নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দীঘিনালায় ‘অজ্ঞাত’ রোগে এক শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত অর্ধশত

দীঘিনালায় ‘অজ্ঞাত’ রোগে এক শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত অর্ধশত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ‘অজ্ঞাত’ রোগে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের আরও অর্ধশতাধিক শিশু আক্রান্ত রয়েছে। তাদের প্রায় সকলের বয়স ১০ বছরের কম।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ত্রিপুরা অধ্যুষিত দুর্গম রথিচন্দ্র কার্বারি হামসদৃশ রোগে আক্রান্ত হয়ে ধ্বনিকা ত্রিপুরা (০৯) নামের এক শিশু মারা যায়। সে ওই পাড়ার অমি রঞ্জন ত্রিপুরার মেয়ে এবং রথিচন্দ্র কার্বারিপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী।

এদিকে রোববার সকালে মৃত্যুর খবর পেয়ে মেডিকেল টিম সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ উল্লাহ ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার। স্থানীয়রা এ রোগটিকে হাম বললেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া হাম না অন্য কোনো রোগ সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৮/১০দিন আগে থেকে সেখানের শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্তদের শরীরে জ্বর এবং লালগুটি দেখা যায়। দুর্গম এলাকা এবং গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় কেউ চিকিৎসা নিতে পারেনি। তবে স্থানীয়ভাবে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়াচ্ছিলেন। কিন্তু শনিবার ধ্বনিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর পর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর পরপরই রোববার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়।

রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক শিশু নিয়ে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিমের নিকট হাজির হয়েছেন অভিভাবকরা। এর মধ্যে ২/১জন শিশুর শারীরীক অবস্থা খুব ভাল নয়। এর মধ্যে শনিতা ত্রিপুরা (১৭) একই রোগাক্রান্ত হয়ে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। বাকিদের সকলের বয়স ১০ বছরের কম।

সারেন্দ্র ত্রিপুরা (৪০) জানান, তার দুই ছেলে মেয়ে খঞ্জন ত্রিপুরা (০৭) এবং মেরিনা ত্রিপুরা (০৬) হামে আক্রান্ত, স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘লুতি’। স্থানীয় চরণ বিকাশ ত্রিপুরা (৩৮) জানান, স্থানীয়রা সকলেই ছড়া, কুয়া ও ঝর্ণার পানি ব্যবহার করেন। তবে পানি পান করার জন্য অনেকেই তা ফুটিয়ে পান করেন।

স্থানীয় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধ্বনিময় ত্রিপুরা জানান, নিহত ধ্বনিকা ত্রিপুরা তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। সে হামে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা হয়নি; সর্বশেষ তার শরীরের লালগুটিগুলোও শুকিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড জ্বর ছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার জানিয়েছেন, আক্রান্তদের লক্ষণ হামের সাথে মিল রয়েছে; তবে পরীক্ষা ব্যতিত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। আক্রান্তদের মধ্য থেকে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে নিজেদের খরচে পান্থই ত্রিপুরাকে (০৯) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়েছে। এছাড়া এলাকার অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনে সে পাড়াতে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, ঘটনার খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক এবং ওষুধ নিয়ে সেখানে পৌঁছেছেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply