নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দুই কর্মী হত্যার প্রতিবাদ ইউপিডিএফ’র

দুই কর্মী হত্যার প্রতিবাদ ইউপিডিএফ’র

updf-flagখাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোন ছড়া ইউনিয়নের বরইতলীতে দুই কর্মী হত্যার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সমন্বয়ক প্রদীপন খীসা এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, বৈসাবি উৎসবের দিন ১ম দিন এ হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে সন্তু লারমা আবারো প্রমাণ দিলেন তিনি খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ছাড়া আর কোন কিছুই বুঝেন না। যেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ আনন্দ মুখর পরিবেশে বৈসাবি উৎসব পালন শুরু করেছেন সেখানে সন্তু লারমা তার সশস্ত্র গুন্ডাদের লেলিয়ে দিয়ে বৈসাবি উৎসবের সময়ে আবারো খুন-খারাবিতে মেতে উঠেছেন। এর চেয়ে জঘন্য মানসিকতা আর কি থাকতে পারে!

বিবৃতিতে প্রদীপন খীসা এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত উল্লেখ করে বলেন, শনিবার সকালে নতুন কুমার চাকমা ও প্রতুলময় চাকমা খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের বরইতলী নামক স্থানে একটি দোকানে যান। সেখানে তারা স্থানীয় লোকজনের সাথে বৈসাবি উৎসব নিয়ে কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জেএসএস সন্তু গ্রুপে ৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের উপর হামলা করতে এগিয়ে আসলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে তারা দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় সন্ত্রাসীরা তাদের পিছু ধাওয়া করতে করতে চেঙ্গী নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে উপর্যুপুরি ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

বিবৃতিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুন-খারাবি চালানোর মাধ্যমে সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন দানবে পরিণত হয়েছেন। যার কারণে উৎসবের দিনও তিনি খুন-খারাবি করতে কোন দ্বিধাবোধ করছেন না। এই খুনী দানবটি যতক্ষণ পর্যন্ত বেঁচে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ আর সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবে না। বিবৃতিতে তিনি অচিরেই এইসব দানবীয় কর্মকান্ড পরিহার করার জন্য আবারো সন্তু লারমার প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় এর জন্য করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে দুই ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যার সাথে জড়িত সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি এবং খুনী সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণ করে খুন-খারাবির দায়ে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ফুলবিজুর দিন সকালেই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্রাশ ফায়ার করে দুই ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যা করেছে। নিহতরা হলেন নতুন কুমার চাকমা ওরফে কারণ (৪৮) ও প্রতুলময় চাকমা ওরফে রকেট(৩০)। ১২ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নতুন কুমার চাকমা পানছড়ি উপজেলার ছোট পানছড়ি গ্রামের মৃত নলমনি চাকমার ছেলে ও প্রতুলময় চাকমা বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের মাজলঙের ডিপু পাড়ার বসন্ত চাকমার ছেলে। ইউপিডিএফ এই হত্যাকান্ডের জন্য জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করলেও জনসংহতি সমিতি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে,জনসংহতি সমিতি গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী,তারা হত্যা খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।

ইউপিডিএফ এর প্রচার বিভাগের নিরন চাকমা সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফ নেতা প্রদীপন খীসার বিবৃতিটি গনমাধ্যমে পাঠানো হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

অর্থাভাবে বেতন হচ্ছে না বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের

মহামারী নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে …

Leave a Reply