নীড় পাতা » ব্রেকিং » ডুবুরি নেই রাঙামাটি ফায়ার স্টেশনে !

ডুবুরি নেই রাঙামাটি ফায়ার স্টেশনে !

উদ্ধার অভিযান ফাইল ছবি

ষাটের দশকে কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলীতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিলো। কৃত্রিম এই কাপ্তাই হ্রদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধারও। এই হ্রদকে ঘিরে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সৌন্দর্য্য বিস্তীর্ণ, একে ঘিরে গড়ে ওঠেছে স্থানীয় পর্যটন শিল্প। প্রতিবছরই এই পর্যটন শিল্প থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে নানামাত্রিক ভাবেই। কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় ফায়ার স্টেশনগুলোতে নেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি।

সূত্রে জানা গেছে, জেলার দশউপজেলার সবগুলোর মধে স্থায়ীভাবে নির্মিত ফায়ার স্টেশন আছে মাত্র রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাইয়ে। তবে লংগদু ও রাজস্থলী উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। অন্য উপজেলাগুলোতে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। তবে হ্রদ বেষ্টিত এই জেলায় নেই কোনো নৌ-ফায়ার স্টেশন। জেলায় শুধু মাত্র লংগদু উপজেলায় নির্মানার্ধীন ফায়ার স্টেশনে চারজন ডুবুরির পদ আছে। যেখানে সাম্প্রতিককালে একজন ডুবুরিকে পোস্টিং দেয়া হলেও তিনি বর্তমানে আছেন প্রশিক্ষণে। বাকি স্টেশনগুলোতে প্রশিক্ষিত ডুবুরি থাকাতো দূরের কথা ডুবুরির পদও নেই।

এমন পরিস্থিতিতে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে যেসব পর্যটক আসেন তাদের যেকোনো ধরণের নৌ-দুর্ঘটনায় কাপ্তাই থেকে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল আসা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ডুবুরির অভাবে দুর্ঘটনার সাথে সাথে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। শুধু পর্যটক নয় ভরা বর্ষায় উজানের ঢলে কোনো স্থানীয় মানুষ ভেসে যাওয়ার খবর এলে, সেখানেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে না ফায়ার স্টেশন।

সুশীল সমাজের মতে, ফায়ার স্টেশনগুলোতে প্রশিক্ষিত ডুবুরির সংযোজন করা হলে, হতাহতের সংখ্যা অনেক কমানো যেতো। যেখানে গত শুক্রবার কাপ্তাই হ্রদে নৌ-দুর্ঘটনায় কাপ্তাই থেকে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল আসার অপেক্ষে না করে, রাঙামাটি ফায়ার স্টেশনের স্বল্পঅভিজ্ঞ ডুবুরিদের জেলা প্রশাসক একেএম মামুুনুর রশিদ নির্দেশনা দিয়ে পানিতে নামানোয়, তিনজন নারীর লাশ উদ্ধারের পরও এক শিশুকে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। যদি অভিজ্ঞ জনবল থাকতো তাহলে সাথে সাথে ডুবুরি দল পানি নামতে পারলে হয়তো আরও কয়েকজনকে বাঁচানো যেতো।

রাঙামাটি পৌর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার জানান, রাঙামাটিতে বিভিন্ন সময় যেমন পর্যটকদের নৌ-দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর শোনা যায়, তেমনি স্থানীয়দের কাপ্তাই ্রহদে ডুবে প্রাণ হানির ঘটনা শোনা যায়। কিন্তু রাঙামাটিতে স্থায়ীভাবে ফায়ার স্টেশনগুলোতে ডুবুরি নেই। যদি নৌ-দুর্ঘটনার সাথে সাথে অভিজ্ঞ ডুবুরি দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা যেতো তাহলে হতাহতের সংখ্যা কমানো যেত। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের আশপাশের সবগুলো উপজেলার ফায়ার স্টেশনগুলোতে ডুবুরি পদ সৃষ্টি ও ডুবুরি পোস্টিং দেয়া এখন সময়ের দাবি।

রাঙামাটির ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ জানান, রাঙামাটি সদর ফায়ার স্টেশনে আমাদের কোনো ডুবুরি পদ নেই। জেলার শুধু লংগদুরে ৪জন ডুবুরি পদ আছে, সেখানে একজনকে পোস্টিং দেয়া হলেও তিনি প্রশিক্ষণে আছেন। রাঙামাটিতে নৌ-ফায়ার স্টেশন হলে সেখানে ডুবুরির পদ থাকতে পারে।

গত শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক জুরুরি সভায় জানিয়েছেন, রাঙামাটি ফায়ার স্টেশনে প্রশিক্ষিত ডুবুরির ব্যবস্থা করা জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করবেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে পুলিশের ত্রাণ সহায়তা

মহামারী করোনাভাইরাস ( কভিট-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের লক্ষে রাঙামাটির কাপ্তাই থানা পুলিশ প্রতিনিয়ত …

Leave a Reply