নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দীঘিনালায় লড়াই হবে ত্রিমুখি

দীঘিনালায় লড়াই হবে ত্রিমুখি

Diginala-COverrrrখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সোমবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখি। আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত প্রার্থীর। গত নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা এবং দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের সাথে কথা বলে এরকম ধারনাই পাওয়া গেছে। উপজেলায় ৬৫ হাজার ৮৭৪ ভোটারের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৯ জন। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৩ জন।

গত নির্বাচনে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী ছিলনা। জেএসএস (এমএন লারমা) সমর্র্থিত ধর্ম্মবীর চাকমা ১৫ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। সেসময় ১৮৭ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন আওয়ামীলীগ প্রার্থী হাজি মোঃ কাশেম। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীর সাথে রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক খনিরঞ্জন ত্রিপুরা। আবার বিএনপিতে বিভক্তির কারণে একটি অংশ প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষ্যে। গত ইউপি নির্বাচনে মেরুং ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মোসলেম উদ্দিন। তখন বিএনপি নেতা মোঃ মোশারফ হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। পরে অবশ্য সেই বিদ্রোহী নেতা বিজয়ী হলে আবার তাকে দলে ফিরিয়েও নেওয়া হয়।

এখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে মেরুং ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনকেই। পরাজিত ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন মোশারফ হোসেনের পক্ষ্যে নির্বাচনে প্রচারণা চালালেও ইউপি নির্বাচনে তাঁর ঘনিষ্ট কর্মীরা মোশারফকে মেনে নিতে পারেনি। সে কারণেই বিএনপির উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থীর পক্ষ্যে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি মোঃ কাশেম বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদি দলীয় নেতাকর্মীরা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, গত নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হারলেও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং প্রার্থীর ক্লিন ইমেজের কারণে ব্যাপক জনসমর্থনের সৃষ্টি হয়েছে, তাই এবার বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদি আমরা।

অপর দিকে আঞ্চলিক দল জেএসএস (সন্তু) পক্ষের কোন প্রার্থী নাই। জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফের সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে। দল দুইটির মধ্যে সখ্যতা থাকলেও একজন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো নিয়ে দল দুইটি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। দুই দলই নিজেদের সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করাতে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আর সেক্ষেত্রে ত্রিমুখি লড়াই হওয়াটাই এখন সবার কাছে পরিস্কার।
জেএসএস (এমএন লারমা ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা জানান, গত নির্বাচনে তাদের সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন; জনসমর্থনের কারণে এবারও তাঁদের দল সমর্থিত চয়ন বিকাশ চাকমা ওরফে কালাধন বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন।

ইউপিডিএফের উপজেলা ইউনিট প্রধান কিশোর চাকমা জানান, তাঁদের সমর্থিত প্রার্থী নবকোমল চাকমা গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তি হওয়ায় তাঁর পক্ষ্যে জনসমর্থন সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply