নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ‘তারা কতটুকু শক্তিশালী তা আমি দেখে নেবো’

‘তারা কতটুকু শক্তিশালী তা আমি দেখে নেবো’

Untitled-1-copy‘আজকে অনেক বাধা বিপত্তি উপক্ষো করে আপনারা আজ এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। অনেক হুমকি ধমকি দেয়া হয়েছে। সব কিছু উপক্ষো করে আপনারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন তাই ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর যারা আপনাদের এই সমাবেশে না আসতে ভয়ভীতি দেখিয়েছে তারা কতটুকু শক্তিশালী তা আমি দেখে নেবো। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা মনে সাহস রাখবেন। আপনাদের পাশে আমি আছি।’-এভাবেই সমাবেশে আসা জনজোয়ারকে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখার এক পর্যায়ে এভাবেই পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফকে ইঙ্গিত করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জেলা রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ির একাধিক স্থানীয় নেতার সাথে কথা বলেও জানা গেছে,ইউপিডিএফ এর এই আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত,প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে পূর্ব নির্ধারিত ৯ ও ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় পিসিপির সম্মেলনের অনুমতি প্রথমে দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তীতে ১৩টি শর্তে দু‘দিনের এই সম্মেলনের অনুমতি দিয়েছিল প্রশাসন। প্রশাসনের শর্তসাপেক্ষে দেয়া অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও ১১ নভেম্বর সড়ক অবরোধ ঘোষণা করে। অবরোধ পালনকালে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জনসভায় আসার পথে সাধারন মানুষকে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আসার পথে এবং যাওয়ার পথে দীঘিনালা,পানছড়ি,মহালছড়িসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গাড়ী বোমা নিক্ষেপ,গুলি ও গুলতি ছোড়া,আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অন্ততঃ বিশজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা এইসব হামলার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন।

পানছড়ির কুলিনপুরে অবরোধ সমর্থকরা পুলিশকে বহনকারী একটি চাঁদের গাড়ীতে আগুন দিয়েছে। এসময় অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের ছোড়া গুলতিতে পুলিশের ২ সদস্য আহত হন।
এছাড়া জেলার মহালছড়ি সড়কের চম্পাঘাট এলাকায় অবরোধকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের উদ্দেশ্যে আসা ২টি গাড়ী ভাংচুর করে। শহরের কৃষি গবেষনা এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে আসার সময় গাড়ী বহরে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।

অভিযোগ উঠেছে,রাতে বিভিন্ন পাহাড়ী গ্রামে জনসভায় যোগ দিলে মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও গাড়ী বহরে গুলি চালানোর হুমকী দেয়ায় প্রত্যন্ত পাহাড়ী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার সকাল থেকেই থেকে পানছড়ি-খাগড়াছড়ি,মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি ও রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কর্মীরা ব্রীজের পাটাতন তুলে এবং রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করে। অবরোধ সরানোর সময় পানছড়ির ভাইবোনছড়া এলাকায় পুলিশ বহনকারী একটি চাঁদের গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নালকাটা এলাকায় পানছড়ির ইউএনও’র গাড়ীতে ইট-পাটকেল নিক্ষপ করে। রামগড়ের হাফছড়ি এলাকায় জনসভামুখী গাড়ী বহরে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে পানছড়ির নালকাটা এলাকায় ফাঁকা গুলি ছুড়ে গ্রামবাসীদের মধ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। মাটিরাঙ্গা ও বাইল্যাছড়ি এলাকায় জনসভা মুখী গাড়ী বহরে হামলা চালিয়ে ৪ জনকে আহত করে। দীঘিনালার পোমাংপাড়া এলাকায় একটি চাঁদের গাড়ী ভাংচুর করে। এছাড়া দীঘিনালার চোংড়াছড়ি,বাবুছড়া,৪ মাইল,৫ মাইল এলাকায় গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। কৃষি গবেষনা এলাকায় ৮/১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৩টি গাড়ীর চাকা ক্ষতিগ্রস্থ করে।

রাতে জনসভা থেকে দীঘিনালায় ফেরার সময় একটি গাড়িতে পেট্রোল বোমা মারে দুর্বৃত্তরা,একই সময় গাড়ীতে গুলি ও গুলতি নিক্ষেপ করে। এ হামলায় ৬ জন দলীয় নেতাকর্মীসহ এক চালক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার জন্য আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ইউপিডিএফ’কে দায়ী করেছে আওয়ামী লীগ।

ইউপিডিএফ এর অবরোধের কারণে রওনা দিয়েও পথ থেকেই ফিরে আসতে বাধ্য হন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মুছা মাতব্বর,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি,সম্পাদকসহ বেশকিছু নেতা। সাধারন সম্পাদক মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন,ইউপিডিএফ আজ যা করেছে তা সকল গনতান্ত্রিক আচার আচরণ ও শিষ্টাচার বিরোধী। রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচী যারা বানচাল করতে চায় তারা আর যাই হোক গনতান্ত্রিক শক্তি হতে পারেনা। ইউপিডিএফ এর আচরণ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে ইউপিডিএফ মুখপাত্র মাইকেল চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন,আমাদের পূর্বঘোষিত অবরোধ ছিলো,জনগণ সেই অবরোধে স্বতস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেছে। কোথায় কারা হামলা করলো সেটা আমরা জানিনা। তবে এই ধরণের কোন হামলার সাথে আমরা জড়িত নই।

দেড় দশক বছর আগেও ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি সাক্ষরের পর অস্ত্র সমর্পনের দিন ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে চুক্তির বিরোধীতা করে বিক্ষোভ করার মধ্য দিয়েই জন্ম হয়েছিলো ইউপিডিএফ’র। সেই সময়ও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আবারো খাগড়াছড়ি এসে বিরূপ পরিস্থিতি দেখে এবং শুনে ক্ষুদ্ধ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়াও ছিলো তাই বেশ ঝাঁঝালো।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখান করেছে ৮ পাহাড়ী সংগঠন
সোমবার দুপুরে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রত্যাখান করেছে ইউপিডিএফ সমর্থিত ৮টি পাহাড়ী সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে ৮ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্যকে, সস্তা বাহবা কুড়ানোর নি¤œস্তরের ফন্দিফিকির হিসেবে আখ্যায়িত করে আরও বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের প্রধান দাবি বাঙালি জাতীয়তা নয় নিজস্ব জাতিসত্তার স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে সেনা ও বহিরাগত প্রত্যাহার, কল্পনা চাকমা অপহরণ সহ এ যাবৎ সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের হোতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ…এসব মূল দাবি পাশ কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফাঁকা আওয়াজ জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনগুলো হলো গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি, সাজেক নারী সমাজ, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ও প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মহালছড়িতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মনাটেক গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটায় মনাটেক …

Leave a Reply