নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ত্রিপুরা গরয়া নৃত্যে নাচবে পাহাড়

ত্রিপুরা গরয়া নৃত্যে নাচবে পাহাড়

Goroiya-Cover-01ত্রিপুরা সমাজে গরয়া নৃত্য এক ধরনের লোক নৃত্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রধানতম সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব বৈসুককে কেন্দ্র করেই গরয়া নৃত্য করে থাকেন। বৈসুক শুরু হয় বর্ষ বরণের দিন থেকে। আর বৈসুক শুরু হবার এক সপ্তাহ আগেই সাধারনত গরয়া নৃত্যের দল বেরিয়ে পড়েন পাহাড় থেকে পাহাড়ে। পাহাড়ী পল্লীর ঘরে ঘরে।
ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় এই লোক নৃত্য ‘গরয়া’ এখন নিজেদের মাঝেই সীমাবন্ধ নেই। ইদানিং অন্যান্য পাহাড়ী জনগোষ্ঠি ও বৃহত্তর বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির কাছেও এ নৃত্য এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

কিভাবে গরয়া নৃত্য…
বিশিষ্ট ত্রিপুরা সংস্কৃতি গবেষক রাজিব ত্রিপুরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব বৈসাবি‘তে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গরয়া নৃত্য এক পরিচিত সংস্কৃতি। বৈসুকের অন্তত এক সপ্তাহ আগ থেকে কমপক্ষে ১৬ জনের ত্রিপুরা নারী-পুরুষ বেরিয়ে যান পাহাড়ী পল্লীতে। প্রতিটি ঘরের উঠোনে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের গরয়া নৃত্য পরিবেশন করেন। শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বয়সী একজনের কাধে থাকে শুল। পতাকার মতো করে শুলে বাধা থাকে একটি খাদি। শুলটি যে ঘরের আঙ্গিনায় বসানো হবে, সেখানেই চলে বিচিত্র ও আনন্দঘন পরিবেশে গরয়া। এভাবে চলে গ্রামের পর গ্রাম।
শহরের হাদুকপাড়ার পূর্নমনি কার্বারী বলেন, গরয়া নৃত্যের দল ঘরের আঙ্গিনায় এলে ঘরের মালিক নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন এবং তারা উদার চিত্তে গরয়া দেবতার পুজার উদ্দেশ্যে পুজা দেন এবং মানস করে শিল্পীদের জন্য সাধ্যমত চাউল, গৃহপালিত পশু, টাকা এমনকি মদও দিয়ে থাকেন। garaya-danc-04
উন্নয়ন সংগঠক ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব মথুরা ত্রিপুরা বলেন, মূলত: গ্রামবাসীর কল্যাণ ও মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যেই হাজার বছর ধরে ত্রিপুরা সমাজে বিশেষ এই নৃত্যের মাধ্যমে গরয়া দেবতার প্রতি পূজা অর্চনা করা হয়ে থাকে। আর গরীব ধনী সব ত্রিপুরাই যেন এ পুজা করা থেকে বঞ্চিত না হন; সেজন্যই প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে গরয়া করা হয়।

নৃত্যের উল্লেখযোগ্য অন্তত ২২টি মূদ্রার মধ্যে চাংখা কানাই, খলাপালনাই, তকসাবালনাই, মাইকিসিল নাই, তাকরু তাই নাই, তুলা কানাই, খুল খুক নাই, রিসু নাই, নাগুইবিরনাই, মাতাই খুলুমনাই প্রভৃতি পরিবেশন করা হয়ে থাকে।
মেয়েরা রিনাই রিচাই, গলায় মূদ্রার মালা এবং ছেলেরা ধুতি মাথায় গামছা বাধেন।
পুরো গ্রামে গরিয়া শেষ করে মানসের প্রাপ্ত জিনিসপত্রগুলো সামনে নিয়ে গরয়া দেবতার পুজোও করেন শিল্লীরা।
একবছর গরায়ায় অংশ নিলে টানা তিন বছর ধরে এটা করতে হয। অন্যথায় তার অমঙ্গল বা মৃত্যুর আশংকা থাকে বলে বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। garaya-danc-02

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গার গুমতি, বাইল্যাছড়ি, তবলছড়ি, খাগড়াছড়ি সদরের হাদুকছড়া, বাঙ্গালকাঠি, দীঘিনালার পোমাংপাড়াসহ জেলার ত্রিপুরা অধ্যূষিত এলাকায় বৈসুক উৎসবকে উপলক্ষ করে এই নৃত্য পরিবেশন করা হয়ে থাকে।
এছাড়া বান্দরবানে উসুই ত্রিপুরারা এবং রাঙামাটির গর্জনতলীতে ফুল বৈসুক দিনে ঘটা করে গরয়া নৃত্য পরিবেশন করা হয়। তবে তিন পার্বত্য জেলার ত্রিপুরাদের গরয়া নৃত্যের ধরনে কিছুটা বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। তবে ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক প্রথা এবং উৎসবের আমেজের মিল ঠিকই অভিন্ন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান কুজেন্দ্রের

কভিড-১৯ মহামারী উত্তরণে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য …

Leave a Reply