নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ঠিকানা পেলো পাগলীর সন্তান

ঠিকানা পেলো পাগলীর সন্তান

pagliiপ্রায় তিন সপ্তাহ পূর্বে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে এক পাগলীর গর্ভ থেকে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। পাগলীর সন্তান প্রসব, এমন খবরে গোটা শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পাওয়া যায়নি ওই সন্তানের পিতৃ পরিচয়। তাই ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই স্বেচ্ছায় দাই মা হিসেবে ওই নবজাতকের দেখভাল আর সেবার দায়িত্ব নেন খাগড়াছড়ি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও জেলা শহরের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহেরা বেগম। তবে পাগলীর গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই ওই সন্তানকে দত্তক নিতে দাই মা জাহেরা বেগমের কাছে আরজি নিয়ে আসেন অনেক সন্তানহীন দম্পতি।

তেমনই এক সন্তানহীন দম্পতি মো. বাবুল ও রাবিয়া বেগম। জেলার গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের পথাছড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা তারা। বাবুল পেশায় ‘স’ মিল শ্রমিক। ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনে নিঃসন্তান তারা। তাই মনের আক্ষেপ গোছাতে এবং শূন্য কোল পূরণ করার আকুতি জানিয়ে হাত পাতেন দাই মা জাহেরা বেগমের কাছে। পরে দাই মা বিষয়টি পৌর মেয়র রফিকুল আলমকে জানালে তিনি পুলিশ সুপার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সন্তানটিকে তাদের কোলে তুলে দিতে সম্মত হন। এরই প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে হলফনামার শর্ত সাপেক্ষে বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ি পৌরসভায় পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী, পৌর মেয়র রফিকুল আলম, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহ-আলম, দাই মা জাহেরা বেগম ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ওই দম্পতির কোলে শিশুটিকে তুলে দেয়া হয়।

এদিকে সন্তান কোলে তুলে আনন্দে আত্মহারা নতুন মা রাবিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ওকে আমি আমার সন্তান হিসেবেই মানুষ করবো। ওর লালন-পালন, ভরণ-পোষণ, লেখাপড়াসহ যাবতীয় সবকিছুই এখন আমাদের।

বাবা মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘শিশুটি আমাদের পরিচয়ে বড় হবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওয়ারিশ হিসেবে গণ্য হবে।’ দাই মা জাহেরা বেগম বলেন, ‘শিশুটি বাবা-মায়ের পরিচয় পেয়েছে এটা ভেবেই অনেক ভালো লাগছে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হলেন দীপংকর তালুকদার

বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী …

Leave a Reply