নীড় পাতা » ব্রেকিং » ঝুলে আছে বাঘাইছড়ি ফায়ার স্টেশন প্রকল্প

ঝুলে আছে বাঘাইছড়ি ফায়ার স্টেশন প্রকল্প

আগুনে পুড়ছে বাঘাইছড়ির একটি বাজার

ভাগ্যধন চাকমা। বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৫নং বঙ্গলতলী ইউনিয়নে জ্যোতিময় কারবারি পাড়ার বাসিন্দা। ২৯ মে দুপুরে ২৭ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা থেকে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাঁর বসতঘর। ভাগ্যবান চাকমার মতো বাঘাইছড়ি পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে আগুনে শতশত দোকান বসতঘর সরকারি অফিস পুড়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হলেও উপজেলাটিতে এখনো স্থাপন হয়নি ফায়ার স্টেশন।

এলাকাবাসীর দাবির মুখে পৌর এলাকার হাজীপাড়া এলাকায় ফায়ার স্টেশনের জন্য ৩৩ শতক জায়গা অধিগ্রহণ করা হলেও ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ এখনো ফাইলবন্ধি। বিভিন্ন সূত্র থেকে গণপূর্ত বিভাগকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলা হলেও, গণপূর্ত বিভাগ বলছে, এখনো তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয়নি! যেগুলো প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত করে জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে সেগুলোর কাজ চলমান আছে। ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দীর্ঘসূত্রিতায় বিভিন্ন সময়ে আগুনে ভূস্মিভূত হয়ে ক্ষতির পরিমান বাড়ছে দিনদিন।

১ হাজার ৯৩১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলাটিতে বসবাস করা লক্ষাধিক লোক প্রায়শই ফায়ার স্টেশনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আগুনের সূত্রপাতের খবরশুনে। গত ২৪ মে বাঘাইছড়ির খেদারমারা ইউনিয়নের দূরছড়ি বাজারে ঘন্টাখানের আগুনে ১২ দোকানসহ ২১টি পরিবার কোটি টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এলাকাবাসী ও সেনাবাহিনীর আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতায় সে সময় আশপাশের দোকানিদের সহায় হয়েছিল ।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প কার্যালয় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির অসংখ্যা নথি পুড়ে যায়। তখন দীঘিনালা থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে ঘন্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলাটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটলে তা নেভাতে কাজ করতে হয় এলাকাবাসী, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা ফায়ার স্টেশনের সাথে বাঘাইছড়ির সড়ক পথে মাত্র ২৭কিলোমিটার দূরত্ব হলেও সড়কের বেহাল দশায় সে ফায়ার সার্ভিস টিম এসে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় একঘন্টা। যার কারণে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভালেও তখন আর আগুনের হাত থেকে কিছু বাঁচানোর থাকে না।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান চলমান প্রকল্পের মেয়াদ শেষের দিকে থাকায় এই প্রকল্পে আর ফায়ার স্টেশন স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সামনে নতুন প্রকল্পে এই সংযুক্ত করা হবে। বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী খান জানান, ফায়ার স্টেশন না থাকায় প্রায়শই আগুনে লাখ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যায় পৌর ও উপজেলাবাসীর। নানা সভা সেমিনারে বলে এই ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও দীর্ঘদিন পর ৩৩শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে স্টেশন স্থাপনের কাজ এখনো ফাইলবন্দি।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসন জায়গা অধিগ্রহণ করে দিয়েছে। স্টেশন স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করবে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। তাদের বলা হয়েছে স্টেশন স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিতে। তারা জানিয়েছে বর্তমানে চলমান প্রকল্পে নয় সামনে নতুন প্রকল্পে এটি করা হবে।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের পক্ষ থেকে জায়গা দিয়েছি। প্রকল্পটি কি অবস্থায় আছে তা গণপূর্ত বিভাগ বলতে পারবে।

তবে গণপূর্ত বিভাগের রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী অনিন্দ্য কৌশল জানান, সারাদেশে ফায়ার সার্ভিসের ১৫৬টি স্টেশনের কাজ চলমান আছে। যার মধ্যে রাঙামাটির রাজস্থলী ও লংগদু উপজেলার কাজও চলমান আছে যেগুলো কাজ প্রায় শেষের দিকে। বাঘাইছড়িতে ফায়ার স্টেশন এই প্রকল্পের আওতায় নেই। সেটির জমি গণপূর্ত বিভাগকে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে দুর্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

রাঙামাটির লংগদুতে উপজেলা পর্যায়ে ‘দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি)-২০১৯’ অবহিতকরণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার লংগদু …

Leave a Reply