নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » দীঘিনালার সংরক্ষিত বনে তামাক চাষ !

দীঘিনালার সংরক্ষিত বনে তামাক চাষ !

dighinala(khagrachari)-tamaখাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের আওতাধীন হাজাছড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনে এবছরও চলছে তামাক চাষের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যেই বনের ভেতরে গড়ে উঠেছে শতাধিক তামাক চুল্লি। ১৯৮৬ সালে বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে সংরক্ষিত বন এলাকা থেকে রেঞ্জ কার্যালয় ও বিট কার্যালয়গুলো গুটিয়ে আনার পর থেকেই বনগুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সংরক্ষিত বনে এখন আর কোন গাছ নেই। বনের গাছ কয়েকবছর পূর্বেই উজাড় হয়ে গেছে। গাছ লোপাট হওয়ার পর গত কয়েকবছর থেকে এসব বনে চলছে তামাক চাষ। প্রতিবছর তামাক চাষের মৌসুমে সেখানে ভাসমান চাষীরা গিয়ে তামাক চাষ করেন। বনে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য তামাক চুল্লি।
সরেজমিন উপজেলার পাঁচ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের ছোট মেরুং বাজার থেকে নদী পথে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় হাজাছড়া রেঞ্জের আওতাদিন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,উল্টাছড়ি পর্যন্ত নদীর দুই পার্শ্বে সংরক্ষিত বনের মধ্যে তামাক চাষ করার জন্য জমি তৈরি করা হয়েছে। নদীর ধারে তামাকের বীজ ফেলা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে সারি সারি তামাক চুল্লি। বনের মধ্যে অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু দূর পর পর শুধু চুল্লির পর চুল্লি। এখনো পুরোদমে চাষ শুরু না হওয়ায় তামাক চাষ করা চাষীরা সেখানে অবস্থান না করায় তাঁদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের আওতাধীন হাজাছড়া রেঞ্জে সরকারীভাবে বনায়ন শুরু করা হয় ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত। তখন সেগুন,গর্জন,গামার,ছাতিয়ান গাছ রোপন করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর সরকার গেজেট জারী করে ১৯২৭ সনের বন আইন(১৯২৭ সনের ১৬ নং আইন)এর ২০(গ)ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে হাজাছড়া রেঞ্জের ২৯ নং ছোট মেরুং মৌজার ১ হাজার ৭৫০ একর,২৮ নং রেংক্যার্যা মৌজার ৪ হাজার ৬০০ একর এবং ৫৬ নং বড় হাজাছড়া মৌজার ৬ হাজারসহ মোট ১২ হাজার ৩৫০ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষনা করা হয়। এসব সংরক্ষিত বনে এখন আর গাছের কোন অস্তিত্বই নেই।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন,একসময় এখানে বন বিভাগের বিশ্রামাগারও ছিল কিন্তু এখন নেই। বন বিভাগের লোকজন এখানে আসেনও না। ফলে সংরক্ষিত বনে প্রতিবছরই তামাক চাষ হয়। দূর্গম এলাকা হওয়ায় কেউ বাধা দিতেও আসেন না। তামাক চাষের স্বাক্ষী তামাক চুল্লি গুলো। এ বছরও তামাক চাষের জন্য জমি তৈরী করা হচ্ছে। প্রতিবছর ভাসমান চাষীরা এসে তামাক চাষ করে আবার চলে যান বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বার বার চেষ্টা করেও হাজাছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল আলমের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ওনার দুইটি মুঠোফোন নম্বরে কল দিয়েও বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ফজলুল জাহিদ পাভেল বলেন,আমিও সরেজমিনে তামাক চাষের অবস্থা ও তামাক চুল্লি গুলো দেখেছি। সংরক্ষিত বনের মধ্যে তামাক চাষ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিঘ্রই বন বিভাগকে চিঠি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

২ জেএসএস নেতা হত্যার প্রতিবাদে মহালছড়িতে বিক্ষোভ

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সমর্থিত যুব সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২ জনকে হত্যার ঘটনার …

Leave a Reply