নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ধ্বসে পড়ার ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চান না শিক্ষার্থীরা !

ধ্বসে পড়ার ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চান না শিক্ষার্থীরা !

 

04খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কড়ইতলী রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র এক যুগ আগে। ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার পর স্থাণিয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি)১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরে ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৫৭ টাকা ব্যায়ে বিদ্যালয় ভবনটি পুনঃ নির্মাণ করে। পুনঃ নির্মাণের এক যুগ পার না হতেই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তরা খসে লোহা গুলো বের হয়ে এসেছে। কয়েকটি ভিম বেঁকে গেছে। শিক্ষার্থীরা ভবন ধসে পড়ার ভয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চান না। একটি মাত্র শ্রেণি কক্ষে সমন্বিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেয়া হয়।
সরেজমিন মঙ্গলবার(১৪ মে)উপজেলার দূর্গম কড়ইতলী রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়,চারজন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র একজন শিক্ষক একটি কক্ষে ১১ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান দিচ্ছেন। পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীরা বার বার বিদ্যালয়ের ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। পাঠদান দেয়া শিক্ষিকা জয়া চাকমা জানান,ভবন ঝূকিপূর্ণের কারণে দিন দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। গত বছর শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। এ বছর এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৬৬ জন। তাও অভিভাবকরা দূর্ঘটনার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। বৃষ্টি হলে শ্রেণি কক্ষে পানি পড়ে। ছাদ থেকে বড় বড় পলেস্তরা খসে পড়ে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনি স্বপন চাকমা,চতুর্থ শ্রেণির সুবিকা চাকমা,রবীন চাকমা,রুপা চাকমা বলেন,আমাদের বিদ্যালয়ে ঢুকতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে ভিঁজে যাই। ছাদ থেকে পাকা ভেঙে পড়ে। ভয়ে আমাদের সহপাঠিরা বিদ্যালয়ে আসতে চান না। অনেকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে চলে গেছে।
কড়ইতলী গ্রামের অভিভাবক তুষার কান্তি চাকমা,চম্পা রাণী চাকমা ও ভগ্নজীব চাকমা বলেন,ছেলে,মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। সাভারে ভবন ধসের পর ভয়টা আরও বেড়ে গেছে। আকাশ মেঘলা করলে ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয় থেকে নিয়ে আসি। আমাদের গ্রামের অনেকে আর এ বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের পড়াতে চান না। অন্য বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করে দিয়েছে। বিদ্যলয়টি নির্মাণ হয়েছে মাত্র ১০-১২ বছর হয়। এর মধ্যেই যদি একটি ভবন ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে যায়,তাহলে বুঝন তখন বিদ্যালয় নির্মাণে কত নি¤œমাণের কাজ হয়েছিল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন,আমি গত ৮ মে যোগদান করেছি। এখনো বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হয়নি। তবে দ্রত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্ধ্বত্বন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেবো।
এ প্রসঙ্গে এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার হালদার বলেন,মাত্র ১২ বছরে একটি ভবন ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝূঁকিপূর্ণ হওয়ার কথা নয়। হয়তো তখনকার সময়ে বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণের সময় যথাযথভাবে মনিটরিং ও তদারকি না করার কারণে নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকতে পারে। বিদ্যালয়টি সরেজমিন দেখে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রধান কার্যালয়ে তালিকা পাঠানো হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মহালছড়িতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মনাটেক গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটায় মনাটেক …

Leave a Reply