নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » থমথমে গাজীনগরে আতঙ্ক কাটেনি

থমথমে গাজীনগরে আতঙ্ক কাটেনি

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার গাজীনগর এলাকায় গুলিতে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আতঙ্কে বন্ধ রেখেছে দোকানপাট। এমনকি সন্তানদের স্কুল, মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছেন না পরিবার। শ্রমজীবি মানুষগুলো যাচ্ছেন না কাজে। এত বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো।

এ ঘটনায় শুরু থেকে বিজিবিকে দায়ী করে আসছিল ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। কিন্তু উল্টো বিজিবি নিহতসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলায় করায় একদিকে যেমন ক্ষুদ্ধ তেমনি আতঙ্কিত। তাঁরা বিজিবির করা মামলায় স্থানীয়দের হয়রানি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, গাজীনগর বাজারে প্রায় ৪০টি দোকান থাকলেও বর্তমানে সব বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি দোকান একটু খোলা রাখলেও অপরিচিত লোক দেখলে আবার বন্ধ করে দিচ্ছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া স্থানীয়রা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এদিকে সাংবাদিক পরিচয় জেনে বেশ কয়েকজন স্থানীয় এগিয়ে এসে কথা বলেন।

স্থানীয় দোকানদার কামাল হোসেন বলেন, বিজিবি মামলা করার পর থেকে দোকান খুলতে ভয় পাই। কখন এসে আমার ধরে নিয়ে যায়। তারপরও সংসারের চিন্তায় বাধ্য হয়ে একটু দোকান খুলেছি। এখানকার প্রায় সাড়ে ৪শ পরিবার এই ঘটনার পর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক সুমন হোসেন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের অনেক পর আমি মাটিরাঙ্গা বাজার থেকে ফিরছিলাম। গাজীনগর আসার পথে বিজিবি গাড়ি যেতে দেখেছি। এখন নাকি বিজিবির করা মামলায় আমিও আসামি। যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে কিনা উল্টো আমাদের ওপর দোষ চাপিয়ে মামলা করেছে। এখন ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। গাড়িও চালাতে পারি না। সব সময় আতংকে থাকি কখন পুলিশ-বিজিবি এসে আমাদের ধরে নিয়ে হয়রানি করে।’

অপর দোকানদার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি দৌড়ে স্পটে যায়। বিজিবি হাবিলদার ইসহাক আলীর গুলিতে পাঁচজন মারা গেছে। ঘটনার পরপরই ইসহাককে নিয়ে প্রশাসনের লোকজন যখন পরিদর্শনে আসে তখনো আমি বলেছি তাঁর নির্দেশে হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এখন ভয়ে আছি কথা বলার কারণে যদি আমাকে হয়রানি করে।’

মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবু বলেন, বিজিবির মামলায় আমাকে ১৬ নাম্বার আসামি এবং আমার বড় ভাই রফিকুল ইসলাম মিন্টুকে সাত নাম্বার আসামি করা হয়েছে। এটি একটি উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত মামলা। হাবিলদার ইসহাক যাদের নাম জানে তাদের মামলায় আসামি করেছে। ঘটনার সময় তিনি খাগড়াছড়ি কোর্টে ছিলেন বলে জানান।

এদিকে ঘটনাস্থলে এখনো ট্রাক্টরসহ পাঁচ টুকরো কাঠ পড়ে আছে। সেখানে শোকাহতদের সমবেদনা জানিয়ে ঝুলছে ব্যানার। রাস্তা দিয়ে যারা যাতায়াত করছেন একবার হলেও এদিকে তাকাচ্ছেন। ঘটনাস্থলের পিছনে গুলিতে নিহত মফিজ মিয়ার ঘর। সেখানে গিয়ে কথা হয় মফিজ মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের সাথে।

তিনি বলেন, ঘটনার শুরুতে পাঁচ টুকরা গাছ পরিবহনে বিজিবি সদস্যরা বাধা দেন। এসময় হাবিলদার ইসহাক গাছগুলো বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এতে অপারগতা জানালে মফিজ মিয়াকে মারধর করে। এসময় আলী আহম্মেদ প্রতিবাদ করে বিষয়টি মুঠোফোনে ভিডিও করতে গেলে তা কেড়ে নিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়। সে ক্ষুব্ধ হয়ে গুলি করলে করে দিতে বলেন। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাবিলদার ইসহাককে প্রথমে আলী আহম্মেদকে গুলি করে। তারপর মুছা মিয়া, আলী আকবর, মফিজ মিয়া, মোঃ হানিফকে গুলি করে।

তিনি আরো বলেন, ‘আলী আহম্মেদকে গুলি করার পরপরি বিজিবি সদস্য শাওন খান হাবিলদার ইসহাক আলীর অস্ত্র ধরে কে বাধা দিতে গিয়ে বলেন, ওস্তাদ এটা কি করতেছেন? এসময় ইসহাক তাকেও গুলি করে ঘটনাস্থলের পাশের নিচের জায়গায় ফেলে দেন। কিন্তু সবাই বলছে বিজিবি-গ্রামবাসী সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে কোন সংঘর্ষ হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

গুলিবিদ্ধ হানিফ মিয়ার স্ত্রী, ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আমাদের ওপর গুলি করে বিজিবি আমাদের আসামি করে মামলা করেছে। এলাকার সবাই শ্রমজীবি। দিনে এনে দিনে খাই। হয়রানির ভয়ে অনেকে কাজ করতে না পেরে কিস্তি পরিশোধ করতে পারছে না। আমরা বিজিবির করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই।

এদিকে শুক্রবার নিহত মফিজ মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া হাবিলদার ইসহাক, নিহত শাওনসহ ৪০ বিজিবির ৬সদস্যকে আসামি করে মামলা করেছেন।

মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মো. শামছুদ্দিন ভূইয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে। আমরা গুরুত্বসহকারে মামলাগুলো তদন্ত করছি। আমরা কাউকে হয়রানি করবো না। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিব। তিনি স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর অনুরোধ জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply