নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » টেকনোক্রেট কোটায় দীপংকর !

টেকনোক্রেট কোটায় দীপংকর !

Dipankar-1রাঙামাটির আওয়ামী রাজনীতির ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অপরিহার্য’ নেতা তিনি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী,বর্তমান সর্বদলীয় সরকারেও একই দায়িত্ব পালন করা দীপংকর তালুকদার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পরাজিত হলেও পিছিয়ে নেই মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে। টেকনোক্রেট কোটায় তাকে পার্বত্য মন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার জন্য জোর চেষ্টা ও তদবির অব্যাহত আছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি উষাতন তালুকদারের কাছে ১৮,৮৫২ বোটে পরাজিত হলেও বর্তমান দায়িত্বে টিকে থাকার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

নির্বাচনের দুদিন পরই জেলা,উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের দায়িত্বশীল ৪০ জন নেতা রাঙামাটি থেকে বাসে চট্টগ্রাম,এবং চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ঢাকায় যান প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে। সেখানে তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্নস্তরের নেতাদের সাথে বৈঠক,আলোচনা ও চেষ্টা তদ্বির অব্যাহত রেখেছেন। সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,ওবায়দুল কাদের,এইচটি ইমামসহ দলের নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনাও করেছেন তারা। এখনো ঢাকায় অবস্থান করছেন তারা।

সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি রাত ৯ টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও বর্তমান কমিটির সাধারন সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মুছা মাতব্বর। তারা প্রধানমন্ত্রীকে পার্বত্য রাজনীতির সর্বশেষ বাস্তবতা তুলে ধরেন এবং দীপংকর তালুকদারকে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে খেয়াল রাখা ও পার্বত্যবাসির জন্য যেটা ভালো হবে,সেটাই করবেন বলে আশ্বস্ত করেন বলে জানিয়েছে বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুই শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার বৈঠকের সময় অন্যান্য নেতারা গণভবনের বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় যাওয়া একাধিক নেতা।

এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের দুইদিন পর ঢাকায় চলে যাওয়া সর্বদলীয় সরকারের পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারও ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা তব্দির অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠসূত্রগুলো। তিনি দলীয় ফোরামে তার পরাজয়ের জন্য আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র রাজনীতি ও চক্রান্তকে দায়ী করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

Dipankar09
প্রসঙ্গত,১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন দীপংকর তালুকদার,সেবার আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। ১৯৯৬ সালেও বিজয়ী হন তিনি,সেবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের দায়িত্ব পান দীপংকর। তখন নবগঠিত পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হন খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা। ২০০১ সালে দীপংকর পরাজিত হলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। ফলে তার দল সরকার গঠন করলেও বিপাকে পড়ে গেছেন দীপংকর। আপাততঃ টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পাওয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই তার সামনে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স’র চেয়ারম্যানও হতে পারেন তিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ও সর্বদলীয় সরকারে দুইবার পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালণ করা দীপংকর তালুকদার শেষ পর্যন্ত উন্নয়ন বোর্ড বা টাস্কফোর্সের দায়িত্ব নেন কিনা সেটাও একটি বড় প্রশ্ন। ধারণা করা হচ্ছে,টেকনোক্রেট কোটায় তাকে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবেই হয়তো বহাল রাখা হবে,দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের মাধ্যমে তিনি সেই চেষ্টাই করছেন।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মুছা মাতব্বর বলেছেন,-‘আমরা দাদা’কে (দীপংকর তালুকদার) মন্ত্রীসভায় চাই,সেই কথা আমরা প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাও বলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই আমাদের নেতাকর্মীদের অনুভূতি বিবেচনা করবেন।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে মাছের পোনা অবমুক্ত

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন ও বংশবৃদ্ধির লক্ষে লংগদুতে পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। …

Leave a Reply