নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » দুই মারমা’র মাথ্যাব্যাথার কারণ চাকমা অর্জুন !

দুই মারমা’র মাথ্যাব্যাথার কারণ চাকমা অর্জুন !

kawkhali-coverপার্বত্য শহর রাঙামাটিতে প্রবেশের আগেই কাউখালি উপজেলার মাটিই স্পর্শ করতে হয় সবাইকে,কারণ কাউখালি পেরিয়েই যে শহর রাঙামাটি। সেই কাউখালির উপজেলা নির্বাচনের উত্তাপ তাই স্বভাবতই পাহাড়ী এই শহরেও উত্তেজনার ছাপ ফেলেছে।

আগামী ১৫ মার্চ ৩৬ হাজার ৬৮২ ভোটারের কাউখালি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিন প্রার্থী। এদের মধ্যে আছেন জাতীয় রাজনীতির প্রধান প্রতিদ্বন্ধি দুইদল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী,সাথে আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী,যিনি ভোটে বা জনপ্রিয়তায় ঠিকই বাকী দুই প্রার্থীকে বেকায়দায় ফেলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

আওয়ামী লীগের ব্যানারে প্রার্থী হয়েছেন কাউখালির ফকিছড়ি ইউনিয়নের চারবারের চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নির্বাচনী রাজনীতির সেয়ানা এই রাজনীতিবিদ। এই উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যানও আওয়ামী লীগের,এছাড়া সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে সবচে বেশি ভোট পেয়েছিলেন নৌকা প্রতীকের দীপংকর। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হিসেবে বাড়তি সুবিধার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টিও তার জন্য পজিটিভ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ এর সাথে আর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও সর্বজনবিদিত। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফটিকছড়ির চারবারের চেয়ারম্যান আর বেতবুনিয়ায় নিজের বসতবাড়ীর কারণে এই দুই ইউনিয়নেও স্থানীয় আঞ্চলিকতার সুবিধা পাবেন তিনি। আপাতত: নানান সমীকরণে নির্বাচনের দৌড়ে তিনি এগিয়ে আছেন। তবে জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব যদি ঠিকমতো পড়ে,সেক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন তিনি।

স্থানীয় পোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধানশিক্ষক অমরেন্দ্র রোয়াজা এই উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী। শিক্ষিত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত রোয়াজা রাঙামাটি জেলা বিএনপিরও সহসভাপতি। কাউখালির পুনর্বাসিত বাঙালীদের ভোট ব্যাংক আর মারমা জনগোষ্ঠীর ভোটের একটি অংশ তার জন্য প্লাসপয়েন্ট। তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই উপজেলা সদরের বাসিন্দা। ফলে সদর এলাকার ভোটারদের আবেগি ভোটও পাবেন তিনি। ভোটের মাঠে তাই তিনিও বেশ শক্তিশালী প্রার্থী। আর শিক্ষক হিসেবে সুনামের কারণে তার সাবেক ছাত্ররাও তাদের শিক্ষককে বিজয়ী করতে দল মতের উর্ধ্বে উঠে তাকে ভোট দেবেন বলে আশাবাদী তিনি।

তবে ভোটের মাঠে এসএম চৌধুরী এবং অমরেন্দ্র রোয়াজার জন্য মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অর্জুন মনি চাকমা। ঘাঘড়া ইউপির সাবেক সদস্য এবং ওই এলাকার বাসিন্দা অর্জুনমনি চাকমা তিন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র চাকমা প্রার্থী হওয়ায়, পাহাড়ের জাতিগত রাজনীতির সমীকরণে এই উপজেলার চাকমা ভোট তার বাক্সেই একচেটিয়া পড়ার সম্ভাবনা বেশি। সাথে যোগ হতে পারে জনসংহতি সমিতির নীরব ভোটারদের ভোটও। আবার বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অভিমানী নেতাকর্মীদের ভোটের একটি বিশাল অংশও পাবেন তিনি। ফলে তার বিজয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায়না কোনভাবেই,তার সমর্থকদের বিশ্বাস তিনিই বিজয়ী হবেন এই উপজেলায়। ভোটের নানা সমীকরণ আর জটিলতায় দুই মারমা প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হারিয়ে ভোটের শেষ বিকেলের শেষ হাসিটি হবে অর্জুন মনি চাকমার, এমন দাবি তাদের।

তবে কাউখালি উপজেলা নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে শংকিত স্থানীয়রা। কারণ সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই উপজেলার বেতবুনিয়ার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক জালভোট দিয়েছিলো ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। এবারোও একই পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে বলে শংকা তাদের। ২০ টি ভোটকেন্দ্রর মধ্যে বেতবুনিয়া ৬টি ও কলমপতি’র ৪ ভোটকেন্দ্র নিয়ে শংকার কথা জানিয়েছেন প্রার্থীরাও।

কিন্তু প্রশাসনও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোতাহার হোসেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply