নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » দুস্থের সেবায় উৎসর্গিত ‘মানবতার দেয়াল’

দুস্থের সেবায় উৎসর্গিত ‘মানবতার দেয়াল’

পুষ্প মোহন চাকমা

মানুষ মানুষের জন্য। মানুষ যদি মানুষের পাশে না দাঁড়ায় তবে সে মনুষ্যত্বের কোনো মূল্য ও প্রয়োজন নেই। মানুষ বাঁচার জন্য স্বার্থের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেটি কেবল নিজের জন্য নয়। সবার জন্য প্রয়োজন এই স্বার্থ। তাই সার্বজনীন স্বার্থচিন্তা ও রক্ষা করা মানুষের কর্তব্য। শুধু ব্যক্তিস্বার্থের মধ্যে একটি জীবন ও জাতি হয়না। হয় না প্রকৃত শান্তিও। ঠিক তেমনি পৃথিবীতে সবাই প্রকৃত মানুষ না হলেও পৃথিবীর শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমধর্মী মানবতাবাদী উদার ব্যক্তিত্ব অতীতে ছিল এবং বর্তমানেও আছে; বলেই পৃথিবী ও মানব জাতি এখনও টিকে আছে সৌরজগতে। তা না হলে কয়েকটি পরমাণু অস্ত্রই মহাপৃথিবীকে নিমিষে ধ্বংস করতে যথেষ্ট।

বিশে^ আত্মরক্ষার নামে যারা এসব পরমাণু অস্ত্র আবিষ্কার ও লালন করে তাদের দুরভিসন্ধিমূলক মনোভাবকে কায়দা-কৌশলে বা কৌশলগত প্রভাব খাটিয়ে যারা সেই পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার ও প্রয়োগ ঠেকাতে সোচ্চার তারাই পৃথিবীর সেই প্রকৃত মহান মানবতাবাদী প্রতিনিধি ও অভিভাবক। একজন মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব হতে কেবল অর্থের প্রয়োজন হয়না। প্রয়োজন হয় প্রধানতঃ মনের। অর্থের দ্বারা প্রকৃত মানবতা তৈরি হয়না। অর্থ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বরং অহম তৈরি করে মানুষকে অন্ধকারে ধাবিত করে। তবে হ্যাঁ মানবতা আর অর্থ একই বিন্দুতে আবর্তিত হলে সে তো আর কথাই নেই। যা পরমাণু শক্তির চেয়ে অধিক যে শক্তি, সেই শক্তিই উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়।

আর তাই যার যার অবস্থান ও সক্ষমতা থেকে যেটুকু সম্ভব ঠিক সেটুকুই আমাদের মানব কল্যাণে হাত রাখা বা হাত বাড়ানো দরকার। ঠিক এরই আলোকে আর্তমানবতার সেবায় সম্প্রতি বিলাইছড়িতে তৈরি হয়েছে এক মানবতার দেয়াল।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বিলাইছড়ি উপজেলা ইউনিট এর যুব প্রধান ও সাবেক ছাত্রনেতা সৈকত দাশের (রুবেল) সার্বিক তত্ত্বাবধানে সোসাইটির অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে বিলাইছড়ি বাজারে এ মানবতার দেয়াল তৈরি করা হয়েছে।

এ মানবতার দেয়ালে কারো ব্যবহার উপযোগী পুরনো অথবা নতুন পড়নের কাপড় কিংবা অন্যকোনো জিনিসপত্র আগ্রহী কেউ জমা বা দান দিয়ে যেতে পারেন। আর যারা দুস্থ বা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল তারা নির্দ্বিধায় তাদের প্রয়োজনীয় পছন্দের জিনিস এ দেয়াল থেকে নিয়ে যেতে পারবেন। এ দেয়াল থেকে যে তার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যাবেন ইচ্ছে করলে সামর্থ্য সাপেক্ষে সেও এ মানবতার দেয়ালে কিছু দান করতে পারবেন। অর্থস্বচ্ছল সকলের মানবতাবাদী হাত প্রসারিত হলে এভাবে বিলাইছড়ির মানবতার দেয়াল দুস্থদের কল্যাণে সুদূর প্রবহমান থাকবে নিশ্চয়। অপরদিকে আপনার আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ থেকে মানবতা ও উদারতার শিক্ষাগ্রহণ করে মানব কল্যাণে নিবেদিত হতে পারে।

বলা যায়, একটি দুর্গম ছোট্ট মফস্বল উপজেলায় মানবতার সেবায় এটুকু প্রয়াস কোন অংশে ছোট নয়। বিন্দু থেকে সিন্ধু হয়। এক এক করে পরিণত হয় শত, হাজার, লক্ষ আর কোটিতে। তেমনি আমাদের উপজেলার সক্ষম সকলের মহৎ চেতনা ও সহায়তা দ্বারা বিলাইছড়ির ‘মানবতার দেয়াল’ নামের এ ছোট্ট প্রয়াসই হোক ধীরে ধীরে হিমালয় ও এভারেস্ট চূড়া সমতুল্য মহান উঁচুু ও সুদূর প্রসারী এ প্রত্যাশা রাখি। প্রত্যাশা রাখি এ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ হোক সরল ও নির্মলিন। যার ফলশ্রুতিতে অর্থস্বচ্ছল ও দুস্থ সকলের পরস্পরের মাঝে তৈরি হোক একটি মেল বন্ধন, সংবেদনশীলতা আর অকৃত্রিম ভালবাসা।

লেখক: পুষ্প মোহন চাকমা, সাংবাদিক

Micro Web Technology

আরো দেখুন

দীঘিনালায় কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় অনিয়ম

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার উপজেলার মেরুং …

Leave a Reply