নীড় পাতা » ব্রেকিং » তৃতীয় শ্রেণিতেও মাতৃভাষায় বই পাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা

কাল বই উৎসব

তৃতীয় শ্রেণিতেও মাতৃভাষায় বই পাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা

ফাইল ছবি

১ জানুয়ারি বছরের প্রথম দিন বই উৎসবে নতুন করে তৃতীয় শ্রেণিতেও মাতৃ ভাষায় বই পাবে রাঙামাটির চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা। ২০২০ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় শ্রেণিতে মাতৃ ভাষায় বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও গেল বছরের তুলনায় নতুন শিক্ষাবর্ষে বই বিতরণের সংখ্যা কমেছে। ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে জেলায় মোট ৮৩ হাজার ৫০৯টি বই বিতরণ করা হলেও এবার বিতরণ করা হবে ৬৭ হাজার ৭০৮টি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে রাঙামাটির দশ উপজেলায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের মাতৃ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিকে ২৯ হাজার ২৫২টি, প্রথম শ্রেণিতে ২০ হাজার ৭৭৪টি ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩৩ হাজার ৩৮৩টি মাতৃ ভাষার বই দেওয়া হয়। ২০২০ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিকে ১৭ হাজার ৯৪০টি বই বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে চাকমা ভাষায় ১৪ হাজার ৭৪, মারমা ভাষায় ২ হাজার ৭৫৬ ও ত্রিপুরা ভাষায় ১ হাজার ১৫০টি বই দেওয়া হবে। প্রথম শ্রেণিতে ১৯ হাজার ৩৫০টি বই বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে চাকমা ভাষায় ১৫ হাজার ১৭৮, মারমা ভাষায় ৩ হাজার ২৭৯ ও ত্রিপুরা ভাষায় ৮৯৭টি বই বিতরণ করা হবে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২২ হাজার ৬৪১ টি বই বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে চাকমা ভাষায় ১৮ হাজার ৫২৫, মারমা ভাষায় ৩ হাজার ২৬৭ ও ত্রিপুরা ভাষায় ৮৪৯ টি বই বিতরণ করা হবে। এবছর নতুন করে শুধুমাত্র মাতৃ ভাষায় একটি বিষয়ে বই দেওয়া হবে ৭ হাজার ৭৭৭টি। এরমধ্যে চাকমা ভাষায় ৬ হাজার ২৯৭, মারমা ভাষায় ১১৩৭ ও ত্রিপুরা ভাষায় ৩৪৩টি।

শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ শিক্ষায় রাঙামাটির দশ উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিকের ২০ হাজার ৭৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৪০ হাজার ১৫৬টি বই বিতরণ করা হবে। প্রথম শ্রেণিতে ১৭ হাজার ৪০ শিক্ষার্থীর মাঝে ৫১ হাজার ১২০টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৬ হাজার ৭০৪ শিক্ষার্থীর মাঝে ৫০ হাজার ১১২টি, তৃতীয় শ্রেণির ১৬ হাজার ৫৫০ শিক্ষার্থীর মাঝে ৯৯ হাজার ৩০০টি, চতুর্থ শ্রেণির ১৬ হাজার ৫০ শিক্ষার্থীর মাঝে ৯৬ হাজার ৩০০টি ও পঞ্চম শ্রেণির ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে ৯২ হাজার ১৯০টি বই বিতরণ করা হবে। সর্বমোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৪ লাখ ২৯ হাজার ১৭৮টি বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল বাহাদুর ছেত্রী বলেন, মাতৃ ভাষায় বই দেওয়া সরকারের অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। আগে শিশুরা মাতৃ ভাষার অক্ষরও চিনতো না। তখন তারা মাতৃ ভাষার অক্ষর চিনতে পারছে, পড়তে ও লিখতে পারছে। এতে করে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা নিজেদের ভাষাকে রক্ষা করতে পারবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, সরকারের উদ্যোগে ২০১৭ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা মাতৃ ভাষায় পড়তে পাচ্ছে। প্রথমে প্রাক-প্রাথমিকে হলে পর্যায়ক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি মাতৃ ভাষায় বই দেওয়া হয়েছে। এবছর নতুন করে তৃতীয় শ্রেণিতে শুধুমাত্র বাংলা বিষয়ে মাতৃ ভাষায় বই দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার দশ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ পাঠক্রম ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃ ভাষার বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ১ জানুয়ারি বই উৎসবের মধ্য দিয়ে বই হাতে পাবে শিশুরা।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৪৭ বছরে ২০১৭ সাল থেকে দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পড়াশোনার জন্য বই বিতরণ করে সরকার। তখন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, এবং সাদ্রি এই পাঁচ ভাষায়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষাভাষি শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক বই পায়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণি, ২০১৯ সালে দ্বিতীয় শ্রেণি ও ২০২০ সালে তৃতীয় শ্রেণিতেও বই পাচ্ছে না শিশুরা। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃ ভাষায় পড় পারবে দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিশুরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

এমন ঈদ কখনোই দেখেনি আলীকদমের মানুষ

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এল খুশির ঈদ। তবে এবছর ঈদ এলেও বান্দরবানের আলীকদম …

Leave a Reply