নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দীঘিনালার শতাধিক গ্রামে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই

দীঘিনালার শতাধিক গ্রামে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই

waterখাগড়াছড়ির দীঘিনালার শতাধিক গ্রামে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। এসব গ্রামের বাসিন্দারা পাহাড়ী ছড়া ও কূয়ার পানি করেন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ২০১০ সালে তিন নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের ভিতর তারাবুনীয়া গ্রামে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। এক নম্বর মেরুং ইউনিয়নের সীমানাপাড়া গ্রামের আদিবাসীরা গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে নোংরা একটি ছড়ায় গোসল ও সেখান থেকেই খাবার পানি সংগ্রহ করেন।
সরেজমিন সীমানা পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটি ছড়ার নোংরা পানিতে ছোট্ট একটি শিশুকে নিয়ে গোসল করছেন ধনেশ্বর ত্রিপুরা নামে একজন। তিনি জানান,এ নোংরা পানিই আমাদের গ্রামের আশি পরিবারের ভরসা। এ পানিতে গোসল,এ পানিই পান করি। গ্রামের সরমতি ত্রিপুরাসহ কয়েকজন জানান,সকালে জুমে যাওয়ার সময় আমরা পানির কলসি,পাতিল নিয়ে যাই ফেরার সময় ছড়া থেকে পানি সংগ্রহ করে নিয়ে আসি। জন্ম থেকে এ পানিই পান করছি,ভালো মন্দ বুঝিনা। ভিতর তারাবুনীয়া গ্রামের অনুরুপা চাকমা,ধনঞ্জয় চাকমা ও নয়নধন চাকমা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন,্ছড়ার পানি পান করে ২০১০ সালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আমাদের সন্তান মারা গেছে। এ গ্রামে চারজন মারা যায়। গ্রামের মায়াদেবী চাকমা বলেন,পানির সমস্যার কারণে প্রতিবছর আমাদের গ্রামের এমন কোন পরিবার নেই যে পরিবারে ডায়রিয়ার রোগী থাকেনা। আতঙ্কে থাকি পানির কারণে কখন কোন পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। হেডম্যান পাড়া গ্রামের জোৎস্না আক্তার (৪০),নূরবানু,মমতাজ বেগম,নূর জাহান ও গনি মিয়া বলেন,গ্রামে পানির ব্যবস্থা বলতে বাঘাইহাট সড়কে পার্শ্বে পাহাড় ঘামানো একটি চৌবাচ্চার পানি। শতাধিক পরিবার এই পানির ওপর ভরসা। পানি আনতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়।
সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,এক নম্বর মেরুং ইউনিয়নের শিবছড়ি,তৈদুছড়া,বগাপাড়া, বুদ্ধমা পাড়া,রেংক্যার্যা,বাবুছড়া ইউনিয়নের জারুলছড়ি, নাড়াইছড়ি, মনোরথ তালুকদার পাড়া, ধনপাতা, বোয়ালখালী ইউনিয়নের মায়াফাপাড়া, তেভাংছড়া,কবাখালী ইউনিয়নের ২নং কবাখালী, জাম্বুরাপাড়া, ভিতর তারাবুনীয়াসহ শতাধিক গ্রামে বিশুদ্ধ পানির বড় সমস্যা।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব কল্যাণ চাকমা বলেন,গ্রাম গুলোতে পানির সমস্যা যুগ যুগ ধরে। অনেক এলাকায় মাটির নিচে পাথর থাকায় নলকূপ বসানো সম্ভব হয় না। গ্রাম গুলোতে যদি রিং টিউবওয়েল স্থাপন করা যায় তাহলে পানির সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে।
মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন,উপজেলার সব চেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে মেরুং। এ ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামেই বিশুদ্ধ পানির সমস্যা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে আমরা প্রতিবছর চাহিদা পত্র দেই। কিন্তু বরাদ্ধ মেলে মাত্র চার থেকে পাঁচটির মতো।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দীঘিনালার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম সরকার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পানির সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন,অনেক এলাকায় মাটির নিচে পাথর থাকায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। আর আমরা বছরে বরাদ্দ পাই আট থেকে দশটি রিং টিউবওয়েল তা দিয়ে বিশাল এলাকার পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয় না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খাগড়াছড়িতে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

খাগড়াছড়িতে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা …

Leave a Reply