নীড় পাতা » বান্দরবান » ধীর গতিতে এগুচ্ছে বান্দরবান পার্ক তৈরির কাজ

৩২ মাসেও দৃশ্যমান হয়নি

ধীর গতিতে এগুচ্ছে বান্দরবান পার্ক তৈরির কাজ

শিশুদের বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই বান্দরবান জেলায়। ধীর গতিতে এগুচ্ছে বান্দরবান আধুনিক শিশু পার্ক তৈরির কাজও। দীর্ঘ দুই বছর আট মাস পরও শিশু পার্কটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। পাহাড়ের ঢাল কেটে সমান করা, মাটি ফেলে ঢালু জমি ভরাট করা, মাটি রক্ষায় প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, গেইট নির্মাণ এবং চারপাশের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণে সময় চলে গেছে বত্রিশ মাস। ২০১৭ সালে শিশু পার্কের নির্মাণ কাজের উদ্ধোধন করেছিলেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। ইতিমধ্যে শিশু পার্কটি নির্মাণের পৃথক তিনটি দরপত্রে ব্যয় হয়েছে দেড় কোটি টাকা। ঠিকাদার কাজের সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করে নিলেও দরপত্রে উল্লেখ থাকা অনেকগুলো কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে শিশু পার্কের রাইট এবং অবকাঠামো তৈরির জন্য আরও ৫০ লাখ টাকার টেন্ডারও আহবান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ। ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্সে শিশু পার্ক’টি নির্মাণের পুরো কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার খোরশেদ আলম।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখাগেছে, শিশু পার্কের প্রবেশমুখে বন্য প্রাণীর ২টি ভাস্কর্য তৈরির কাজ এখনো চলমান রয়েছে। মাটি ফিলিং করে পার্কের জায়গাটি সমান করার কাজও অসমাপ্ত রয়ে গেছে। শিশু পার্কের প্রধান গেইট নির্মাণের কাজও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। পার্কের ভিতরে ধাপে ধাপে মাটি আটকে রাখতে ছোট ছোট গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। গাইড ওয়ালের পেছনে বালির বস্তা দিয়ে ফিলিং করার কথা থাকলেও কয়েকটি মাটির বস্তা দিয়ে দায় এড়িয়েছেন। নির্মাণ কাজে ত্রুটি এবং নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ শিশু পার্ক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে বলে দাবী করলেও শিশু পার্কে গিয়ে কোনো নির্মাণ শ্রমিককে পাওয়া যায়নি। তবে গনমাধ্যমকর্মীদের আনাগোনায় সপ্তাহ খানেক ধরে একজন রাজমেস্ত্রী এবং দুজন সহকারী শ্রমিককে ড্রেইনের নির্মাণ কাজ করতে দেখা গেছে। শিশু পার্কের গেইটের মুখে নিম্নমানের ইটের কংক্রিটের দুটি স্টোকের মওজুদ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিশু পার্কটির নির্মাণ কাজও বন্ধ ছিলো বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে গনমাধ্যমকর্মীদের তৎপরতায় নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে শিশু পার্কের।

রাজমিস্ত্রী মোহাম্মদ নাঈম বলেন, ড্রেইনের গাঁথুনি এবং ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে সে এবং তার দুজন সহকারী শিশু পার্কের উন্নয়ন কাজ করছেন। এতদিন তারা অন্য সাইটে কাজ করেছেন।

ঠিকাদার খোরশেদ আলম বলেন, শিশু পার্ক তৈরির পুরো কাজটি আমিই করছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বরাদ্দের টাকা সঠিক সময়ে ছাড় না করায় নির্মাণ কাজ এগুচ্ছেনা। নির্মাণ কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিলো কথাটিও সত্য। দরপত্রের থাকা কাজগুলো এখনো শেষ হয়নি, অনেকটা কাজ এখনো চলমান রয়েছে। কাজের সবগুলো বিল উত্তোলন করিনি। এক কোটি ২০ লাখের মত টাকা বিল পেয়েছি। তিনি বলেন, কাজের নিম্নমানের কোনো সামগ্রি ব্যবহার করা হচ্ছেনা। পার্কের প্রবেশমুখে থাকা নিম্নমানের কংক্রিটগুলোও আমার নয়। পার্শ্ববর্তী সেনাবাহিনীর বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ কাজের। কংক্রিটের কোনো কাজ আমার নেই।

প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে সাঙ্গু নদীর পাড় ঘেঁষে বান্দরবানের বালাঘাটা সড়কে দেড় একর জমিতে একটি আধুনিক শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের মে মাসে শিশু পার্কটি নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। প্রাথমিকভাবে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে শিশু পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও প্রকল্পটির পরিসর আরও বাড়াতে হবে। পরিকল্পিত আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্মৃদ্ধ একটি শিশুদের বিনোদন কেন্দ্র তৈরি করতে আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিশু পার্কে ৮টি রাইড তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাইডগুলো হচ্ছে- বৈদ্যুতিক ট্রেন, সম্মিলিত স্লাইট, মিলটি খেলুন গ্লানড স্লাইড, ঘোড়া চাকা, ঢেঁকিকল, স্পনিগ ঘোড়া, কাউবাইন সুইং, গ্লাইড স্লাইড। ইতিমধ্যে রাইট নির্মাণের জন্য ঢাকা থেকে কয়েকজন অভিজ্ঞ মিস্ত্রীদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। কয়েকজন এসে জায়গাও দেখে গেছে।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইয়াছির আরাফাত বলেন, শিশু পার্ক তৈরির কাজটি ধীরগতিতে এগুচ্ছে কথাটি মিথ্যা নয়। সীমাবদ্ধার কারণে কয়েকটি ভাগে দরপত্রে কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজের গুনগত মানে কোনো ছাড় দেয়া হচ্ছেনা। কাজের বিপরীতে ঠিকাদার দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। রাইট এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আরও ৫০ লাখ টাকার দরপত্র দেয়া হয়েছে। তবে একটি আধুনিক মানসম্মত সুযোগ-সুবিধা সম্মৃদ্ধ শিশু পার্ক তৈরিতে আরও অনেক অর্থের প্রয়োজন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মহালছড়িতে কেবল ওষুধের দোকান ছাড়া সবই বন্ধ

দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমন ঠেকাতে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে প্রশাসন ও সশস্ত্রবাহিনীর …

Leave a Reply