নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দীঘিনালার উপজেলার পরিষদের প্রায় ভবন ঝূঁকিপূর্ণ

দীঘিনালার উপজেলার পরিষদের প্রায় ভবন ঝূঁকিপূর্ণ

dighinala(khagrachari)upazila-complex-risk-buillding1

dighinala(khagrachari)-upazila-complex-risk-buillding2

অর্ধশত বছরের পুরাতন ভবনে ঝূঁকি নিয়ে দাপ্তরিক কাজ করেন কর্মকর্তা,কর্মচারীরা

আকাশে কালো মেঘ হলে দরজা জানালা বন্ধ করে ভবন থেকে বের হয়ে যাই। বুষ্টি হলে পানি পড়ে কাগজপত্র ভিঁজে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত আমরা ঝূঁকির মধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। ভবনের দূরাবস্থার কথা গুলো বলছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অবর্ণা চাকমা। ঝূঁকিপূর্ণ এ ভবনটিতে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়সহ চারটি সরকারি দপ্তর রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের সূত্র মতে উপজেলা পরিষদের ৯টি ভবন ঝূঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব ঝূঁকিপূর্ণ ভবনে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার উপজেলা পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়,পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয় ও সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের দাপ্তরিক কাজ করা ভবনটি অধিক ঝূঁকিপূর্ণ। ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৬০ সালে। তৎকালীণ সময়ে উপজেলা সার্কেল অফিসার(সিও)র দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য। বর্তমানে ভবনটির দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। সামনের অংশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। বৃষ্টি হলে ছাঁদ ছূঁয়ে পানি পড়ে। মৎস্য কর্মকর্তা অবর্ণা চাকমা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিম শরীফ বলেন,জীবনের ঝূঁকি নিয়ে এ ভবনে আমরা দাপ্তরিক কাজ করছি। একবার ঘীঁর্ণঝড়ের সময় ভবনটি কেঁপে উঠেছিল। শুনছি ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। কবে নতুন ভবন হবে কে জানে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের ভবনটিতে রয়েছে সহকারি কমিশনার(ভূমি)র কার্যালয়,উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও সোনালী ব্যাংক। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-খাদ্য পরিদর্শক নীলাবতি চাকমা বলেন,গত বছরের ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে দশ টায় হঠাৎ ভবনের ছাদ বড় একটি পলেস্তরা টিবিলের ওপর আছড়ে পড়ে। আমরা কার্যালয়ের সবাই আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করে বাহিরে বের হয়ে আসি । এ ভবনটি অনেক পুরাতন,কখন দূর্ঘটনা ঘটে এ নিয়ে ভয়ে ভয়ে কাজ করি। উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের আবাসিক(ডরমেটরী)টিও ঝূঁকিপূর্ণ। ভবনে থাকা এলজিইডি’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী অপু বড়–য়া বলেন,ভবনটি ঝূঁকিপূর্ণ জেনেও সেখানে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। ভবনের মেয়াদ নেই,পলেস্তরা খসে পড়ে। বৃষ্টির পানি পড়ে। এ বছর কোন রকম সংস্কার করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্র জানায়, ১৯১৬ সালে ব্র্রিটিশ সরকার দীঘিনালাকে থানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তখন প্রশাসনিক কাজ করার জন্য যে ভবন গুলো নির্মাণ করা হয়েছে তা অনেক আগেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলা অধিকাংশ ভবন ঝঁকিপূর্ণ। ভূমি কার্যালয়,খাদ্য কার্যালয়,সোনালী ব্যাংক,প্রাণী সম্পদ কার্যালয়,মৎস্য কার্যালয়,মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়,পরিসংখ্যান কার্যালয়,সমন্বিত সমাজ সমাজ উন্নয়ন কার্যালয় ঝূঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম চলছে। প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের বাসভবনসহ কর্মচারীদের আবাসিক(ডরমেটরী)টিও ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব ভবন গুলো ভেঙে নতুন ভবন করা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার হালদার উপজেলা পরিষদের প্রায় ভবন ঝঁকিপূর্ণ’র সত্যতা স্বীকার করে বলেন,আমরা ভবন গুলো ভেঙে নতুন প্রশাসনিক ভবন(উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স)নির্মাণের জন্য স্থাণিয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। ভবন গুলো ভেঙে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। তা না হলে যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)পি.কে.এম এনামুল করিম বলেন,আমরা স্থাণিয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি)র উপজেলা প্রকৌশলীসহ ঝূঁকিপূর্ণ ভবন গুলো সরেজমিন দেখে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উর্ধ্বত্বন কর্তপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মহালছড়িতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মনাটেক গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটায় মনাটেক …

Leave a Reply