নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » দীঘিনালার আলোকিত গ্রাম শনখোলাপাড়া

দীঘিনালার আলোকিত গ্রাম শনখোলাপাড়া

Dighinala(Rahaman)Picture-1দীঘিনালা উপজেলার অনগ্রসর গ্রাম শনখোলাপাড়া গ্রাম। এ গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই বর্গা চাষি। অন্যের জমিতে চাষ করাই আয়ের প্রধান উৎস। কিছুদিন আগে বাল্যবিবাহ, কুসংস্কার, নিরক্ষরতা, দারিদ্র্যতা ছিল নিত্যসঙ্গী।
কিন’ বর্তমানে পাল্টাতে শুরু করেছে এ গ্রামের চিত্র। এখন আর বাল্যবিবাহ হয় না, এলাকার শিশুরা বিদ্যালয়ে যায়, সবাই সঞ্চয় করে। আর এসব ক্ষেত্রে কাজ করছে শনখোলাপাড়া কৃষক সমবায় সমিতি। এ সমিতি এখন এলাকার মডেল।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নিরক্ষরতা দূর করা, সকলকে সঞ্চয়ী মনোভাবে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়ে ২০০৭ সালে সংগঠন চালু করা হয়। নাম দেয়া হয় শনখোলাপাড়া কৃষক সমবায় সমিতি। সমিতির সদস্য দশজন হলেও তারা এলাকায় পাড়াভিত্তিক কাজ করছেন। তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন গ্রামবাসী।
ইতিমধ্যে তাদের সঞ্চিত অর্থের মাধ্যমে রাইসমিল চালু, মৎস্য চাষসহ লাভজনক কয়েকটি প্রকল্প শুরু করেছে। গ্রামের মধ্যে এ সমিতি মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামাজিক আন্দোলন
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে জানা। সাক্ষরতার সুফল সম্পর্কে সকলকে অবহিত করা। সমাজের কুসংস্কার দূর করা। সঞ্চয়ী মনোভাব তৈরি করা। আয়বর্ধক কাজে উৎসাহিত করা। মদ পান না করা এবং ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা।
আয়বর্ধক প্রকল্প
বর্তমানে ওই সমিতির দুুই একর বিশিষ্ট দুটি পৃুকুরে মৎস্য চাষ প্রকল্প রয়েছে। পুকুরে মাছ চাষ করা হয়েছে। এদিকে তাদের সমিতির সফলতা দেখে এগিয়ে আসে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন সমবায় সমিতি-(বিআরডিবি)। গত মাসে তাদের দুই লাখ টাকা সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়।
এ ঋণের অর্থ দিয়ে উপজেলার আমতলী বাজারে চালু করা হয় রাইস মিল। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’তি থেকে এ রাইস মিল উদ্বোধন করেন উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান বাবু আনন্দ মোহন চাকমা ও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মিথেন চাকমা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এলাকার বয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতা অর্জন করতে এলাকায় বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা। সামাজিক বনায়ন সৃষ্টি করা। বেকার নারীদের জন্য একটি সেলাই প্রশিক্ষণ চালু করা। একটি কমিউনিটি সেন্টার চালু করা।
স’ানীয় বাসিন্দা সুভোদি চাকমা বলেন, গ্রামের লোকজন সঞ্চয় করতো না। এখন সবাই সঞ্চয় করছে। সমিতির লোকজন পাড়ায় পাড়ায় সঞ্চয়ের সুবিধা সর্ম্পকে ধারণা দিচ্ছেন।পাড়ার ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে।
শনখোলাপাড়া কৃষক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক উষা বরণ চাকমা বলেন, গ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আর বাল্যবিবাহ হয় না। আমাদের কর্র্মকাণ্ডে গ্রামে সাড়া পরেছে। সবাই আমাদের অনুকরণ করছে।
উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মিথেন চাকমার বলেন, শণখোলাপাড়া গ্রামবাসী এবং কৃষক সমবায় সমিতি সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণে যেসব কর্মকাণ্ড করছে তা অনুকরণীয়। পাশের গ্রামের লোকজনও অনুকরণ করছে। কাজের আগ্রহ দেখে এ ঋণ দেয়া হয়েছে। আগামীতে আবারো ঋণ দেয়া হবে।
উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আনন্দ মোহন চাকমা বলেন, শনখোলাপাড়া কৃষক সমবায় সমিতির কাজে আমরা সাধুবাদ জানাই। তাদের কাজে আজ এলাকা থেকে বিভিন্ন কুসংস্কার দূর হয়েছে। আলোকিত হতে চলেছে পুরো গ্রাম।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পানছড়িতে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়িতে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় পানছড়ির লতিবান ইউনিয়নের কারিগর পাড়ায় …

Leave a Reply