নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » ‘জোর জবরদস্তি’ করে আইসোলেশনে আনা হল ৩ করোনা রোগীকে !

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে

‘জোর জবরদস্তি’ করে আইসোলেশনে আনা হল ৩ করোনা রোগীকে !

এই যেন ‘মশা মারতে কামান ব্যবহার’ এর মতো ঘটনা। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার স্বার্থে নিজ থেকেই হাসপাতালে আসবেন থাক দূরের কথা উল্টো জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অনেকটা জোর জবরদস্তি করেই তাদের আইসোলেশনে আনতে হল।

শুক্রবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কম্বনিয়া গ্রামের ঘটনা এটি। এ পর্যন্ত গ্রামটিতে শিশু, নারী পুরুষসহ মোট চার জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই সম্পর্কে আত্মীয়-স্বজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কম্বনিয়া গ্রামের তিন বাসিন্দার শরীরে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। নিজ পরিবার, গ্রামের নিরাপত্তা ও আক্রান্তদের চিকিৎসার স্বার্থে পরের দিন এই তিনজনকে আইসোলেশনে আনতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি করে গৃহকর্তা।

স্থানীয়া জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত তিনজনকে হাসপাতালে নিতে বাঁধা সৃষ্টি করার পাশাপাশি পুরো গ্রামের মানুষকে সিনক্রিয়েট করে উত্তেজনা তৈরি করেন গৃহকর্তা জামাল হোসেন। যদিওবা পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর অনেকটা জবরদস্তি করেই আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে মানুষ জমায়েত হওয়ার সুযোগ পেতো না জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আলী হোসেন জানান, করোনা শনাক্ত হওয়া তিনজনকে শুক্রবার চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য আইসোলেশনে নিতে চাইলে হাসপাতালে যেতে তারা আপত্তি জানান। এসময় নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর্মীদের।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন বলেন, করোনা রোগীকে আইসোলেশনে আনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা পরিস্থিতি হয় কম্বনিয়ায়। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি।

এ প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, প্রথমে তারা হাসপাতালে আসতে চায়নি। পরে সদর ইউপি চেয়ারম্যান গিয়ে তাদের আইসোলেশনে নিয়ে এসেছেন।

এদিকে তিন রোগীকে হাসপাতালে আনার পর সেনাবাহিনীর একটি টিমসহ কম্বনিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রাম পৃথকভাবে পরিদর্শন করেছেন ইউএনও সাদিয়া আফরিন কচি, থানার ওসি মো: আনোয়ার হোসেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবছার। এসময় গ্রামের লোকজনকে পরিবার, সমাজ ও দেশকে করোনা মহামারী থেকে রক্ষার জন্য ‘সামাজিক দূরত্ব’ ও ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে এমএনলারমাপন্থী পিসিপি নেতা খুন

রাঙামাাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহযোগী ছাত্রসংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের …

Leave a Reply