নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » তাবুর নিচে পুলিশ, চলছে থানা পুননির্মাণের কাজ

তাবুর নিচে পুলিশ, চলছে থানা পুননির্মাণের কাজ

thana-pic-01খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি থানায় বুধবার সকালে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর এখন চলছে জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে থানার পুননির্মাণের কাজ। বুধবার রাত থেকে সেনাবাহিনীর দেয়া ৫টি তাবুর নিচে রাত্রিযাপন করেছে মানিকছড়ি থানা পুলিশ। এদিকে বুধবার দুপুর থেকে সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সদস্যদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। বৃহষ্পতিবার রাত থেকে সৈনিকেরা নিজেরাই রান্না করে খাবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত,গত বুধবার সকাল ৭টার দিকে শর্টসার্কিট থেকে মানিকছড়ি থানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে অস্ত্রাগার, হাজতখানা ও সৈনিকদের ব্যারাক। আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে ৬৫টি অস্ত্র ও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ। এদিকে আগুনে পোড়া গোলাবারুদের বিকট শব্দে উপজেলাজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পরে। এই আগুন থেকে শুধু রক্ষা পান থানার অফিস কক্ষটি। ঘটনার পরপরি ছুটে যান প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমান জানান, এই অগ্নিকান্ডে অনেক ক্ষতি হয়েছে। সবাই সহযোগিতা করছে বলেই দ্রুত ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। তাদের পক্ষ থেকে থাকার জন্য ৫টি তাবুঁ দেয়া ও ৮০ পিচ কম্বল দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাৎক্ষনিক মানিকছড়ি থানা পুননির্মাণের জন্য কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এদিকে পুলিশ সদস্যদের রেশন অগ্রিম পাঠানো হয়েছে। পাঠানো হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শারমিন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৫০টি কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে ব্যারাক ভবন নির্মান কাজ শেষ করা হবে। যেহেতু সামনে নির্বাচনে পুলিশের সহযোগিতা লাগবে, তাই দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। সেনাবাহিনী থেকে ৮০টি কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা পুলিশ সদস্যদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।thana-pic-02
মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্তী জানান, আগুনে পুলিশ ও পাবলিকের ৬৫টি অস্ত্র ও সাড়ে ৪ হাজার গোলাবারুদ পুরে নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৮টি চাইনিজ রাইফেল, ৫টি এসএমজি, ৫টি শর্টগান, ২টি এলএমজি, ২৩টি এসএমজির ম্যাগজিন, ১০টি এলএমজির ড্রাম ম্যাগজিন। এছাড়া পাবলিকের ১৫টি একনলা বন্দুক, ২টি দুই নলা বন্দুক, ২টি পয়েন্ট টুটু বন্দুক, ১টি রিভলবার ও মামলার আলামত সংক্রান্ত ৩টি বন্দুক। পাহাড়ী এলাকায় নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত অস্ত্র মজুদ রাখা হয়। সেগুলোই মুলত আগুনে পুড়েছে। আর অবরোধে দায়িত্ব পালনের জন্য ভোরেই পুলিশ সদস্যরা নিজেদের অস্ত্র নিয়ে বের হয়েছেন। তাই নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অস্ত্রের কোন সংকট নেই বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেচ সুবিধার আওতায় কৃষক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শুকনো মৌসুমে চাষযোগ্য জমির প্রায় অর্ধেকের মতো খালি পড়ে থাকে সেচের অভাবে। …

Leave a Reply