নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » ঝগড়া করেছে আ’লীগ-বিএনপি, নীরব ভোট বিপ্লব জেএসএস’র

ঝগড়া করেছে আ’লীগ-বিএনপি, নীরব ভোট বিপ্লব জেএসএস’র

Ranga-sadarভোটের দিন সারাদিনই শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া করেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীরা। আর নীরবে ভোট পড়েছে জেএসএস সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে। সোমবার রাঙামটি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এভাবে পরাজয় ও জয়ের ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেছে প্রার্থী ও সমর্থকরা। সারাদিনই আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা কেন্দ্র দখল নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে জেএসএসের কর্মীদের কৌশলে সাধারণ পাহাড়িরা নীরবে ভোট দিয়ে গেছেন। এসব কেন্দ্রগুলো থেকে কোনো গোলযোগের অভিযোগও পাওয়া যায়নি। একদিকে জাতীয় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি অন্যদিকে ভোট সংগ্রহে ব্যস্ত জেএসএস শেষ পর্যন্ত পুরো প্যানেলেই জয়ের হাসি হেসেছেন। সকাল থেকেই পাহাড়ি অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে ভোটের লাইন দেখা গেলেও বাঙালি অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিলো একেবারেই কম।

রাঙামাটির সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী জেএসএসের অরুণ কান্তি চাকমা, বিএনপির মাহবুবুল বাসেত অপু ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাকির হোসাইন সেলিম অংশ নেয়। নির্বাচনের পূর্ব থেকে ৩৬ কেন্দ্রের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৯, বিএনপি ১৬ ও জেএসএস ৯টি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। এসব অভিযোগের বিপরীতে দেখা যায় যেসব কেন্দ্রগুলোতে যে দলের প্রভাব নেই সেই কেন্দ্রগুলোই প্রার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ করেছেন। সে হিসেবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেসব কেন্দ্রগুলোতে কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া না গেলেও যেসব কেন্দ্রগুলো নিয়ে তাঁরা অভিযোগ জানাননি বরঞ্চ সেসব কেন্দ্রগুলোতেই সহিংসতা ঘটেছে।
জেএসএসের কঠোর নির্দেশের কারণে সাধারণ পাহাড়ি ভোটাররা যেমন জেএসএস সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেয়নি তেমনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরাও নির্ভর করেছেন বাঙালি ভোটারদের দিকে। সে হিসেবে নির্বাচনটিও এক হিসেবে পাহাড়ি-বাঙালি ভোটের সমীকরণ কষতে শুরু হয়।

পাহাড়ি ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অতীতে পাহাড়িরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থী দিতে না পারায় পাহাড়ি জনপ্রতিনিধি তেমন পাওয়া যেতো না। কিন্তু এবার পাহাড়িরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় বিশেষ করে পাহাড়িদের সংগঠন জেএসএস থেকে প্রার্থী নির্বাচিত করায় একক প্রার্থী হিসেবে জেএসএস প্যানেল জয়ী হয়েছেন। জেএসএসের কঠোর নির্দেশনা থাকায় কেউ দ্বিতীয় প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ পাননি। তার উপর ইউপিডিএফও নীরবে ভোট দিয়েছে অরুনকেই।

বাঙালি ভোটারদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, পাহাড়িরা একত্রিত হয়ে প্রার্থী দিতে পারলেও জাতীয় দুই দলের নেতৃবৃন্দ জেএসএস ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা এখন বাঙালি ভোটের ওপর নির্ভরশীল। তাই দুই দলের ভোট কাটাকাটি ও মারামারিতে দুই দলেরই পরাজয় ঘটেছে।

আওয়ামী লীগ সোমবার বিকেলেই পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়নগুলোতে সশস্ত্র সন্ত্রাসের মাধ্যমে সাধারণ পাহাড়িদের জিম্মি করে ভোট আদায় করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে তাঁদের এজেন্ট পর্যন্ত দিতে দেয়নি বলে তাঁরা অভিযোগ করে। পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান তারা ।

অন্যদিকে বিএনপি সোমবার রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে ২৬টি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তারাও পাহাড়ী এলাকার কেন্দ্রগুলোতে জনসংহতির অস্ত্রের মুখে ভোট নিয়ন্ত্রনের অভিযোগ করেছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

২ comments

  1. CHADABAZ APOHORKARI SOSOSHTRO SONTRASIRA JONOGONER VOTER ODHIKAR KERE NIECHE OSTRO DIE JAAL VOTER MADDHOME NIROB PROSASON SANGBADIKRA MUKHE CHONU DIE ACHE

  2. JONOGON BALER VOTE DICHE VOTE JONOGON DICHE NAKI SOSOSHTRO SONTRASIRA KENDRO DOKHOL KORE VOTE NIECHE SANGBADIK PROSASON SOBAI JANE

Leave a Reply

%d bloggers like this: