নীড় পাতা » ছবি » ঠেগামুখে আশার আলো

ঠেগামুখে আশার আলো

Untitled-2 copyদীর্ঘদিনের নানান জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী বরকল উপজেলার ঠেগামুখে স্থলবন্দর স্থাপনের কার্যক্রম আবারো কিছুটা গতি পেয়েছে। ভারতীয়দের আগ্রহ হঠাৎ কমে যাওয়াসহ নানান কারিগরি জটিলতা এবং বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তাসহ নানা ইস্যুতে মতৈক্য না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিলো প্রস্তাবিত এই স্থল বন্দরটির কার্যক্রম। বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,নৌপরিবহন মন্ত্রী,পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী,বিজিবি’র মহাপরিচালকসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই বন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এলাকাটি সফর করলেও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি না হওয়ায় স্থলবন্দরটি আর হচ্ছেনা বলেই যখন মনে হচ্ছিলো,ঠিক সেই সময় বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল এক সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে এসে প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান ঠেগামুখসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের সাথে দীর্ঘ আলাপ আলোচনা,পরিকল্পনা,প্রস্তাবনা,সম্ভাব্যতা যাচাইসহ নানান কার্যক্রম করায় ঠেগামুখ স্থল বন্দর নিয়ে আবার আশার আলো দেখা দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলটি সফরের শুরুতেই ঠেগামুখ সফর করে। এরপর তারা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ,পরিকল্পনা কমিশন,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ,বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ,বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ,বিআইডাব্লিউটিসি,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাথে পৃথক পৃথকভাবে একাধিক বৈঠকে মিলিত হয়। ওইসব বৈঠকে প্রকল্পের ডিটেইল প্ল্যান সম্পর্কে ধারণা নিয়ে যায় বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলটি। এসব বৈঠকে নানান আলোচনা,পর্যালোচনার পর স্থলবন্দর নির্মাণে বিনিয়োগে প্রাথমিকভাবে নিজেদের আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক,এমন তথ্য জানিয়েছে বৈঠকসূত্রগুলো।Untitled-1 copy

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে,বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলটি প্রকল্পটিকে আর্থিক ও ব্যবহারিকভাবে আরো বেশি কার্যকর করার জন্য ‘চট্টগ্রাম-কাপ্তাই-বিলাইছড়ি-জুড়াছড়ি-আইমাছড়ি-ঠেগামুখ’ সড়ক প্রকল্পটির উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কারণ সরাসরি এই সড়কটি নির্মিত হলেই কেবল ঠেগামুখ স্থলবন্দরটিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সংযুক্ত করে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঠেগামুখ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হতে প্রায় ৮/১০ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একইভাবে রাঙামাটি থেকে ছোটহরিণা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিং করার পরিকল্পনাও আছে প্রকল্পে। পুরো প্রকল্পে চট্টগ্রামে একটি পৃথক কন্টেইনার টার্মিনাল স্থাপন,ঠেগামুখ সংলগ্ন বর্ডারপোস্টগুলোর উন্নয়নসহ আরো বেশকিছু কাজও আছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।2

ভারতীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহের কথা জানালেও কিছুদিন ধরে তারা এই প্রকল্পের ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করায় স্থবির হয়েছিলো প্রকল্পের কাজ। ফলে বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কাজ এগুচ্ছিলোনা। সম্প্রতি ভারত সরকার আবারো এই প্রকল্পের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠলে বাংলাদেশ সরকারও নড়েচড়ে বসে। আর তাই ভারতীয় আগ্রহের সাথে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন সংযুক্ত হলে প্রকল্পটি শীঘ্রই আলোর মুখ দেখতে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বব্যাংকের মিশনসূত্র জানিয়েছে,এই স্থলবন্দরটি ব্যবহার করে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশও উপকৃত হবে। কারণ সফরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে তারা জেনেছেন,এই সীমান্ত দিয়ে কেবল ভারতীয় পণ্য আসে তাই নয়,বাংলাদেশ থেকেও প্লাস্টিক ও মেলামাইন সামগ্রী,নানান ধরণের পণ্য মিজোরামে যায় এবং সেখানেও এইসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছেন,বর্তমানে প্রতিদিন ৩ টি লঞ্চ বরকল বা ছোটহরিণা পর্যন্ত যায়,তাও বছরে শুষ্ক মৌসুমের ৭/৮ মাস। কিন্তু ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথ ড্রেজিং করা হলে সারাবছরই নৌপথটি সচল থাকবে।

বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলটি বর্তমানে ঠেগা স্থল বন্দর নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। রাঙামাটি সফর শেষে তারা ঢাকা এবং চট্টগ্রামেও বিভিন্ন দায়িত্বশীল ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করেছেন। সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটিতে রয়েছেন জেলফি পালসন,এডওয়ার্ড টি লেইং, ফারুক চৌধুরী,মাসুদ করিম,ইকবাল আহম্মেদ,মোঃ আখতারুজ্জামান এবং সুরেন্দ্র জি জোসি।01

Micro Web Technology

আরো দেখুন

তিল চাষে রাঙামাটির বাসুদেব চাকমার সাফল্য

রাঙামাটির সদর উপজেলার রাঙামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়কের জীবতলী ইউনিয়নের আগরবাগান এলাকার পাহাড়ি জমি জুড়ে তিল চাষ …

Leave a Reply