নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে ৭ উপজেলার জীবন

ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে ৭ উপজেলার জীবন

lakeগ্রীষ্মের তাপদাহ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানি ছাড়তে গিয়ে এবং টানা বৃষ্টিহীনতায় কাপ্তাই হ্রদে পানি দিন দিন কমে যাচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদে পানি কমতে থাকায় হ্রদের মধ্যখানে জেগে উঠছে ডুবোচর। হ্রদে পানি কম থাকায় জেলার সাত উপজেলায় নৌ যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় যাত্রিবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে জেলার কয়েক লাখ মানুষ। চর এড়াতে লঞ্চ, বোটগুলো ঘুরে যেতে সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচও বেশি হচ্ছে।

রাঙামাটির দশ উপজেলার মধ্যে সাত উপজেলায় নৌ পথে যোগাযোগ রয়েছে। তবে এর মধ্যে দুইটি উপজেলা কাপ্তাই ও নানিয়ারচরে সড়ক পথে যোগাযোগ থাকলেও বাকী উপজেলারগুলোর একমাত্র মাধ্যম লঞ্চ কিংবা বোট। অন্যদিকে বাঘাইছড়ি ও লংগদুতে জেলার সাথে সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ না থাকলেও খাগড়াছড়ি দিয়ে এই দুইটি উপজেলায় যাওয়া যায়। সে হিসেবে বাকী তিন উপজেলা বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নৌ পথ। কিন্তু পানি কমতে থাকায় এই তিনটি উপজেলায় যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। লঞ্চ, তারপর ছোট বোট আবার ছোট বোট এভাবেই পার হতে হচ্ছে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা। তাও আবার দীর্ঘ পথ হেঁটেই। অন্যদিকে বাঘাইছড়ির সাথে নৌ যোগাযোগ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। খাগড়াছড়ির ওপর সড়ক পথে বাঘাইছড়িতে যেতে হচ্ছে। নৌ পথে রাঙামারি লঞ্চ ঘাট থেকে বোটে দুরছড়ি পর্যন্ত যাওয়ার পর সেখান থেকে মোটর সাইকেলে বাঘাইছড়ি যাওয়া যাচ্ছে। যা খুবই সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়সাধ্য। লংগদুতে স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে সাড়ে তিন ঘণ্টা থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগলেও বর্তমানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগছে। এরপরও দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে। উপজেলাগুলোতে পরিবহন সঙ্কটের কারণে এলাকায় খাদ্য ঘাটতি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে হিমশিম খাচ্ছে চাষিরা। উপজেলাগুলোতে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুনেরও বেশি। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের দীর্ঘ পথ হেঁটে পণ্য আনা নেওয়া করতে হচ্ছে।

কাপ্তাই হ্রদে রুলকার্ভ অনুসারে এসময় পানির স্তর ৮০ এমএসএল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পানির স্তর এর চাইতে প্রায় ৪ এমএসএল কম রয়েছে। বৃষ্টিপাত না হওয়া, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানি ছেড়ে দেওয়া ও গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিকের চেয়ে কম পানি রয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরনের বৃষ্টিপাত না হলে হ্রদের আরো দুরাবস্থা হবে বলে মনে করছেন সংশি¬ষ্টরা।

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় যাত্রী লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। লংগদু উপজেলায় ১০ কিলোমিটার নিচে নেমে গেছে কয়েকদিনের মধ্যে আরো নিচে নেমে আসবে। বরকল উপজেলায় হরিনা, ছোট হরিণায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বর্তমানে সে উপজেলায় বরকল সদর পর্যন্ত লঞ্চ পৌঁছে। এদিকে জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় পুরোপুরি লঞ্চ পৌঁছে না। যেকোনো সময় এসব উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেইলি সেতু ভেঙে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান প্রধান সড়কের সিনামা হল এলাকার বেইলি সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক …

Leave a Reply