নীড় পাতা » ফিচার » দ্বীপ পাহাড় কাট্টলী বিল

দ্বীপ পাহাড় কাট্টলী বিল

দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশিকে বলা হয় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। আর এই হ্রদের বৃহত্তম বিল হলো কাট্টলী বিল। রাঙামাটির লংগদুতে যার অবস্থান। পানি পথে পাক্কা দেড় ঘন্টার রাস্তা।

গন্তব্য দ্বীপ কাট্টলী বিল। কাপ্তাই হ্রদের পানি পথ ধরে ছুটছে আমাদের বহনকারী ইঞ্জিন চালিত বোট। বাতাসের ছন্দ পেয়ে পানির ঢেউয়ে দুলছে সেটি। দুলছে হ্রদের পানিতে নেমে আসা রোদ্র্রচ্ছল। পথ যেতে যেতে চোখে পড়বে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। পানিতে হ্রদের বুকে ওড়াউড়ি করছে পানকৌড়ি, শামুকখোল নানা প্রজাতির পাখি। চারপাশে পানি। মাঝখানে একটি দ্বীপ ঘিরেই কাট্টলী বিল। যে দ্বীপের প্রায় মানুষ মংস্য পেশার সাথে জড়িত। হ্রদের মাছ ধরেই চলে তাদের জীবিকা। চাপিলা চিতল, কৈ, রুই, টাকি, বাঘা আইড়, শোলসহ নানা রকম মাছ আর কীটনাশকমুক্ত শুটকি দুটোই পাওয়া যাবে এখানে। ১ মে থেকে শুরু করে আগামী তিন মাস কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

হ্রদের বুকে কোনও কোনও নৌকা থেকে ফেলা হয়েছে জাল। আবার কোনও নৌকায় টেনে তোলা হচ্ছে জাল ভর্তি মাছ। ১৭ হাজার আয়তনের কাট্টলী বিলে প্রায় সাড়ে ৬হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। ১৯৬০ সালে রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধ দেয়ার কারণে জন্ম হয় কাট্টলী বিলের। বিলের মাছ ঘিরে গড়ে উঠেছে শুটকি খোলা।

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের বিশাল জলরাশির বুকে একখন্ড দ্বীপ কাট্টলী। রাঙামাটি শহর থেকে লংগদু অথবা বাঘাইছড়ি উপজেলায় নৌপথে যাওয়ার সময় এ দ্বীপের দেখা মেলে । প্রায় ১০ কি.মি বিস্তৃত কাট্টলী বিলের মাঝে এ দ্বীপের চারপাশের নীল রঙের স্বচ্ছ জল আপনাকে বিমোহিত করবে। আর শীতের মৌসুম অতিথি পাখির ঝাঁক বেধে উড়াউড়ি আপনাকে দেবে বাড়তি আনন্দ । দ্বীপে দাড়িয়ে চারিদিকে দেখা মেলবে জেলেদের মাছ ধরার নানা দৃশ্য। ইচ্ছা করলে নৌকায় চড়ে ঘুরে দেখতে পারেন হ্রদের সৌন্দর্য্য ।

এ দ্বীপকে ঘিরে গড়ে উঠেছে জীবন যাপনের এক অন্যরকম গল্প । ঘর-সংসার ব্যবসা-বানিজ্য সবই যেনো বহমান এখানে। সপ্তাহে একদিন এখানেই পসরা সাজিয়ে বসে উপজেলার নানা প্রান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীরা। জুমের ফসল নিয়ে আসে পাহাড়ি কৃষাণ কৃষানী। চলে দিনভর বিকিকিনি ।

এ দ্বীপের প্রধান কারবার শুটকি তৈরি। কাপ্তাই হ্রদের ছোট বড় নানা প্রজাতির মাছের শুটকি এখানে তৈরি করে চলে যাচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে । মিঠা পানির সুস্বাদু এখানকার শুটকির বেশ সুনাম সারা দেশে। চাইলে সরাসরি এখান থেকেও কিনতে পারেন যে কোনো শুটকি ।

যেভাবে যাবেন: দেশের নানা প্রান্ত থেকে যেসব পর্যটক কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। তাঁরা কিন্তু কাট্টলী দ্বীপ ঘুরে যেতে পারেন অতি সহজেই । রাঙামাটি শহর থেকে রিজার্ভ বোট অথবা এ রুটে চলাচলকারী লঞ্চে উঠে ২ থেকে আড়াই ঘন্টায় পৌছে যাবেন কাট্টলী দ্বীপে। কিংবা প্রথমে খাগড়াছড়ি হয়ে লংগদু উপজেলা আসতে পারেন। লংগদু থেকে নদী পথে দেড় ঘন্টা। সেখান থেকে থেকে এরপর ছোট্ট দ্বীপটি ঘুরে দেখতে বেশি সময়ের দরকার হবে না । ইচ্ছা করলে দুপুরের খাবারটা এখানেই সেরে নিতে পারবেন । এখানকার তাজা মাছের স্বাদ অন্যরকম তৃপ্তি দেবে আপনাকে ।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ডেঙ্গুরোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সারাদেশে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় আর এডিস মশার প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু রোগ থেকে সকলকে …

Leave a Reply