নীড় পাতা » ব্রেকিং » দূর পাহাড়ের আম যাচ্ছে রাজধানীতে

দূর পাহাড়ের আম যাচ্ছে রাজধানীতে

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন বাগানের আশহীন সুস্বাদু মাংসল নানা প্রজাতির আম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়। ঢাকায় চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় বিক্রেতারা লাভের মুখ দেখছেন। তবে করোনা সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কম হচ্ছে বলে জানান আম বিক্রেতারা।

উপজেলার রাবেতা হাসপাতাল প্রজেক্টের বিশাল এলাকাজুড়ে প্রায় ৪০০ আম গাছের বাগানে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বাগানে গোপালভোগ, খীরসাপাত, লেংড়া, মল্লিকা , ফজলি, আশ্বীনি ও আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আম রয়েছে। সুমিষ্ট এসব আম উপজেলার চাহিদা পুরণ করে রাজধানী ঢাকার বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।

আমের পাইকারি ব্যবসায়ী নিপু কুমার দে সাড়ে নয় লাখ টাকায় রাবেতা প্রজেক্টের আম বাগানটি কিনেছেন। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আম পাড়া শুরু করেছেন তিনি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আম পাঠানো হচ্ছে ঢাকার পাইকারি বাজারে। আশা করছেন এ বাগান থেকে ৩০-৩৫ টন আম পাবেন তিনি। যার বাজার মূল্য ২৫-১৮ লাখ টাকা।

নিপু কুমার দে জানান, প্রতিদিন বাগানে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করে। আম সংগ্রহ ও প্যাকেটজাত করার পর ঢাকার যাত্রাবাড়ী পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়। দাম মোটামুটি ভালো। আশা করছি খরচ বাদ দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা লাভ থাকবে।

আম কিনতে আসা স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইখতার উজ-জামান বলেন, রাবেতার আম স্বাদে গুনে সেরা। পোকাবিহীন সুমিষ্ট আম এলাকার মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। স্থানীয়রা নিজেরা এখানকার আম খাচ্ছেন পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মীয় স্বজনের কাছে পাঠাচ্ছেন।

রাবেতা প্রজেক্ট ছাড়াও উপজেলার গুলশাখালী, মারিশ্যাচর, বড়াদম, ইসলামাদ ও হাজাছড়ায় বেশকিছু বড় বড় আম বাগান রয়েছে। উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের মারিশ্যাচর গ্রামে কৃষক বেলাল হোসেনের ৩০ একর জমিতে মিশ্রফলের বাগান। যেখানে বিভিন্ন জাতের ৮ শতাধিক আম গাছ রয়েছে। এবছর বাগানে ভালো ফলন হয়েছে। পাইকারের কাছে বিক্রি না করে নিজেরাই ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে আম পৌঁছে দিচ্ছেন। বাগান মালিক বেলাল হোসেন জানান, খরচ বাদ দিয়ে ৮-১০ লাখ টাকা লাভ হবে।

এছাড়াও গুলশাখালীর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহীমের ৫০-৬০ একর বিশাল এলাকাজুড়ে মিশ্র ফলের বাগান রয়েছে। তিনিও প্রতিবছর আম, লিচু, পেয়ারা বিক্রি করে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাভ করেন। এবছর সঠিক সময়ে স্প্রে করতে না পারায় আমে পোঁকা হয়েছে। তারপরও ৭-৮ লাভ টাকার আম বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি আম ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ঢাকার বাজারে ৮০-৯০ টাকা কেজি। তবে মৌসুমের শেষে দাম আরো বাড়বে বলে জানান বিক্রেতারা।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, লংগদুতে এ বছর ৩০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। করোনা সংকটের মধ্যেও এখানকার আম দেশের বড় বড় শহরে যাচ্ছে। চাষিরা লাভবান হচ্ছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply