নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দীঘিনালায় মুখোমুখি ইউপিডিএফ-জেএসএস (এমএনলারমা)

দীঘিনালায় মুখোমুখি ইউপিডিএফ-জেএসএস (এমএনলারমা)

03_61344৩১ মার্চ পঞ্চম পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। তবে নির্বাচনে কোন ভাবেই ছাড় দেবেনা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম.এন লারমা)ও। জেএসএস সংসদ নির্বাচনে জোড়ালো ভাবে মাঠে না নামলেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জোড়ালোভাবে মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। অপরদিকে নির্বাচনে নিজ দলের সমর্থিত প্রার্থীকে জেতাতে কাউকে ছাড় বা সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন ইউপিডিএফ। সংসদ নির্বাচনে দীঘিনালায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছিল ১৩ হাজার ৭৫ ভোট আর ইউপিডিএফ প্রার্থী পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৮৯২ ভোট। দীঘিনালায় এবার আওয়ামীলীগ,বিএনপি,জেএসএস(এম.এন লারমা),ইউপিডিএফ ও স্বতন্ত্রসহ চেয়ারম্যান পদে মোট ৯ জন প্রার্থী লড়ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে জেএসএস(এম.এন লারমা) ও ইউপিডিএফ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। প্রার্থী নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাহেঁচড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়,জেএসএস(এম.এন লারমা)সমর্থিত প্রার্থী পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি ধর্ম্মবীর চাকমা ১৫ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সর্বদলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ কাশেম পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ৯১০ ভোট,ইউপিডিএফ’র আংশিক সমর্থন পাওয়া প্রিয়দর্শী চাকমা পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৭৭ ভোট। গত নির্বাচনে বিএনপি’র কোন প্রার্থী ছিল না। এবার বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে। আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ কাশেম। ইউপিডিএফ একক প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নবকোমল চাকমাকে। জেএসএস(এম.এন লারমা)প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে বোয়ালখালী(সদর)ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা প্রকাশ কালাধনকে।

ইউপিডিএফ’র উপজেলা সংগঠক কিশোর চাকমা উপজেলা নির্বাচনের সংগঠনের অবস্থান সর্ম্পকে বলেন,আমরা মূলত: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নেমেছি সংসদ নির্বাচনের ফলকে লক্ষ্য করে। উপজেলা নির্বাচনে আমরা কারও সাথে সমঝোতা করবো না। সংসদ নির্বাচনে আমরা দীঘিনালায় প্রথম হয়েছি। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমাদের সংগঠনের সরাসরি কোন প্রার্থী না থাকলেও আমরা যাকে আংশিক সমর্থন দিয়েছিলাম তিনি ১২ হাজার ৭৭ ভোট পেয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে আমরা সরাসরি প্রার্থী সমর্থন দিয়েছি অবশ্যই আমাদের সমর্থীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামবো। তবে কাউকে চাপ প্রয়োগ করে নয়।

জেএসএস(এম.এন লারমা)পক্ষের দীঘিনালা উপজেলার সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারি তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা বলেন,সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফল আর স্থানীয় নির্বাচনের ভোট এক জিনিস নয়। সংসদ নির্বাচনে আমরা জোড়ালোভাবে মাঠে নামিনি। কিন্তু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোন পক্ষকে আমাদের সংগঠন ছাড় দেবে না। আমরা আমাদের সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই মাঠে নামবো। গত নির্বাচনে অনেক বাধা বিপত্তির পরও আমাদের সমর্থীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আমরা কাউকে চাপ প্রয়োগ করে নয়,জনগণের ভালোবাসা ও মন জয়ের মাধ্যমে আমাদের সমর্থীত প্রার্থীকে বিজয়ী করবো। আর সংগঠনের বাহিরে কেউ নির্বাচন করলে কোন প্রকার বাধা দেয়া হবে না। তবে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ কাশেম বলেন,দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন করতে বলেছে , তাই নির্বাচন করছি। জয় পরাজয় নির্ধারন করবেন জনগণ। গত নির্বাচনে জনগণ আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসা দিয়েছে। সর্বদলীয় প্রার্থী করে দলমত নির্বিশেষে আমার পক্ষে কাজ করেছে,ভাগ্য খারাপ তাই হয়তো মাত্র ১৮৭ ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। এবারও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে নির্বাচন করছি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেন,আমাদের নেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়া জেলা বিএনপি’র বন ও পরিবশে বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা দলের পক্ষ থেকে সবাই তাঁর পক্ষে কাজ করবো।

প্রসঙ্গত,দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন,নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন,পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply