নীড় পাতা » ব্রেকিং » দেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে

দেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গতকাল বুধবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান বাঁধ সংলগ্ন খালী ২৩ একর জায়গার সাড়ে ১৮ একর জায়গার ওপর সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালের ৯ জুলাই। প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে ‘কাপ্তাই ৭.৪ মেগাওয়াট সোলার পিডি গ্রিড কানেকটেড বিদ্যুৎকেন্দ্র’। প্রায় দুই বছর পর চলতি বছরের মে মাস থেকে এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পর বুধবার প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের সরকারিভাবে উৎপাদিত প্রথম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুই দশক ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম এক অশান্ত পরিবেশ ছিলো। যেটা ১৯৭৬-৭৭ সালে শুরু হয়। আমরা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর পার্বত্য এলাকা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগনি। পরে শান্তি চুক্তি করি। শান্তি চুক্তি করার পর পার্বত্য এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আত্ম-সামাজিকভাবে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যথেষ্ট উন্নয়ন করে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছানোর কারণে আত্মসামাজিক উন্নয়ন আরও বাড়বে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে এখনও গ্রিড লাইন যাওয়া কষ্টকর। সেখানে কিছু কিছু সোলার প্যানেল দেওয়া হচ্ছে, আরও ব্যাপকভাবে যেনো প্রত্যেক এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতে আলোয় আলোকিত হয়, সেই ব্যাপারে আমরা কাজ করবো তিন পার্বত্য জেলায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের যেসব জায়গায় স্কুল আছে সেগুলোকে আবাসিক স্কুল করতে চাই। কারণ পাহাড়ে এতো দুর্গম পথ বেয়ে অনেকে পড়াশুনা করতে চায় না। আবাসিক স্কুল থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধা হবে। জেলা প্রশাসকগণ যদি উদ্যোগ নেন তাহলে আমরা প্রতিটি স্কুলে উন্নতির সাথে সাথে আবাসিকভাবে তৈরি করতে চাই।’

ভিডিও কনফারেন্সের সময় রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, সেনাবাহিনী রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার মইনুর রহমান, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় প্রমুখ।

কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আব্দুজ্জাহের বলেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে সূর্যের রশ্মি থেকে এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। সরকারিভাবে দেশে প্রথম সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র এটি। এ প্রকল্পের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ টাকা ৪৮ পয়সা। কাপ্তাই হ্রদের ওপর এই ধরণের ভাসমান অবস্থায় আরও ৫০ মেগাওয়াটের একটি সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার কাজ খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। বর্তমানে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একইভাবে কাপ্তাই হ্রদের ওপর ভাসমান অবস্থায় আরও ৫০ মেগাওয়াটের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পটিরও বাস্তবায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগামী দুই বছর চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেটটিই করপোরেশন এটির দেখভালের দায়িত্বে থাকবে। দুই বছর এটির দায়িত্বে কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের হাতে হস্তান্তর করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাঙামাটি, কাপ্তাই ও লিচু বাগান পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পরেও আরও ২-৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থাকে যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেটটিই করপোরেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ২৪ হাজার ১২টি প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সরকারিভাবে দেশে প্রথম এই সোলার প্যানেলটি স্থাপন করা হয়েছে। এ সোলার প্যানেল থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তা জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এই ইউনিট থেকে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়েছে, যা সোলার চালিত কেন্দ্রের জন্য সন্তোষজন। সৌর প্যানেলগুলোর মেয়াদ ২৫ বছর এবং ইনভার্টারের ওয়ারেন্টি ১০ বছর। পরবর্তীতে এগুলো পরিবর্তন করেও উৎপাদন চালাতে যাবে। আমরা আশা করছি, এ প্রকল্প থেকে আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন সেবা পাওয়া যাবে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

র‌্যাবের স্থায়ী পার্বত্য ব্যাটালিয়নের জন্য ৬৭৭ জনবল

পুলিশ অধিদফতরের আওতাধীন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাংগঠনিক কাঠামোতে একটি স্থায়ী পার্বত্য ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১৫) জন্য …

Leave a Reply