নীড় পাতা » পার্বত্য পুরাণ » দীঘির বুকে পদ্ম আর পূর্ণিমায় ভিজে যাবার গল্প : আর বলা হয় না, ভয় হয়, ক্ষোভও…

দীঘির বুকে পদ্ম আর পূর্ণিমায় ভিজে যাবার গল্প : আর বলা হয় না, ভয় হয়, ক্ষোভও…

ভোরের রোদ্দুর আম গাছটিতে পড়তেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। অজস্র মুকুল ধরেছে, সদ্য ফোটা বহু আকাংখিত নবজাতক শিশুর মতো। প্রকৃতির কতো বিচিত্র নিয়মের বিড়াম্বনা নিয়ে মুকুল বেড়ে ওঠে- ঝড়ে পড়ে, ঝড়া শিউলীর মতো। ভোরের ঐ সোনালী রোদ্দুর ভাললাগার সাথে নিয়ে এল প্রতিদিনের চরম বাস্তবতা।
প্রিয় রোদ্দুর আমার, সূর্যের এই আলোক ছটা নির্মমভাবে সত্যগুলোকে উম্মোচন করে, দেখে অবাক হই- ভালও লাগে। তাইতো রোদ্দুর আমার বৃষ্টির মতো প্রিয়। অগ্নিঝরা অর্জনের মার্চ এ দাড়িঁয়ে ভয়ংকর যন্ত্রনা নিয়ে তোমায় লিখছি। আমরা কি হেরে যা”িছ? আমরা শপথ নিয়েছিলাম শহীদদের রক্ত ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত, তাদের স্বপ্ন সাধ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। অধিকারের এক কনা মাটিও ছাঁড়বোনা। এই শপথ আগ্নেয়গিরির জলন্ত লাভার মতো জ্বলছে অথচ সেই লাভা তার সবটুকু স্বরুপ নিয়ে কেন সব জীর্ণতাকে ছাড়খাড় করছে না! কোথায় বাধাঁ বা মরিচিকার হাতছানি…? ভালো নেই আমরা, মেঘ।
জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস থেকে বাসে ফিরছি ক্লান্তি আর ব্যস্ততা নিয়ে। আমার পাশে বসা এক মহিলা, বয়স ২১ বা ২২। কোলে তার ফুটফুটে এক শিশু- গভীর ঘুমে হয়তো রাজকন্যা আর ফুলপরীর সাথেই খেলা করছে। মহিলার চোখে মুখে বিরক্ত-ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তার বলিরেখা স্পষ্ট। হয়তো সংসারের কাজ করে আর সংসারের সব গ্লানী বয়েই দিন কাটায়। আমাকে এই মহিলার কোন বিষয় আলোড়িত করছেনা। ভয়ানক কোন ঘটনা দৈনন্দিন হয়ে গেলে অনুভূতিও ভোঁতা হয়ে যায়। আমার মাঝে তীব্র যন্ত্রনার তৈরী করছে গভীর ঘুমে আ”ছন্ন এই শিশুটি। গুটি গুটি পা দুটো দিয়ে ও আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে। ঐ অতটুকু ধাক্কা আমার সমগ্র সত্তাকে ওলট- পালট করে দিচ্ছে। এই শিশুটিই আমাদের উত্তরাধিকার। আমাদের কাছ থেকেই ও বুঝে নেবে ওর সব অধিকার। অথচ পুরো পৃথিবীটাকেই শিশুটির বসবাসের অযোগ্য করে গড়ে তোলার আয়োজনে ব্যস্ত সবাই। কিভাবে বেড়ে উঠবে শিশুটি? যে মায়ের বুকের দুধ ওর এই মুহুর্তে খুব প্রয়োজন সে মা অপুষ্টি আর হীনমন্যতায় জর্জরিত। যে বাবার শক্ত হাত ধরে ও প্রথম চলতে শিখবে কঠোর পরিশ্রমে ন্যায্য মজুরি না পাওয়ার বিদ্রোহে বজ্র কঠিন ইস্পাত কখনো আবার প্রতিবাদ না জানিয়ে চুপ করে জীবনের গ্লানী নিয়ে বইছে আবার কখনো সে হাত নেশায় বা কারও জীবন নেয়ার জন্য অস্ত্রের খেলায় বিভোর। ভাই-বোন নিয়ে খেলবার কথা থাকলেও দারিদ্রের চরম কষাঘাতে সেই ভাই-বোন বিলাস বহুল জীবনে ব্যস্ত লোকের বাড়িতে তাদের সন্তানদের রাখবার বা ফুটফরমাস খাটবার জন্য চলে গেছে-বয়ে বেড়াচ্ছে পাশবিক নির্যাতন। কখনও খেলার সাথী সেই ভাই-বোন ঘরে ফিরছে লাশ হয়ে। বিচার চাইবার ইচ্ছেগুলো মনের ভেতরই কবর দিতে হয় হাতে পেয়ে পাঁচশ বা হাজার টাকা। কখনোবা মা বিক্রি করে দেয় কোলের সন্তানকে-বিনিময়ে ঘরে আসে মোটা চালের ভাত। এই দেশতো লাখো শহীদের স্বপ্ন ছিল না।
আজ আর কিছুই ভাল লাগছেনা, রোদ্দুর। একটা সুন্দর সমাজ গড়বার জন্য জীবন বাজী রেখে পথে নেমেছি। স্বাধীনতার লাল টকটকে সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনার জন্য যারা স্বপ্ন দেখেছিলেন- জীবন দিয়ে তারা আমাদের হাতে তুলে দিলেন সূর্যটাকে। যতই দিন যাচ্ছে অপরাধের বোঝা বাড়ছে, পারছিনা নবজাতকের অধিকারগুলো বাস্তবায়ন করতে। কিš’ একটুকুও থেমে নেই আমরা, তবু পারছি কৈ বলো? ঐ শিশুদের বোবা চোখগুলোর সামনে আর দাঁড়াতে পারছিনা। শ্রমিকের রক্ত ভেজা টাকায় বিলাস বহুল আয়োজনে মশগুল হয়ে শাসকেরা সিদ্ধান্ত নেয় কল খারখানা বন্ধ করে দেবার, দেশের সম্পদ বিক্রি করার, তেল- ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি করে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায়- তখন মনে হয় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে ওদের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দেই, বাংলা মায়ের আচঁল ছায়ায় ঐ কীটগুলোকে ধ্বংস করে দেই। দেশের জঞ্জাল গুলো সরাবার শক্তি হারিয়ে ফেলছে এ দেশের তরুন যুব সমাজ। নেশা- অস্ত্র- সন্ত্রাস আর পর্ণগ্রফির চরকায় ঘুরপাক খাচ্ছে এদের জীবন। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও লাশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়তে পার্েযছনা গ্রাম বাংলার শ্রমজীবি- মেহনতি কৃষক-কামার, কুমার, জেলেদের সন্তানেরা। আর বিশ্ববিদ্যালয় কার্যতই হারাচ্ছে সর্ব সাধারণের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ডিগ্রিধারী ছেলেমেয়েরা পারছেনা সমাজের মানুষের জন্য এগিয়ে আসতে। শিক্ষাকে বানিজ্যিকীকরণের হাত থেকে বাঁচাতে হবে আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই। নিশ্চিত করতে হবে সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব। ঠিক তখনই সহজ হবে শাষকের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়বার।
প্রিয় মেঘ, মাঝে মাঝে মনে হয় শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সংস্কৃতি কর্মীদের উপর আসা আঘাতকে দ্বিগুন হারে জবাব দিতে। সংস্কৃতিকে ধ্বংসের পায়তারা চলছে। আমাদের ভাষা আজও তার সম্পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে বিকশিত হতে পারেনি। সকল মাধ্যমে বাংলা ভাষার ব্যবহার আজও জোরালো রুপ নেয়নি। অতীত অর্জনের ইতিহাস আজও অবহেলিত। শহীদদের চেতনা আজ দিবসগুলোতে ফুল দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পাঠ্যপুস্তকে আমাদের অতীত ইতিহাস বিকৃত করার ষড়যন্ত্র চারিদিকে। মাঘ-ফাল্গুন-নবান্ন-পৌষ-চৈত্র-বৈষাখ আজ ¤¬ান হতে চলেছে পশ্চিমা সংস্কৃতির দাপটে। সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ধ্বংস করে দিতে তৎপর। গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি- আমার নকশী কাঁথা আজ বিলাসিতার উপকরণে রুপ নিয়েছে। আদিবাসী মানুষের অতি যতেœ লালিত সংস্কৃতও আজ ধ্বংসের গোড়াঁয়। অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই আজ আমাদের লড়তে হবে একসাথে।
প্রিয় রোদ্দুর, সেদিন ঐতিহ্যবাহী ২১’ র বই মেলায় যাবার জন্য তুমি, আমি ও মেহেদী এক সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভিতরে অব্যক্ত আনন্দ, নতুন বইয়ের গন্ধ নেবো, নিজেকে আরো বেশী সমৃদ্ধ করবো। অথচ ক্ষানিক বাদেই সব ¤¬ান হয়ে গেল। বই মেলায় যাবার উৎসুক মানুষের দীর্ঘ লাইনের পাশে ছোট্ট এক শিশু, বয়স ২-৩। একটা ঝুড়িতে চকলেট বিক্রি করছে। ছোট ছোট পা ফেলে হেঁটে যাচ্ছে লাইনের পাশ ঘেঁষে। শিশুটির দৃষ্টিতে কোন কথা নেই। নতুন সব তথ্য দিয়েই যে নিজেকে আপ টু ডেট করা যায় না, তা ঐ শিশুটি বুঝিয়ে দিল। রাস্তার ধারে বড় বড় বিলবোর্ড গুলিতে লেখা-‘১-৫, আমারে সাথে খেলা কর, আমাকে সময় দাও’। অথচ এই শিশু? আমরা তাকে দিতে পারেনি তার কোন অধিকার। ছোট্ট ঐ শিশুর হাত দুটি চকলেট বিক্রির জন্য নয়- ভালবাসা আর আদরের জন্য, এই সুন্দর পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবার জন্য। বছর খানেক আগে একদিন পত্রিকার পাতা খুলে দেখি- শিশুরা প্রতীকি অনশন করেছে, তাদের খাবার দুধের দাম কমানোÍ জন্য। অনেক প্রথিতযষা লোক সেখানে উপস্থিত। ঐ শিশুরা বুঝিয়ে দিল সময়টা এখন আর আমাদের অনুকূলে নয়। অধিকার আদায়ের জন্য পথে নামতেই হবে। যোগ্য, সময়োপযোগি দূর্বার আন্দোলন গড়া ছাড়া এখন আর কোন পথ নেই। বছর দুই হবে, মেঘ। বরিশাল থেকে ফিরছি ঢাকায় ফাল্গুনের কোন এক আগুন লাগা দুপুরে। বাসে বসে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম দীর্ঘক্ষণ। আগুনলাগা রক্ত লাল পলাশ দেখে। ওরা এত লাল কেন? ঐ আগুন ঢেলে প্রকৃতি কি বোঝাতে চায়? আমাদের চেতনার লাল ফিকে হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ঐ লাল রক্তে আগুন লাগায়, মনে হয় ভেঙ্গে চুরমার করে দেই সব। কিš’ পারিনা!!! কেন পারিনা? এই না পারার যন্ত্রনা বহুগুন বেড়ে যায় পলাশ শিমুল আর কৃষ্ণচুড়ার লাল দেখে।
মেঘ, আমাদের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে। অপরিকল্পিত নির্মানাধীন কল কারখানা থেকে বর্জ্য পড়ছে আশে পাশের নদী-নালা খাল বিল, কৃষি জমিতে। নষ্ট হচ্ছে পানি, কৃষি জমি। রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বড় বড় সেতু তৈরীর সময় উচ্ছেদ হচ্ছে সে জনপদের মানুষ, হচ্ছে না পূর্নবাসন। বাড়ছে সমস্যার জাল। বিলগুলো ভরাট করে চলছে নগরায়নের চেষ্টা। শহরের আশে পাশের এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। রাজধানী ঢাকাসহ মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে পরিবেশের সমস্যা সারাদেশের তুলনায় ভিন্নতর। মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা ব্রদ্ধি, গাড়ির কালো ধোঁয়া, খাল- বিল-লেক ভরাট করে নগরায়ন, খোলা উদ্যান- পার্ক বেদখল, বস্তি স্থাপন ও উচ্ছেদ, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় সংকট, পরিকল্পনাবিহীন নগরায়ন, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, ড্রেনেজ সিস্টেম এর অভাব, বিশুদ্ধ পানির অভাব বিরাট সংকট সৃষ্টি করেছে আজ নাগরিক জীবনে। যানবাহনে ডিজেল, তেলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে ও সড়ক আইন মেনে চলার ব্যাপারে সবার সচেতনতা প্রয়োজন। তবে হয়তো পত্র-পত্রিকার সড়ক দূর্ঘটনায় স্বজন হারানোর আর্তনাদের ছবি কম দেখা যাবে। বিদুৎ ও পানি সমস্যা সমাধানে কে এগিয়ে আসবে? সরকার???? শাষকগোষ্ঠী??? না! আমাদেরকেই সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এসব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
বিগত বছরে দেশের সবচে আলোচিত পরিবেশ ইস্যূ ছিলো সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের টেংরাটিলায় দুই দফা বিস্ফোরণ। কানাডীয় কোম্পানী নাইকোর অদূরদর্শীতার ফলে সৃষ্ট এই বিস্ফোরণ বাংলাদেেেশর গ্যাস সেক্টরকে যেমন ধ্বংস করার সাম্রাজ্যবাদী কার্যক্রম হিসেব চিহ্নিত হয়েছে তেমনি এই দূর্ঘটনার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের যে ব্যাপক পরিবেশ সমস্যা দেখা দিয়েছে তার ফল আমাদের জন্য যে শুভ কিছু বয়ে আনবেনা তার ইঙ্গিত আমরা পেয়েছি পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের আলোচনায়। এখন পর্যন্ত আমাদের ৮৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মাত্র ৩ কোটি টাকা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। যদিও তাদের ২৪ ঘন্টার সময় দেয়া হয়েছে, কিš’ ২৪ ঘন্টা কত ঘন্টায় পূর্ণ হবে তা কেবল আমাদের সরকার প্রধানরাই জানে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পরিবেশ সেক্টরের আরো একটি আলোচিত বিষয় ছিলো ভেজাল বিরোধী অভিযান। নানা সীমাবদ্ধতা এবং একসাথে দেশব্যাপী সমন্বিত কার্যক্রমের অভাবের পরও বলা যায় এই কার্যক্রম কিছুটা হলেও মানুষের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছিলো। এতে খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কে একের পর এক বিস্ময়কর সব তথ্য উদঘাটিত হতে থাকে। কিšু— পরবর্তীতে নানা অজুহাতের কারণে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি বলেই তা সাম্প্রতিক কার্যক্রমে দেখা গেছে।
আমাদের দেশের যত্রতত্র ইট ভাটা নির্মাণ পরিবেশ বিপর্যয়কে আরো বেশি তরান্বিত করছে। একদিকে ইট ভাটার অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়া অন্যদিকে ভাটায় পুড়িয়ে নিঃশেষ করা হচ্ছে অপরিপক্ক কচি বৃক্ষ। রাজধানীতে টু স্ট্রোক নিষিদ্ধ করা হলেও ঐ নিষিদ্ধ পরিবেশ বিরোধী টু স্ট্রোক ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। বিশেষ করে একসময়ের মুক্তবাতাসের আর পরিবেশের নির্মল চারণক্ষেত্র মফস্বল শহরগুলোতে মারাত্বক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে এই সব গাড়ী। নদী-নালা খাল-বিল ভরাট করে গড়ে উঠছে আবাসন প্রকল্প । বিশেষত: ঢাকা শহরের আশুলিয়া এলাকায় ব্যাপকভাবে এই আবাসিক প্রকল্পের নামে এই ধরণের পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম এবং এতে বিভিন্ন বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্পৃক্ততার সংবাদ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সমাজ বিকাশের সুনির্দিষ্ট ধারায় মানুষের সংগ্রামের রুপগুলি যুগে যুগে পরিবর্তন হয়েছে। উত্তরাধুনিক বিচ্ছিন্নতা নয়; নয় কোন বিচ্ছিন্ন পরিবেশ আন্দোলন; আন্দোলন হবে বহুমাত্রিক- সংগ্রামের।
রোদ্দুর, নদীমাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ। দেশের এক বিরাট অঞ্চল জুড়ে বি¯তৃত নদ-নদী আমাদের নাগরিক জীবনের সাথে নিবিঢ়ভাবে জড়িয়ে আছে। ভাটি অঞ্চলে অবস্থানের অবিমিশ্র সমস্যা- সম্ভাবনায় ব্যতিব্যস্ত এদেশ। মরণঘাতি ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে প্রতিবেশী বৃহৎ বন্ধু রাষ্ট্র ভারত ২১১২ সালের মধ্যে ৩৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের লম্বা দৈর্ঘ্যরে গোটা দশেক নদীর উপর টিপাইমুখে আন্তঃ নদী সংযোগের প্রকল্ক হাতে নিয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোটের উরৎবপঃরাবং অনুসারে (ভারতের) সরকার ইতিমধ্যে উত্তরাঞ্চলের মরূময় এলাকায় পানি নেয়ার জন্য এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এক্ষেত্রে টঘঊঝঈঙ’ এর নীতিমালার আলোকে বিশ্ব জনমত এবং ভারতেরই দক্ষিনাঞ্চলে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সমন্বিত করে ভারতকে এ কাজ থেকে নিবৃত্ত করা যেতে পারে। অথচ দুঃখজনক হলেও বাস্তব যে, আমাদের সরকার ও তাদের সংশি¬ষ্ট প্রশাসনযন্ত্র নদী- খাল-ছড়া-বিলগুলোকে সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কোথাও কোথাও এইসব নদী, খাল বা হ্রদ রক্ষার দাবীতে বি”িছন্নভাবে আন্দোলন গড়ে উঠলেও এখনো তা সন্তোষজনক পর্যায়ে বা প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে শক্ত কোন আশাবাদী অবস্থানে যেতে পারেনি। ঢাকায় ধানমন্ডি লেক রক্ষা, নারায়নগঞ্জ শহর রক্ষা, আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত ভরাট কাজ, সিলেটের হাকালুকি হাওড়, খুলনায় সুন্দরবন রক্ষা, চট্টগ্রামে কর্ণফুলি, হালদা ও বন্দর বাঁচাও, খাগড়াছড়িতে ছড়া-খাল উদ্ধার আর রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদ রক্ষার দাবীতে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে গড়ে উঠা আন্দোলনকে আরো ব্যাপক মাত্রায় নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই।
মেঘ, বিশ্ব ঐতিহ্য ও আমাদের অহংকার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সুন্দরবন বিশ্বব্যপী আলোচিত। সেখানে ব্যাপক মাত্রায় বৃক্ষ নিধণ, জীব বৈচিত্রের বিলীন হওয়া, পর্যটকের নামে বিলাসী মানুষের আয়েশী উপস্থিতির মাত্রা বৃদ্ধিসহ নানা কারনেই সুন্দরবন আজ ক্রমশ: শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম বনজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থা আরো নাজুক। সেখানে কাঠ ব্যবসার নামে নির্বিচারে গাছ কাটা, জুম চাষের নামে মাইলের পর মাইল প্রাকৃতিক বন পোড়ানো, ব্যাপকভাবে পাহাড় কাটা, পাহাড় ধ্বসে জনমালের ক্ষতি, এমনকি আহত-নিহত হবার মতো ঘটনা, খাদ্যের অভাবে বন্য হাতির লোকালয়ে নেমে তান্ডব চালানো, জ্বালানী কাঠ ব্যবসার নামে পাহাড়ের কচি গাছ কেটে উজাড় করার চিত্র আমরা প্রত্যহ পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে দেখছি।
পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারও নানা সমস্যায় জর্জরিত। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়নের নামে সুষ্ঠ পরিকল্পনাবিহীন এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থে জেটি ঘাট নির্মাণ শুরু হলে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতন মানুষের প্রবল প্রতিরোধে তা শেষ পর্যন্ত ¯’গিত করা হয়। এই এলাকায় অবস্থিত চকরিয়া সুন্দরবন আজ হুমকীর মুখে। চিংড়ি এবং লবণ চাষের ব্যাপকতা বৃদ্ধির ফলেও স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আর দেশের অন্যতম প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন এ বাণিজ্যিকভাবে অনেকগুলো হোটেল-গেস্টহাউজ স্থাপন এবং পর্যটনের অতিরিক্ত চাপ এই এক্সক্লুসিভ এলাকাটিকে সংকটাপন্ন করছে। এই এলাকার পরিবেশ বান্ধব এবং সম্ভাবণাময় প্যারাবন ধ্বংস করা হচ্ছে।
৯১’ এর সোভিয়েত পরবর্তী একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে সাম্যাজ্যবাদী ইঙ্গো-মার্কিনসহ এ৮ এর দেশগুলি পরিবেশ ধ্বংসের এক উৎসবে মেতে উঠেছ্,ে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সম্প্রতিক আফগানিস্তান- ইরাক হামলায় সে দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ এর মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করেছে। যুদ্ধ পরবর্তী বিকলাঙ্গ শিশুর জম্ম বিশ্ব বিবেককে শিউরে তোলে। মানবঘাতী বিজানু অস্ত্র ( ডগউ-ডবধঢ়ড়হ ড়হ গধংং উবংঃৎঁপঃরড়হ) এবং পারমানবিক শক্তির অপব্যবহার বিশ্বের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। উপরš’ বিশ্ব জনমতের বহিঃপ্রকাশ ঈঞইঞ বা কিউটো প্রটোকলে স্বাক্ষর না করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণবাদী রাষ্ট্র সমুহ কাগজ কলমে প্রমান করেছে তারা খুব বেশী সভ্য হতে পারেনি। তাছাড়া অবাধ মুনাফা লুটপাটের ল্পিসু বিশ্বসাম্রাজ্যবাদ এখন এগঙ ভড়ড়ফ এর ব্যাপক উৎপাদন বাজার জাতকরণ এবং তাদের সৃষ্ট ডঞঙ এর মাধ্যমে আইনের ঘেরাটোপে বন্দী করার যে চক্রব্যুহ রচনা করেছে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হুগো শ্যাভেজের মতো লক্ষ কোটি অভিমুন্য প্রয়োজন। সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো পরিবেশ ধ্বংসের প্রচেষ্টায় আমরাও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হ”িছ। এমনিতেই এৎববহ ঐড়ঁংব ঊভভবপঃ এর ফলে উপকুলবর্তী দেশ হিসেবে আমরা বিপন্ন। সমুদ্র পিষ্ঠের উ”চতাভীতিতো আছেই। এর উপর যুক্ত হয়েছে এল নিনো ও লা নিনা (স্প্যানিস শব্দ, অর্থ: ছোট খোকা-খুকি) নামক সামুদ্রিক ঢেউ এর প্রতিক্রিয়ায় দশ বছর অন্তর বিরাট বিরাট বন্যা। নগর পুড়লে দেবালয় অক্ষত থাকে না। তাই ইরাক-আফগানিস্তানের নিপিড়িত জনতাসহ বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন সংগ্রাম হতে হবে যুথবদ্ধ।
মেঘ, আদমজী মিল বন্ধ হয়ে যাবে- খবরের কাগজে এ ধরনের সিন্ধান্ত জানতে পেরে স্তব্ধ হয়ে গেলাম, পরক্ষনেই ক্ষোভে ফেটে পড়লাম। মগের মুল্লুক নাকি এ দেশ?? এক এক করে সব শিল্প কারখানা বন্ধকরে ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। সাড়ে তিন কোটি বেকারের মধ্যে আড়াই কোটি শিক্ষিত বেকার। দেশের জনশক্তি শক্তি না হয়ে বোঝা হচ্ছে। প্রত্যেকের কাজ করার হাত গুলো অথর হয়ে যাচ্ছে। বছর বছর বেকারের সংখ্যা বাড়ছে- তা সামাল দেয়ার কোন বাস্তব পদক্ষেপ নেই উপরš’ হাজার হাজার শ্রমজীবি মানুষকে বেকার করে দেয়া। এদের সাথে জড়িত আরো সহস্র শ্রমজীবির ভাগ্যকে অনিশ্চিত করে দেয়া। তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। আগামী তিমির আধাঁরে ঢেকে যাবে। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ পাটকল আদমজী আর থাকবেনা, থাকবেনা আমাদের সোনালী আঁশ নিয়ে অহংকার। শেষ সিটি বাজল- মিলের। এই সিটিই মিলের শ্রমিকের সবচেয়ে প্রিয় সুর ছিল- আহ্বান ছিল কাজের। আজ সেই সিটিই জীবন আঁধার করে হাজার হাজার শ্রমিকসহ আদমজীর বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। সরকার এখন লোকসানের কারণ দেখাচ্ছে, অলাভজনক খাত বলে বোঝাতে চাচ্ছে। আমাদের অহংকার- আয়ের এত বড় উৎস অলাভজনক হলো কিভাবে? এরকম হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বন্ধ হবার জন্য। খুলনা নিউজপ্রিন্ট, চট্টগ্রাম স্টীল মিল, টংগী ও সিতাকুন্ডের টেক্সাইল মিল সহ অসংখ্য কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে- অনেকগুলো বন্ধের মুখে। হতাশায় জর্জরিত আজ আমাদের শ্রমিক।
রোদ্দুর, আমাদের দেশের বিদেশী মুদ্রা অর্জনের বিরাট অংশ আসে আমাদের রপ্তানীজাত পোষাক শিল্প থেকে। দেশের ৪০০০ হাজার পোষাক শিল্পে কাজ করে ১৮ লক্ষ নারী শ্রমিক ও ২ লক্ষ পুরুষ শ্রমিক। কাক ডাকা ভোরে সে চলে যায়, ফেরে সন্ধ্যা অথবা রাতে। রাত দিন কাজ করে যায় হাতে কটা টাকা আসবে বলে। ঘরে পড়ে থাকে তার সন্তান। বুকে পাথর চেপে কাজ করে যায় দু’মুঠো ভাতের জন্য। সন্তান পায়না আদর বা বেড়ে ওঠার পরিবেশ। শিক্ষা-তাতো বড়লোকের, বড়জোড় প্রাইমারী-অক্ষর চেনা- যোগ বিয়োগ করতে জানা বাস!! আর দরকার নেই। দুধের শিশু মায়ের দুধ পায়না- কৌটার দুধ!? সেতো অলীক কল্পনা। ভাতের মার খেয়ে বড় হয়- ৫/৬ বছরের ভাই বা বোনের হাত ধরে। মালিক ঠিকই শুষে নেয় সবটুকু। সে জানে শুধু কাজ। শ্রমিক ও মালিক দুজনই ভুলে যায় তারা মানুষ। মালিক রুপান্তরিত হয় রক্তখেকো হায়েনায়। প্রতিটি কার খানায় শিশু দিবা যতœ প্রতিষ্ঠা করা আজ মানবতার দাবি। এছাড়াও কারখানায় কাজ করার সুষ্ঠ পরিবেশ, ন্যায্য মজুরী, ক্ষতিপূরণ এসব বিষয়ের উপর আমাদের মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। গত ১৫ বছরে মিল কারখানায় আগুন লেগেছে ২৭ টিতে আর এর ফলে মৃত্যু বরণ করেছে হাজারের মতো মানুষ। এই কারখানা গুলো যেন একেকটি মরণফাঁদ।
আজ থেকে ১৪৮ বছর আগে ১৮৫৭ সালে নিউইয়র্কে সুই কারখানার নারী শ্রমিকরা অমানবিক কর্ম পরিবেশ, কম মজুরী ও দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ করার বিরুদ্ধে মিছিল বের করলে পুলিশ হামলা চালিয়ে বহু শ্রমিককে আহত ও গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আবার ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্ক শহরে পোষাক ও বস্ত্র শিল্পের নারী শ্রমিকরা কর্মপরিবেশের উন্নতি, শ্রমঘন্টা কমানো, শিশুশ্রম বন্ধ, ভোটাধিকারসহ অন্যান্য দাবিতে মিছিল বের করে এবং আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯১০ সালে রডনমার্কের কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তজার্তিক এক সম্মেলনে জার্মান কমিউনিষ্ট নেত্রী ক্লারা জেটকিন শ্রেনী সংগ্রামের রক্তিম চেতনার ভাস্বর ৮ মার্চ দিনটিকে আন্তজার্তিক নারীদিবস হিসেবে পালনের জন্য প্রস্তাব করেন। সেই থেকে ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দেড় শতাব্দী সময় পার হলেও দাবীগুলো আজও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এ বছরে নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘সকল পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে নারীর সম অংশিদারিত্ব চাই’। এই দাবী বাস্তবায়নের দিকে যেতে হলে আমাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ, শিক্ষানীতিতে বৈষম্য, সমাজের চাপিয়ে দেয়া বৈষম্য সব কিছুকেই ঝেড়ে ফেলতে হবে। তাহলেই নারী ও পুরুষ সবটুকু মেধা ও সাধ্য নিয়ে বেড়ে ওঠতে পারবে। তখনই কেবল সকল পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নারীরা এগিয়ে আসতে পারবে। সমাজকে ভেঙ্গে-চুড়ে নতুন সাম্যবাদী সমাজের উপযোগী করতে না পারলে তা কেবলই বিভিন্ন মোড়কে নারীকে হেয় করাই হবে। নারীর সৃজনশীলতা, তার চিন্তা ভাবনা সংবাদ মাধ্যমে ছাপাবে- যোগ্যতার বিচারে জয়ী হয়েই সে তার ভাবনা সবার মাঝে বিলাতে চায়। নারী চায় না বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় তার কোন জায়গা হোক। তা নারীকে অবহেলা করারই নামান্তর। তারা চায়না পত্রিকায় নারীর জন্য একটা বিশেষ পাতা থাকুক- নারীপাতা নামে। ঠিক একই ভাবে বলা যায় যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিৎ। জাতিকে নেতৃত্ব দিতে হলে সবটুকু দেশপ্রেম, সিদ্ধান্ত— নেয়ার ক্ষমতা এবং অটুট মনোবলের অধিকারী, সিমাহীন ধৈর্যের ধারক হয়েই এগিয়ে যাওয়া উচিৎ। ডারউইনের কথাতেই ফিরে যাই, ঝঁৎারাধষ ড়ভ ঃযব ভরঃঃবংঃ- যোগ্যতমের জয়। বাঁচতে হলে সংগ্রাম করেই বাঁচব। টিকে থাকার জন্য বাঁচবার প্রয়োজন নেই। মার্কস যথার্থই বলেছেন “ একটি সমাজ কতটুকু উন্নত, তা নির্ণয় করা সম্ভব সে সমাজের নারী স্বাধীনতার নিরিখে”। আর সে নারী স্বাধীনতা কারও করুনায় আসে না, আসতে পারে না। নিজ যোগ্যতা দিয়ে তা জয় করে নিতে হয়। হেয় করে নারীকে জায়গা করে দেয়ার সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গীকেই আমাদের নারী- পুরুষ উভয়ের এক সাথে পথ চলেই বদলাতে হবে। খুব সহজ ভাষায় পচাঁ গলা এই সমাজটাকেই ভাঙ্গতে হবে। সাম্যবাদী সমাজ গড়তে হবে। তবেই আসবে মানবমুক্তি। নারী মুক্তি নারীর জন্য শুধু নয় মানব মুক্তির জন্যই আজ খুব বেশি জরুরী।
রোদ্দুর, আমাদের শিকড়, নাড়ির বন্ধন কৃষক ভাইয়ের কথা বলতে ভয় হয়, মাথা নত হয়ে আসে। আমাদের কৃষক সারাদিন সোনা ফলা মাঠকে ভালবেসে খেটে যায়- মাটিতে লাঙ্গল দেয়, সেচের ব্যবস্থা করে, বীজ বোনে, যতœ করে নিড়ানী দেয়, সার দেয়। ঘরে ফসল তোলে। ন্যায্য মুল্য পায়না তবু কোন অভিমান নেই, ফসল ফলায়। সরকার দেয় কোন অনুদান উপরš’ সারের দাম বাড়ায়, সারে ভেজাল মেশায়- প্রানপ্রিয় ফসলের মাঠ নষ্ট হয়ে যায়। মাঠে সেচ দেবে- পারেনা, ডিজেলের দাম বাড়ায়। পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি মিথ্যে বলে। দীর্ঘ লাইন ধরে বাড়তি মূল্য দিয়ে ডিজেল কেনে-শেষ পর্যন্ত তাও পায়না বলে হতাশ হয়- আর পারেনা-গর্জে ওঠে, ঝলসে ওঠে, প্রতিরোধ করে। তখন আমাদের রক্ষা আর শৃঙ্খলা প্রদানকারী পুলিশ বন্দুক তাক করে গুলি ছোড়ে। কৃষক শহীদ হয় দাবী আদায়ের লড়াইয়ে-ন্যায়ের লড়াইয়ে। অথচ কৃষক, শ্রমিক,মেহনতি মানুষের কষ্টার্জিত টাকা দিয়েই কেনা হয়েছিল বুলেট-রাইফেল, প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল পুলিশ বাহিনীকে। আর যাদেরকে ভোটে নির্বাচিত করে পাঠানো হয়েছিল সংসদে আমাদের দুঃখ কষ্টের কথা তুলে ধরে তা লাঘবের উপায় বের করতে, তাদের অনুমতিতেই চলে পুলিশের রাইফেল-বন্দুক থেকে বুলট কৃষকের বুকে, তার প্রতিবাদী সত্বাকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য।
প্রিয় মেঘ, এইসমাজকে নতুন ছকে সাজাতে হলে চাই শিক্ষা, বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি। আমাদের বর্তমান কালো আধারে ছেয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ……………? এভাবে আর না। আগামীর জন্য, রক্তঋনের জন্য, শপথের জন্য, স্বপ্নের জন্য, সোনালী রোদ্দুরের জন্য আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতেই হবে। ছিনিয়ে আনতেই হবে আমাদের অধিকার। আমাদের ভবিষ্যত প্রজম্মের জন্য একটি সুন্দর সমাজ- দেশ- পৃথিবী আমাদেরকেই গড়তে হবে। সামনে অনেক যুদ্ধ। এসো হাতে হাত শক্ত করে ধরি, যতটা একসংগে যাওয়া যায়। হয়তো আমি বা তুমি থেমে যাব শত্রুর ষড়যন্ত্রে, সহযোদ্ধা বন্ধুরা এগিয়ে যাবে। কারণ ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে। পিছনে ফিরে দেখতে হবে না, যারা সমাজ পরিবর্তনের শপথ নিয়েছিলাম তারা সবাই হাত ধরেই থাকবো মুক্তিকামীর শক্তি হয়ে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জেসমিন সুরভী’র কবিতাগুচ্ছ

গন্তব্যের পথিক হাস্যরসাত্মক এই পৃথিবীর বুকে, পথিক চিন্তায় মগ্ন থাকে প্রতিটি ক্ষণে! কখনো ঘুরে দাঁড়ানোর …

Leave a Reply