নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » টিনটিন ও রিকি অপহরণের আদ্যপান্ত

টিনটিন ও রিকি অপহরণের আদ্যপান্ত

tintin-coverপ্রভাবশালী পরিবারের সন্তান ও মেয়েজামাই হওয়ায় আইনশৃংলা বাহিনীর জোর তৎপরতা,প্রবল চাপ আর সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযানের কারণে অপহরণের ৫ দিনের মাথায় মায়ের কোলে ফিরে এলেন সঙ্গীতশিল্পী সৌরভ চাকমা টিনটিন ও তার জুনিয়র বন্ধু নবজিৎ চাকমা রিকি। শনিবার দুপুরে নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোস্তফা কামাল তাদের নিয়ে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আসেন,সেখানে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে ফিরে যান তারা।

এর আগে শুক্রবার রাত এগারোটায় নানিয়ারচর উপজেলার মেজরপাড়া বৌদ্ধ বিহার এলাকা থেকে উদ্ধারের পর তাদের খাগড়াছড়ি ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সকাল এগারোটায় সেখানে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে আনা হলে তারা অপহরণের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানেন না জানিয়েছেন।

যেভাবে অপহরণ : ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন খাগড়াছড়ি থেকে অটোরিক্সা যোগে রাঙামাটি আসার পথে পথিমধ্যে মহালছড়ি ও নানিয়াচর উপজেলাধীণ কেঙ্গেলছড়ি এলাকায় তাদের অটোরিক্সার গতিরোধ করে একদল সশস্ত্র পাহাড়ী যুবক। তারা টিনটিন ও রিকিকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু অপহরণের পর চারদিনেও অপহৃতদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি গণমাধ্যমে। অপহৃতদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। তবে উদ্ধারের দিন বিকেলেই হঠাৎ সক্রিয় উঠে গণমাধ্যম আর ৫ দিন আগে অপহৃত ঘটনাটি হয়ে উঠে ‘টক অফ দ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম’ আর মিডিয়ার আলোচিত সংবাদে। sourov-ricky

১৫ এপ্রিল মামলা : অপহরণের পরদিন নানিয়ারচর থানায় অটোরিক্সা চালক উদয়ন চাকমা ও খাগড়াছড়িতে অটোরিক্সা ঠিক কওে দেয়া রূপেন্দু চাকমাকে আসামী করে নানিয়ারচর থানায় মামলা করেন অপহৃত সৌরভ চাকমার বড় ভাই,সাবেক জাতীয় ফুটবলার কিংশুক চাকমা। মামলায় তিনি অপহরণ ঘটনার সাথে উক্ত দুই আসামীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনেন।

গ্রেফতার ৪ : কিংশুক চাকমার দায়ের করা মামলা প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অটোরিক্সা চালক উদয়ন চাকমাকে আটক করে এবং রূপেন্দু চাকমাকে না পেয়ে তার পিতা সুধাসিন্ধু চাকমাকে আটক করে। তাদের সাথে কথোপকথনের ভিত্তিতে অসীম চাকমা নামের একজন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ও কিংশুক চাকমার বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা জনৈক মনিত্রা চাকমাকে গ্রেফতার করা হয়। এদের প্রত্যেককে সুর্নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) হাবিবুর রহমান বলেন, এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেছে,যা উদ্ধার অভিযানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। আটককৃত চারজনই পুলিশ হেফাজতে আছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন,এদের আদালতে হাজির করা হবে।

অপহৃতরা কারা ? : পার্বত্য চট্টগ্রামে অপহরণ নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা হলেও, এই প্রথম কোন অভিজাত ও প্রভাবশালী পাহাড়ী পরিবারের কেউ ঈধহৃত হলেন। অপহরণেল শিকার সৌরভ চাকমার পিতা পিডিবির চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাবেক প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী,শ্বশুর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুষার কান্তি চাকমা,চাচা ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ-এর ডেপুটি ডিরেক্টর প্রসেনজিৎ চাকমা, বড় ভাই সাবেক জাতীয় ফুটবলার কিংশুক চাকমা এবং পরিবারের প্রায় সবাই সমাজের প্রভাবশালী মানুষ। আর নবজিত চাকমা রিকি তারই ঘনিষ্ঠ জুনিয়র বন্ধু। ফলে হাই প্রোফাইল ফ্যামিলির দুই তরুণ অপহৃত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই জোর আলোচনা শুরু হয় সর্বত্র। sourov-chakma

মুক্তির নেপথ্যে সেনাবাহিনী : উদ্বার অভিযানে অংশ নেয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেনা কর্মকর্তা দীর্ঘ অভিযানের বর্ণনা দিয়ে জানান, অপহরণ খবরের পরপরই সেনাবাহিনীর অন্তত ২০/২৫টি টহলদল গোটা এলাকায় অবস্থান গ্রহন করে। খাগড়াছড়ির মুবাছড়ি, সিন্ধুকছড়ি, ধুমরিঘাট এবং নানিয়ারচরের বেশ কয়েকটি এলাকায় অপারেশন চালানো হয়। এতে মুলত: মহালছড়ি জোনের সদস্যরা মূল দায়িত্ব পালন করলেও খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির ৩টি রিজিয়ন সমন্বিতভাবে কাজ করে।
ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের পরিবারের সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করাসহ কিছু কৌশলগত ব্যবস্থা নেয়ার ফলে অপহরণকারীরা সংকটে পড়ে যায়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারের মাধ্যমে টহল দিলে তারা আরো বেশি চাপে পড়ে সোর্স মারফত সেনাবাহিনীর কর্ডন শিথিল করার প্রস্তাব পাঠায়। উদ্ধারের ১২ ঘন্টা পূর্বেই তারা ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। অবশ্য উর্ধতন সেনা কর্মকর্তারা অভিযান বা কর্ডন শিথিল করার বিষয়টি সম্পূর্ন নাকচ করে দিলে অবশেষে অপহরণকারীরা শুক্রবার রাতে অপহৃতদের ছেড়ে দিয়েই গা ঢাকা দেয়। বিশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার রাত ১১ বাজার আগ মুহুর্তে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব সদস্যরা মেজরপাড়া বৌদ্ধবিহার এলাকা হতে দু‘জনকে উদ্বার করে। Ricky-pic-02

কারা অপহরণকারি ! : টিনটিন এবং রিকি’র অপহরণ ঘটনায় সবচে আশ্চর্য্যজনক বিষয় হলো যে, পাহাড়ে আর আট দশটি অপহরণ ঘটনার মতো এই ঘটনায় কোন পক্ষের জড়িত থাকার সুস্পষ্ট কোন অভিযোগ আসেনি কোন তরফ থেকেই। অপহরণস্থলটি ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা হলেও কেউ কেউ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)কে দায়ী করলেও,দায়ী করা হয়নি ইউপিডিএফকে। এমনকি জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)ও বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তোলেনি কেউ। আর পারিবারিকভাবে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির প্রতি দুবর্লতা আছে সৌরভ চাকমাদের পরিবারের,তাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসারও প্রশ্নই আসেনা। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, অপহরণকারিরা তাহলে কে ? নানাভাবে জানার চেষ্টা করেও এই ব্যাপারে মুখ খোলেনি অপহৃতদের পরিবার,স্বজন এমনকি আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীও।

মুক্তিপণ, টাকায় নয়-ডলারে ! : এই অপহরণ ঘটনার সবচে আশ্চর্য্যজনক দিক হলো এই প্রথম পার্বত্য এলাকায় কোন অপহরণ ঘটনার পর মুক্তিপন হিসেবে নগদ টাকা নয়, বিদেশী মুদ্রায় পণ চাওয়া হয়েছে ! যার পরিমাণ ২ লক্ষ ডলার,টাকার অংকে যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা । টাকার বদলে ডলারে মুক্তিপণ চাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। বাংলাদেশে বৈদিশিক মুদ্রার ব্যাপক প্রচলন না থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য এলাকার মতো দুর্গম একটি এলাকায় অপহরণকারিরা কেনো বিদেশী মুদ্রায় মুক্তিপণ চাইবে তা নিয়ে সন্দেহ,অবিশ্বাস ও বিস্ময় দেখা দেয় সর্বত্র। আবার মুক্তিপণের বিষয়টি বিভিন্নভাবে আলোচনায় আসলেও পরিবার কিংবা নিরাপত্তাবাহিনী কোন সূত্রই বিষয়টি স্বীকার করেনি। আর অপহরণের যবনিকাপাতেও মুক্তিপণের আদৌ কোন ভূমিকা আছে কিনা সেই সম্পর্কেও নিশ্চিত করেনি কোন সূত্রই। khagrachari-Pic-edit

অপহরণের মূল উদ্দেশ্য ‘মুক্তিপণ’ ! দায়িত্বশীল একজন সেনা কর্মকর্তা বলেন, মুক্তিপণ চাওয়াটাই ছিল অপহরণের মুল উদ্দেশ্য। কিন্তু অপহরণকারীরা টার্গেটে ভুল করেছে,তাই শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণ ছাড়াই ছাড়তে বাধ্য হয়। মুক্তিপণ দেয়া হয়েছে বলে যে গুজব উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবী করেন তিনি। তিনি জানান, যতটুকু তথ্য আছে তাতে মনে হয়, এই অপহরণের সাথে জনসংহতি সমিতির সংস্কারপন্থীরাই জড়িত থাকতে পারে। তবে, অস্ত্র ক্রয়সহ অর্থ মজুদের উদ্দেশ্যে জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ উঠে পড়ে লেগেছে। তাই অপহরণের বড় ধরনের টার্গেটের অংশ হিসেবে এ দু‘জনকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে,অপহরণকারিদের টার্গেট ছিলো টিনটিন’র চাচা ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ এর ডেপুটি ডিরেক্টর প্রসেনজিৎ চাকমা। ধর্নাঢ্য এই ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করাই ছিলো তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। এছাড়া টিনটিন’র বাবাও সাবেক সরকারি চাকুরিজীবি হলেও বিশাল ধন সম্পদের মালিক,রাঙামাটি শহরে তার একাধিক বিশাল বাড়ী আর জায়গা সম্পত্তির মালিকানার বিষয়টিও ওপেন সিক্রেট। ফলে মূলত: বড় অংকের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই অপহরণ ঘটনা। তবে অপহরণকারিরা হিসেবে একটি ‘ছোট্ট ভুল’ করে বসে। কারণ তাদের হয়তো জানা ছিলোনা,পিতা বা চাচা ধর্নাঢ্য ব্যক্তি হলেও, টিনটিন শ্বশুড় একজন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা ! এই ‘ছোট্ট ভুল’ই তাদের বড় অংকের টাকা আদায়ের বিশাল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দেয়।

আঞ্চলিক দলগুলোর নানা ‘ধোঁয়াশা’ :  হেভিওয়েট এই অপহরণ ঘটনা নিয়ে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ইউপিডিএফ এর মুখপাত্র ও গনতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি মাইকেল চাকমা বলেন, এই ঘটনাটির এখন পর্যন্ত সামগ্রিক যে চিত্র আমরা দেখছি,তাতে একে অপহরণ ঘটনাই মনে হচ্ছেনা। এই ঘটনার অনেক কিছুই এখনো অস্পষ্ট। আমরা পরিস্থতি পর্যবেক্ষন করছি। তবে আমাদের মনে হয়, পাহাড়ে র‌্যাব মোতায়েনের বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য এটা একটি ‘নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে’ মাত্র।

জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের সংগঠন কখনই কোন অপহরণ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো বা আছে, এমন কোন নজির নেই। অনেকেই বিরোধীতার খাতিরে হয়তো আমাদের নাম জড়ায় কিন্তু তা নিতান্তই ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই। এই অপহরণ ঘটনাটিও অস্পষ্ট,অনেক বিষয় বেশ জটিল,আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছি,পরে আমরা আমাদের মতামত জানাতে পারবো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, শুধু এই ঘটনাই নয়, সব শ্রেণী পেশার মানুষই অপহরণকারিদের কারণে বিপন্ন বোধ করছে,চাঁদা আদায়,নৈরাজ্য সৃষ্টি আর বিশৃংখলা তৈরির জন্য এইসব কাজ করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন,পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সঠিক প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস হলে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব ।

যা বলছেন টিনটিন ও রিকি : অপহরণের পর ফিরে আসা টিনটিন ও রিকি গণমাধ্যম ও আইনশৃংখলারক্ষা বাহিনীর কাছে জানিয়েছেন,তাদের কারা, কি কারণে অপহরণ করেছে তা বুঝতে পারছেন না তারা। তবে অপহৃত থাকা অবস্থায় তাদের সাথে কোন খারাপ আচরণ করা হয়নি বলেও জানান দুজনই। তারা আরো জানান, অপহরনকারীরা প্রত্যেকেই অস্ত্রধারী ছিল,ওই ক‘দিনে তাদেরকে একাধিক জায়গায় স্থানান্তর করা হলেও নির্যাতন করা হয়নি। তবে মাথার ওপর দিয়ে হেলিকপ্টার উড়লেই ভয় লাগতো, কোন অঘটন ঘটে কিনা। কিন্তু হেলিকপ্টার টহলেই অপহরণকারীরা সবচেয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয় বলে মনে হয়েছে তাদের। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কিছু কিছু জায়গায় তাদের চোখ বেঁধে রাখা হত। মাঝে মাঝে হাতও বেঁধে রাখতো তারা। তারা উদ্ধার হওয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী, র‌্যাবসহ আইন শৃংখলাবাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মূলত: সেনা-র‌্যাবের অভিযানের মুখেই দুর্বৃত্তরা তাদেরকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলেও জানান টিনটিন ও রিকি।

আইনশৃংখলা বাহিনী যা বলছে : রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, অপহৃতদের সাথে আমি কথা বলেছি,তারা জানিয়েছেন,তাদের উপর কোন নির্যাতন বা খারাপ আচরণ করা হয়নি। খুউব ভালো আচরণ করেছে এবং কোন মোটিভ ছিলো বলে মনে হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। তবে তাদের সাথে কথা বলে পাওয়া তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন,অপহরণ ঘটনার পর যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সেই মামলাটি চলবে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হবে। তিনি জানা,অপহরণ ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে যাদের আটক করা হয়েছে,তাদের মধ্যে যারা দোষী তাদের আদালতের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে সেনাবাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পাহাড়ে একের পর এক অপহরণ ঘটনা বেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে সেনাবাহিনী কাজ করছে এবং পাহাড়ে রাষ্ট্রবিরোধী,জনস্বার্থবিরোধী যেকোন তৎপরতা রুখে দিতে সেনাবাহিনী সচেষ্ট আছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply