নীড় পাতা » বান্দরবান » ধ্বংস হচ্ছে পানির উৎস, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

থামছেই না পাথর উত্তোলন

ধ্বংস হচ্ছে পানির উৎস, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

পাহাড়ে পানির উৎস হচ্ছে প্রাকৃতিক ঝর্ণা, ঝিরি, ছড়া এবং ছোট-বড় খাল। কিন্তু পানির উৎস ঝিরি-ঝরনা-ছড়া-খাল থেকে অনুমোদন ছাড়ায় নির্বিচারে প্রাকৃতিক পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধপন্থায় পাথর উত্তোলনের ফলে পানির উৎসগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পার্বত্য জনপদ বান্দরবানে। পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে। অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও প্রভাবশালী মহলের পাথর উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছেই না।

স্থানীয়রা জানায়, জেলার থানচি উপজেলার থাইক্ষ্যং দিনতে পাড়া এলাকায় থাইক্ষ্যং ঝিরি, হৈতং পাড়া এলাকার শিলা ঝিরি, বিদ্যামনি পাড়া, প্রাথা ঝিরি, আইলমারা ঝিরি থেকে থানচি উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনিল ত্রিপুরাসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

এদিকে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়ায় পাহাড়ের প্রাকৃতিক ঝর্ণা, ঝিরি, ছড়া এবং ছোট-বড় খালগুলো থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে ধংস হচ্ছে পানির উৎস স্থলগুলো। শুকিয়ে যাচ্ছে প্রবাহমান স্বচ্ছ পানির জলধারা গুলো। হুমকির মুখে পড়েছে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ। দীর্ঘদিন আগে পাথর উত্তোলন করা ঝিরি-ঝর্ণা-ছড়া-খাল গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সংকট তৈরি হয়েছে আশপাশের পাহাড়ি পরিবারগুলোর। পানির জন্য দূরদুরান্তে ছুটে যেতে হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের। অনেকে ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় পানির জন্য আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে নতুন করে বসতি গড়ছেন বলে জানিয়েছেন গ্রামের কার্বারিরা।

তবে যুবলীগ নেতা অনিল ত্রিপুরা বলেন, প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নাই। ক্ষমতার দাপট দেখিয়েও তুলছি না। অন্যদের মত আমরাও পাথর উত্তোলন করে উন্নয়ন কাজের জন্য ঠিকাদারদের বিক্রি করছি। পাথর উত্তোলনের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত আছে। কিন্তু আমাদের নামটি ছড়াচ্ছে বেশি।

জেলা পরিবেশ ও বন রক্ষা কমিটির সভাপতি জুমলিয়ান আমলাই বলেন, পাহাড়ের ঝিরি,ঝর্ণা, ছোট-বড় ছড়া-খাল গুলো থেকে থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। ভাসমান পাথর উত্তোলন শেষে পানির উৎস স্থলগুলো খোদাই করে মাটির নীচের পাথরগুলো অবৈধ পন্থায় উত্তোলন করছে প্রভাবশালী মহলেরা। ঝিরি-ঝর্নার যেসব এলাকাগুলো থেকে পাথর অপসারণ করা হচ্ছে, সেখানে দ্রুত পানিও শুকিয়ে যাচ্ছে। পাথর উত্তোলন বন্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি এবং জেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেয়ার পরও পাধর উত্তোলন থামানো যাচ্ছেনা। পরিবেশ বিপর্যয় রুখতে পানির উৎস্থ স্থলগুলো রক্ষায় দ্রুত অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম বলেন, পাথর উত্তোলনের কোনো অনুমোদন নেই। দু’বছর ধরে পাথর উত্তোলনের কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়নি। সাত উপজেলার ইউএনওদের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া আছে। কোথায় কোথায় পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে সুনিদিষ্টভাবে প্রশাসনকে জানালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। অনুমোদন আছে বলে যারা বিভ্রান্তকর তথ্য দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পবন চৌধুরীর অনুরোধ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে নির্মাণাধীন পিসিআর ল্যাবে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করতে গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আরও …

Leave a Reply