নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দীঘিনালায় কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় অনিয়ম

দীঘিনালায় কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় অনিয়ম

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৪০/৫০জন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, কৃষক তালিকায় যাদের নাম রয়েছে এবং ধান উৎপাদন করেছেন এমন অনেক কৃষক ধান দিতে গিয়ে ফেরত এসেছেন। কোটা পূরণ হয়েছে এমন অজুহাতে তাদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়নি। অথচ যারা জমি চাষ করেনি এমন লোকের নিকট থেকে ধান নেওয়ার ফলে প্রকৃত চাষিরা ধান বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

ইউএনও কার্যালয়ে কৃষক সুধাকর চাকমা অভিযোগ করে বলেন, তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও তাঁর কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়নি। কোটা পূরণ হয়েছে বলে তাঁর ধান নেয়নি খাদ্য গুদাম। নির্বাহী কর্মকতার কার্যালয়ে ছোটমেরুং এলাকার আরেক কৃষক ও মেরুং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ (দক্ষিণ) শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রশিদ একই অভিযোগ তোলে বলেন, ‘একই এলাকার কৃষি তালিকায় ৭০ ক্রমিকে থাকা ইলিয়াছ মোটেই চাষ করেনি। অথচ তাঁর কাছ থেকেও ধান ক্রয় করেছে খাদ্যগুদাম।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয় না করে ব্যবসার জন্য অসাধু উপায়ে অন্যের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করার কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের তালিকায় ইলিয়াছের নামের পাশে তাঁর মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে রিসিভ করেন আশ্রাফ আলী। তিনি নিজেকে ইলিয়াছের ভাই পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ইলিয়াছ দূরে কোনো পাহাড়ির জমি চাষ করেছিল যা স্থানীয়রা জানেন না। এছাড়া আমি মেরুং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ (দক্ষিণ) শাখার সভাপতি। আমার সকল ভাইয়েরা কৃষক, কিন্তু তালিকায় আমার মোবাইল নাস্বার দেওয়া হয়েছে; তাতে সমস্যা কী? আমার ভাই ইলিয়াছ ধান দিয়েছে, তাঁর কোটা পূরণ করার জন্য আমিও তাঁকে ধান ধার দিয়েছি।’

অপরদিকে নির্বাহী কর্মকর্তার কাযালয়ে অভিযোগের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওঙ্কার বিশ্বাষ বলেন, ‘কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে ২০১৩ সালে। তাই অনেকে তালিকায় নেই, এ বছর তালিকা তৈরির সময়ে সকলেই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন। এছাড়া দীঘিনালায় যে পরিমান ধান উৎপাদন হয়েছে, সরকারের ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা তার চেয়ে অনেক কম। তাই সকলের ধান ক্রয় করা হয়তো সম্ভব হচ্ছে না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। অপরদিকে জানতে চাইলে মেরুং খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা পিনাকি দাশ জানান, ‘কে কৃষক আর কে চাষ করছেন সেটিতো যাচাই করার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। কৃষি বিভাগ কর্তৃক দেয়া তালিকার লোক ধান বিক্রয় করতে আনলে আমরা কিনতে বাধ্য।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply