবার বিকেল থেকেই বিপুল সংখ্যক ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী,পরীক্ষার্থীদের স্বজনদের জেলা পরিষদের আশেপাশে ভীড় করতে দেখা গেছে। রাত ১০ টায় ফলাফল ঘোষণা করার কথা থাকলেও শেষাবধি নানান টানাপোড়নে সেই ফলাফল ঘোষণা করা হয় রাত দুটায়। খবর রটে,পরিষদের ভেতরে কোটা ভাগাভাগি নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে ‘আমলা’ ও ‘নেতা’ দুটি পক্ষ ! তবে ভেতরের কোন খবরেরই বাস্তব সত্যতা যাচাই করা ছিলো কঠিন।

ঘোষিত ফলাফলেও অদ্ভূত সব বৈপরিত্য দেখা গেছে। ৩২৫ টি পদের বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছে মোট ৭২৭ জনকে,এদের মধ্যে আবার ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটার আর সৃজিত পদের বিপরীতে মাত্র ৩ জন। ৩২৫ জনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষন করলে ৯৫ জন বিবেচিত হওয়ার কথা থাকলেও ডাকা হয়েছে মাত্র জনকে ! সবচে বেশি ১৩২ জন শিক্ষার্থী ডাক পেয়েছেন বরকল উপজেলা থেকে,আবার বিভিন্ন উপজেলার ফলাফল পর্যালোচনা করে অবাক হওয়ার মত কিছু তথ্যও মিলেছে। একই ডিজিটের রোলনম্বরধারিরা ‘ঝাঁকবেঁধে’ টেকার মতো ‘বিরল’ দৃশ্যও দেখা গেছে ফলাফলে। এ থেকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে রাতেই সংশয় প্রকাশ করেছেন বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী। তারা পুরো প্রক্রিয়াকে ‘লাখ টাকার কাজ কারবার’ বলে চিত্রিত করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এটাকে ‘মধ্যরাতের কারচুপি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন !

তবে নিয়োগ কমিটির প্রধান,জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: মুছা মাতব্বর বলেন, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াই কোন প্রকার অনিয়ম,দুর্নীতি ছাড়াই সম্পন্ন হবে। কোথাও কোন টাকা পয়সা লেনদেন নেই,নেই রাজনৈতিক চাপও। যোগ্য এবং মেধাবীদেরই নিয়োগ দেয়া হবে। ঘন্টার মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এটা করতে হয়েছে সময় স্বল্পতার কারণে। তবে প্রথমদিন কাছের উপজেলাগুলোকেই ডাকা হয়েছে। ’ জেলা পরিষদের প্রভাবশালী এই সদস্য আরো বলেন, আমরা অতীতের যেকোন নিয়োগের চেয়ে এবার সেরা ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছি এবং চূড়ান্ত ফলাফলও ভালো হবে, কোন ধরণের অন্যায় বা পক্ষপাতিত্ব হবেনা বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

৬ comments

  1. ভাই যা করা দরকার তা করেন
    দুর্নীতির সুযোগ দিয়েন না

  2. বাংলাদেশের প্রধান নাগরিকদের কাছে আমার প্রশ্ন— আমরা যারা কোন রাজনীতি করি না আমরা কি দেশের নাগরিক না? কেন আমাদের সরকারী চাকুরির সুযোগ দেওয়া হয় না? কেন ক্ষমতাশীলরা সাধারন নাগরিকদের জন্য অনতত ৫০% আসন রাখে না? (যেখানে আমাদের ভোটে তারা বিজয়ি হয়।) হায়রে আমার সোনার দেশ। এখনো সময় আছে, তবে আমরা সাধারন জনগন বাংলাদেশের ক্ষমতাশীল দের নিকট নিযাতিত, সকল রাজনীতিক দলের ক্ষেত্রে এ আচরন হয়ে থাকে কেন? নিরপেক্ষ কি কোন রাজনিতি দল আমাদের দেশে আসবে না? প্রসংগে:— রাংগামাটি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ

  3. প্রতিটি ডিপার্টমেন্টেই লোক দেখানো নিয়োগ পরীক্ষা।চাকরী ক্ষেত্রে ঘুস লেনদেনের ( বানিজ্য) বিরুদ্ধে কি কোন প্রতিকার নেই।

  4. ভাইজান, আপনার আরো নতুন শত্রু তৈরী হইতেছে….আগেতো ছিল মাত্র কয়েকজন এখন কিন্তু অনেক বেশ……অাপনার সম্ভাব্য নবশত্রুদের তালিকা…বৃষকেতু, মুছা, জাকির হোসেন প্রমুখ………….

Leave a Reply

%d bloggers like this: