নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » এখনো জেলা কমিটি মানেই দীপংকর-মুছা !

এখনো জেলা কমিটি মানেই দীপংকর-মুছা !

ALদুই সদস্যের জেলা কমিটি নিয়েই নির্বাচনে যাচ্ছে রাঙামাটি আওয়ামী লীগ। কাউন্সিলের একবছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত না হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া এখনো কোনো নেতাই জানেন না তাদের দলীয় পরিচয় কি ! সম্মেলনের পর বছরজুড়ে বিভিন্ন সভা, সমাবেশে প্রটোকল বা সিনিয়রটি নিয়েও সমস্যা দেখা গেছে, তারপরও নানা কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি জেলা আওয়ামী লীগ।

আগামী ৫জানুয়ারি নির্বাচন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য এখন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকই সর্বেসর্বা। যদিও এমনটি মানতে নারাজ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর। তিনি বলেছেন, নতুন পুরাতন সকলকে নিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।

২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। কাউন্সিলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় দীপংকর তালুকদার জয়ী হন।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে হাজি কামাল উদ্দিন ও হাজি মুছা মাতব্বরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে মাত্র ১০ভোটের ব্যবধানে হাজি মুছা মাতব্বর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর পর গত একবছরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। কমিটি ঘোষিত না হওয়ায় ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশী বিভিন্ন নেতাদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিয়েছে, বিরাজ করছে অসন্তোষ,অনেকে প্রটোকল সমস্যার কারণে সভা, সমাবেশে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

পদপ্রত্যাশী এক নেতা ক্ষোভ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু গত একবছরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় নিজের দলীয় পরিচয় নিয়ে সমস্যায় ভুগতে হয়। জেলা বা উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলীয় পরিচয় ছাড়াই উপস্থিত হতে হয়। এসমস্যা প্রায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

মহাজোট সরকারের গত ৫ বছরের শাসনামলের মধ্যে শেষ বছরটি সবচে বেশি সহিংস রাজনীতির মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়, গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলামীর উত্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশে গত একবছর রাজনীতির মাঠ ছিল সরগরম। এই অস্থির সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে মাঠে তেমন একটা দেখা যায়নি।
যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ মাঠে থাকলেও গুটিকয়েক নেতা ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এক হিসেবে মাঠেই ছিল না বললেই চলে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত না হওয়ায় সাংগঠনিক কাঠামো কিছুটা হলেও দুর্বল হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর বলেন, আমরা কেন্দ্রে কমিটি জমা দিয়েছি। রাঙামাটি ছাড়াও বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ আরো কয়েকটি জেলার কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা যতদুর জানি সবগুলো কমিটি একসাথে অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে নির্বাচনের পূর্বে কমিটি ঘোষণা হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি। তিনি দাবি করেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন অসন্তোষ নেই। তবে কমিটি ঘোষণা হলে এসব সমস্যা আর থাকবে না। কমিটি ঘোষিত না হলেও নির্বাচন পরিচালনায় সকলের অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

২ জেএসএস নেতা হত্যার প্রতিবাদে মহালছড়িতে বিক্ষোভ

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সমর্থিত যুব সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২ জনকে হত্যার ঘটনার …

Leave a Reply